ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে হেমোরেজিক ডেঙ্গু, ঝুঁকিতে শিশু-বয়স্করা

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর একটি জটিল রূপ হেমোরেজিক ডেঙ্গু রোগীর শরীরে মারাত্মক রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে, যা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষ।

চিকিৎসকদের মতে, হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রোগীর রক্তনালির ক্ষতি হতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় নাক, মাড়ি কিংবা ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণও ঘটতে পারে, যা রোগীকে দ্রুত শকের মধ্যে নিয়ে যেতে পারে।

এবার ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে রক্তক্ষরণের আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (৬ জুন) সকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডাক্তাররা আশঙ্কা করছেন, এবারের ডেঙ্গুর ধরন ভয়াবহ হতে পারে, যার নাম হেমোরেজিক ডেঙ্গু। এতে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই এখন থেকেই সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হবে। অভিযানে যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা স্থানে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর জরিমানা আরোপ করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩টি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ পালন করা গেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন প্রশাসক আব্দুস সালাম।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণ ডেঙ্গুর উপসর্গের পাশাপাশি তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, রক্তবমি, কালো পায়খানা কিংবা নাক-মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া হেমোরেজিক ডেঙ্গুর সতর্ক সংকেত হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাশাপাশি ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ না করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসাই হেমোরেজিক ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে হেমোরেজিক ডেঙ্গু, ঝুঁকিতে শিশু-বয়স্করা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর একটি জটিল রূপ হেমোরেজিক ডেঙ্গু রোগীর শরীরে মারাত্মক রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে, যা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষ।

চিকিৎসকদের মতে, হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রোগীর রক্তনালির ক্ষতি হতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় নাক, মাড়ি কিংবা ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণও ঘটতে পারে, যা রোগীকে দ্রুত শকের মধ্যে নিয়ে যেতে পারে।

এবার ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে রক্তক্ষরণের আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (৬ জুন) সকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডাক্তাররা আশঙ্কা করছেন, এবারের ডেঙ্গুর ধরন ভয়াবহ হতে পারে, যার নাম হেমোরেজিক ডেঙ্গু। এতে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই এখন থেকেই সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হবে। অভিযানে যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা স্থানে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর জরিমানা আরোপ করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩টি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ পালন করা গেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন প্রশাসক আব্দুস সালাম।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণ ডেঙ্গুর উপসর্গের পাশাপাশি তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, রক্তবমি, কালো পায়খানা কিংবা নাক-মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া হেমোরেজিক ডেঙ্গুর সতর্ক সংকেত হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাশাপাশি ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ না করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসাই হেমোরেজিক ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।