শহীদ জিয়ার আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা: রাষ্ট্রপতি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম, সততা, ন্যায়বোধ ও স্বনির্ভর উন্নয়নের দর্শন নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
শনিবার (৩০ মে) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শাহাদাতবরণ করেন জিয়াউর রহমান। তিনি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম রূপকার।
রাষ্ট্রপতি স্মরণ করেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের আহ্বান জানান। তার স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিল এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
বাণীতে বলা হয়, স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও নৈরাজ্যের প্রেক্ষাপটে দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রকে নতুন দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, কৃষি উন্নয়ন, খাল খনন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা ও গণশিক্ষার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদ জিয়া সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করেছিলেন। তার ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি একটি উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে তিনি মুসলিম বিশ্ব, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাণীর শেষাংশে রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাদাসিধে জীবনযাপন, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, প্রশ্নাতীত সততা এবং বাস্তববাদী রাষ্ট্রনায়কসুলভ চিন্তাধারা দেশের মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি মহান আল্লাহর কাছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাগফিরাত কামনা করেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসে তার উচ্চ মর্যাদা প্রার্থনা করেন।





















