ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের উপর ফের মার্কিন শুল্কের খাঁড়া!

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের পণ্যের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের এ প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।

মার্কিন আইনের ৩০১ ধারার আওতায় ভারতসহ প্রায় ৬০টি দেশের ওপর এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করতেই এ পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে একটি বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও কাজ চলছে। ফলে প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ চলছে। প্রস্তাবিত শুল্ক ব্যবস্থার আওতা, ব্যতিক্রম এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, তাদের ওপর ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। অন্যদিকে, এ ধরনের পণ্যের ওপর আংশিক বা পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে এমন দেশগুলোর ক্ষেত্রে শুল্কের হার ১০ শতাংশ হতে পারে।

প্রস্তাবিত তালিকায় ভারতের পাশাপাশি চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশও রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রম অধিকার সুরক্ষা এবং জোরপূর্বক শ্রমভিত্তিক পণ্যের বাণিজ্য নিরুৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের শুল্ক আরোপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বড় রপ্তানি বাজারগুলোর জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভারতের উপর ফের মার্কিন শুল্কের খাঁড়া!

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

ভারতের পণ্যের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের এ প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।

মার্কিন আইনের ৩০১ ধারার আওতায় ভারতসহ প্রায় ৬০টি দেশের ওপর এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করতেই এ পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে একটি বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও কাজ চলছে। ফলে প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ চলছে। প্রস্তাবিত শুল্ক ব্যবস্থার আওতা, ব্যতিক্রম এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, তাদের ওপর ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। অন্যদিকে, এ ধরনের পণ্যের ওপর আংশিক বা পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে এমন দেশগুলোর ক্ষেত্রে শুল্কের হার ১০ শতাংশ হতে পারে।

প্রস্তাবিত তালিকায় ভারতের পাশাপাশি চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশও রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রম অধিকার সুরক্ষা এবং জোরপূর্বক শ্রমভিত্তিক পণ্যের বাণিজ্য নিরুৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের শুল্ক আরোপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বড় রপ্তানি বাজারগুলোর জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।