কর কমিশনারদের দখলে সরকারি ফ্ল্যাট, অফিসের আড়ালে আবাসন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে আয়কর বিভাগের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত একটি বহুতল ভবনের একাধিক ফ্ল্যাট দীর্ঘদিন ধরে কর কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আবাসন হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি ফ্ল্যাট ব্যবহারের পরও বেতন থেকে বাড়িভাড়া উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আগ্রাবাদের সিডিএ ২ নম্বর সড়কে অবস্থিত পিএইচপি ভবনে ২০১৫ সাল থেকে আয়কর বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবনটিতে কর অঞ্চল ১, ২, ৩ ও ৪–এর বিভিন্ন সার্কেল অফিস রয়েছে। তবে একই ভবনের ছয়টি ফ্ল্যাট দীর্ঘদিন ধরে কর কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কর অঞ্চল ২–এর কমিশনার সাধন কুমার রায় এবং কর অঞ্চল ৩–এর কমিশনার শাহীন আক্তার হোসেন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে দুটি করে ফ্ল্যাট রেখেছেন। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন প্রায় ১ হাজার ৭০০ বর্গফুট বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া কর অঞ্চল ১–এর কমিশনার মঞ্জুর আলম ১২ তলার একটি ফ্ল্যাট এবং একই অঞ্চলের অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান আরেকটি ফ্ল্যাট ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে ছয়টি ফ্ল্যাটের বিপরীতে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব হারাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন কর অঞ্চল ৪–এর কমিশনার ফরিদ আহমেদ। জানা গেছে, আগ্রাবাদের ১ নম্বর সড়কে রহিম ম্যানশনের চতুর্থ তলায় কমিশনারের জন্য বরাদ্দ বাসা তিনি গত এপ্রিল মাসে ছেড়ে দেন এবং সেটিকে অফিস হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেন।
এ বিষয়ে কর অঞ্চল ১–এর কমিশনার মঞ্জুর আলম বলেন, “এগুলো অনেক আগে থেকেই এভাবে চলে আসছে। সম্ভবত ২০১১ সাল থেকে। সকল কমিশনারের কাছেই এটা একটা প্রথার মতো।”
অন্যদিকে কর অঞ্চল ৩–এর কমিশনার শাহীন আক্তার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এরকম কোনো ফ্ল্যাট আমার দখলে নেই।”
এ বিষয়ে National Board of Revenue–এর সদস্য (প্রশাসন) আহসান হাবিব–এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




















