ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা মঙ্গলবার, শহীদ মিনারে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা প্রস্তাবিত বাজেট ‘জীবনবান্ধব’: প্রধানমন্ত্রী চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে খেলাধুলা, মাঠ নিশ্চিতের নির্দেশ কারাগারে অসুস্থ দীপু মনি, ঢামেকে ভর্তি সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর ঢাকা-খুলনা রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাজশাহীতে ছাদ থেকে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু ইবারের বেশি মাতৃত্বকালীন ছুটি নয় কেন, হাইকোর্টের রুল যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড তদন্তের দাবি সংসদে বাজেট পাসের আগে বড় পরিবর্তন, মিলতে পারে করদাতাদের স্বস্তি

প্রস্তাবিত বাজেট ‘জীবনবান্ধব’: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতে কিছুটা স্বস্তি পায়, সেই লক্ষ্যেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “সরকারি দলের সদস্য হিসেবে আমি এই বাজেটের একটি নামকরণ করতে চাই। আর সেটি হচ্ছে—‘জীবনবান্ধব বাজেট’।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের ভালো-মন্দ নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে এখন দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে যাই, তখন অনেক বেশি অতীত নিয়ে কথা বলি। অথচ দেশের প্রত্যেকটি মানুষ চায়, আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।”

সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবতা কঠিন হলেও সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ চিন্তা-ভাবনা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এমন একটি বাজেট দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পান।

বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম না বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বাজেটের আগে-পরে অনেক সময় কারণ ছাড়াই পণ্যের দাম বেড়ে যেত। তবে এবার তেমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।

তিনি জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর থেকে পূর্বনির্ধারিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজনৈতিক সরকার হিসেবে জনগণের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব, তার কিছুটা হলেও আমরা পূরণ করতে পেরেছি। জনগণকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পেরেছি।”

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছিল। দুর্নীতি, লোপাট, অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে অর্থনৈতিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, “হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার, উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতির চাপ—সবকিছু মোকাবিলা করেই অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং ঋণের বোঝাসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে। তবে সংকটকে অজুহাত না বানিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের যাত্রা শুরু হওয়ার পরপরই রমজানসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রস্তাবিত বাজেট ‘জীবনবান্ধব’: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতে কিছুটা স্বস্তি পায়, সেই লক্ষ্যেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “সরকারি দলের সদস্য হিসেবে আমি এই বাজেটের একটি নামকরণ করতে চাই। আর সেটি হচ্ছে—‘জীবনবান্ধব বাজেট’।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের ভালো-মন্দ নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে এখন দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে যাই, তখন অনেক বেশি অতীত নিয়ে কথা বলি। অথচ দেশের প্রত্যেকটি মানুষ চায়, আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।”

সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবতা কঠিন হলেও সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ চিন্তা-ভাবনা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এমন একটি বাজেট দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পান।

বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম না বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বাজেটের আগে-পরে অনেক সময় কারণ ছাড়াই পণ্যের দাম বেড়ে যেত। তবে এবার তেমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।

তিনি জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর থেকে পূর্বনির্ধারিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজনৈতিক সরকার হিসেবে জনগণের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব, তার কিছুটা হলেও আমরা পূরণ করতে পেরেছি। জনগণকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পেরেছি।”

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছিল। দুর্নীতি, লোপাট, অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে অর্থনৈতিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, “হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার, উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতির চাপ—সবকিছু মোকাবিলা করেই অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং ঋণের বোঝাসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে। তবে সংকটকে অজুহাত না বানিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের যাত্রা শুরু হওয়ার পরপরই রমজানসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান।