ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাসমান ‘শহর’, ৮০ হাজার মানুষ নিয়ে বিশ্বভ্রমণে যাবে এক মাইল দীর্ঘ জাহাজ

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫৭:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমোদতরিগুলোকেও ভবিষ্যতে ছোট মনে হতে পারে। কারণ, ‘ফ্রিডম শিপ’ নামে এক বিশাল ভাসমান শহর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৮০ হাজার মানুষকে নিয়ে সমুদ্রপথে পুরো পৃথিবী ঘুরে বেড়াবে এই জাহাজ।

প্রস্তাবিত ফ্রিডম শিপের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় এক মাইল, প্রস্থ ৮০০ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ৩০ তলা ভবনের সমান। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি পাউন্ড।

জাহাজটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এছাড়া ১০ হাজার ভ্রমণকারী ও দর্শনার্থীর জন্য থাকবে আলাদা ব্যবস্থা। পুরো ভাসমান শহরের কার্যক্রম পরিচালনায় কাজ করবেন প্রায় ২০ হাজার কর্মী।

life style 2

ফ্রিডম শিপে থাকবে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, ব্যাংক, শপিং সেন্টার, রেস্তোরাঁ, হোটেল, জাদুঘর, কনভেনশন সেন্টার, ওয়াটার পার্ক, স্টেডিয়াম ও সিম্ফনি হলসহ আধুনিক নগরজীবনের প্রায় সব সুবিধা। শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষার সুযোগও থাকবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহাজটি পারমাণবিক শক্তিতে পরিচালিত হবে এবং ঘণ্টায় প্রায় সাত নটিক্যাল মাইল গতিতে চলবে। প্রতি দুই বছরে একবার পুরো পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবে এটি। আকারে বিশাল হওয়ায় কোনো বন্দরে ভিড়তে পারবে না। আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করে ফেরি ও ছোট নৌযানের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন করা হবে।

যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে থাকবে ট্রাম ব্যবস্থা, ১৫ মাইল দীর্ঘ হাঁটার পথ এবং তিন একর আয়তনের সবুজ পার্ক। এছাড়া জাহাজের সর্বোচ্চ অংশে থাকবে আটটি হেলিপ্যাড।

যদিও প্রকল্পটি এখনও নির্মাণ পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে এর ধারণা নতুন নয়। ১৯৯০-এর দশকে মার্কিন প্রকৌশলী নরম্যান নিক্সন প্রথম এ ভাসমান শহরের ধারণা দেন। পরবর্তীতে কয়েক দফা আলোচনায় এলেও অর্থায়নের অভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি।

ফ্রিডম ক্রুজ লাইন ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী রজার গুচের দাবি, প্রকল্পটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ যথেষ্ট রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে ইন্দোনেশিয়ায় এর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে এবং পুরো প্রকল্প শেষ হতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু একটি জাহাজ নয়; বরং সমুদ্রের বুকে গড়ে ওঠা একটি পূর্ণাঙ্গ শহর, যেখানে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনোদনের সব সুবিধা পাবে।

বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম যাত্রীবাহী জাহাজগুলোর তুলনায় ফ্রিডম শিপ প্রায় আট গুণ বেশি মানুষ বহন করতে সক্ষম হবে। ফলে এটি বাস্তবায়িত হলে সমুদ্রভিত্তিক আবাসন ও ভ্রমণ শিল্পে এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভাসমান ‘শহর’, ৮০ হাজার মানুষ নিয়ে বিশ্বভ্রমণে যাবে এক মাইল দীর্ঘ জাহাজ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫৭:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমোদতরিগুলোকেও ভবিষ্যতে ছোট মনে হতে পারে। কারণ, ‘ফ্রিডম শিপ’ নামে এক বিশাল ভাসমান শহর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৮০ হাজার মানুষকে নিয়ে সমুদ্রপথে পুরো পৃথিবী ঘুরে বেড়াবে এই জাহাজ।

প্রস্তাবিত ফ্রিডম শিপের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় এক মাইল, প্রস্থ ৮০০ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ৩০ তলা ভবনের সমান। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি পাউন্ড।

জাহাজটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এছাড়া ১০ হাজার ভ্রমণকারী ও দর্শনার্থীর জন্য থাকবে আলাদা ব্যবস্থা। পুরো ভাসমান শহরের কার্যক্রম পরিচালনায় কাজ করবেন প্রায় ২০ হাজার কর্মী।

life style 2

ফ্রিডম শিপে থাকবে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, ব্যাংক, শপিং সেন্টার, রেস্তোরাঁ, হোটেল, জাদুঘর, কনভেনশন সেন্টার, ওয়াটার পার্ক, স্টেডিয়াম ও সিম্ফনি হলসহ আধুনিক নগরজীবনের প্রায় সব সুবিধা। শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষার সুযোগও থাকবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহাজটি পারমাণবিক শক্তিতে পরিচালিত হবে এবং ঘণ্টায় প্রায় সাত নটিক্যাল মাইল গতিতে চলবে। প্রতি দুই বছরে একবার পুরো পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবে এটি। আকারে বিশাল হওয়ায় কোনো বন্দরে ভিড়তে পারবে না। আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করে ফেরি ও ছোট নৌযানের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন করা হবে।

যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে থাকবে ট্রাম ব্যবস্থা, ১৫ মাইল দীর্ঘ হাঁটার পথ এবং তিন একর আয়তনের সবুজ পার্ক। এছাড়া জাহাজের সর্বোচ্চ অংশে থাকবে আটটি হেলিপ্যাড।

যদিও প্রকল্পটি এখনও নির্মাণ পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে এর ধারণা নতুন নয়। ১৯৯০-এর দশকে মার্কিন প্রকৌশলী নরম্যান নিক্সন প্রথম এ ভাসমান শহরের ধারণা দেন। পরবর্তীতে কয়েক দফা আলোচনায় এলেও অর্থায়নের অভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি।

ফ্রিডম ক্রুজ লাইন ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী রজার গুচের দাবি, প্রকল্পটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ যথেষ্ট রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে ইন্দোনেশিয়ায় এর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে এবং পুরো প্রকল্প শেষ হতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু একটি জাহাজ নয়; বরং সমুদ্রের বুকে গড়ে ওঠা একটি পূর্ণাঙ্গ শহর, যেখানে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনোদনের সব সুবিধা পাবে।

বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম যাত্রীবাহী জাহাজগুলোর তুলনায় ফ্রিডম শিপ প্রায় আট গুণ বেশি মানুষ বহন করতে সক্ষম হবে। ফলে এটি বাস্তবায়িত হলে সমুদ্রভিত্তিক আবাসন ও ভ্রমণ শিল্পে এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।