ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের রেল যোগাযোগে গতি আনতে বড় পরিকল্পনা

সিলেট ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেটের রেল যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে মিটারগেজ সিঙ্গেল লাইনের কারণে ট্রেন চলাচলে শিডিউল বিপর্যয়, ক্রসিং জটিলতা ও ধীরগতির যাত্রা সিলেটবাসীর নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। তবে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ডাবল লাইন চালু হলে রেল যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

বর্তমানে সিলেটের রেলপথ পুরোপুরি মিটারগেজ সিঙ্গেল লাইনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে একটি ট্রেন চলাচলের সময় বিপরীত দিকের ট্রেনকে স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এতে যাত্রা বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। এ পরিস্থিতি বদলাতে সরকার ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটকে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে।

ঐতিহাসিকভাবে সিলেটের রেল যোগাযোগের সূচনা হয় ব্রিটিশ আমলে। চা শিল্প ও পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে ১৯১২ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে চালু হয় কুলাউড়া-সিলেট রেললাইন। পরে ১৯৫৪ সালে চালু হয় সিলেট-ছাতক রুট, যা সিলেট স্টেশনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে। তবে করোনা মহামারির সময় বন্ধ হয়ে যায় ছাতক রুটে ট্রেন চলাচল। এরপর ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় রেললাইন, যা এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি।

২০০৪ সালে পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন রূপ পায় কদমতলীতে অবস্থিত সিলেট রেলওয়ে স্টেশন। বর্তমানে এটি ঢাকা ও ছাতকের সঙ্গে মিটারগেজ লাইনে সংযুক্ত থাকলেও সময়ের সঙ্গে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনের দাবিতে সম্প্রতি সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে মানববন্ধন করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রার সময় কমবে, বাড়বে ট্রেনের সংখ্যা এবং উন্নত হবে যাত্রীসেবা।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার নূরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে প্রায় আট ঘণ্টা সময় লাগে। ডাবল লাইন চালু হলে এই সময় অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা কমে আসবে। তার ভাষায়, “ডাবল লাইন সিলেটের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হবে।”

বর্তমানে সিলেট-ঢাকা রুটে চারটি এবং সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। অর্থাৎ মোট ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে সিলেটের রেল যোগাযোগ।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০২০ সাল থেকে লোকাল ও মেইল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ যাত্রী যাতায়াত করেন। এছাড়া ইঞ্জিন সংকটের কারণে তেলবাহী ট্রেন চলাচলও কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২টি ট্রেন চলাচল করত, বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র পাঁচটিতে।

সম্প্রতি সিলেট সফরে এসে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, সিলেট-ঢাকা-চট্টগ্রাম ডুয়েল গেজ রেললাইন চালুর লক্ষ্যে সমীক্ষা চলছে। তিনি বলেন, ইঞ্জিন সংকট সমাধানের পাশাপাশি যাত্রীসেবার উন্নয়ন ও পণ্য পরিবহন বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার, যাতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যায়।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে দীর্ঘদিনের শিডিউল বিপর্যয়, ধীরগতি ও ভোগান্তি কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনার যুগে প্রবেশ করতে পারে সিলেটের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সিলেটের রেল যোগাযোগে গতি আনতে বড় পরিকল্পনা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

সিলেটের রেল যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে মিটারগেজ সিঙ্গেল লাইনের কারণে ট্রেন চলাচলে শিডিউল বিপর্যয়, ক্রসিং জটিলতা ও ধীরগতির যাত্রা সিলেটবাসীর নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। তবে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ডাবল লাইন চালু হলে রেল যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

বর্তমানে সিলেটের রেলপথ পুরোপুরি মিটারগেজ সিঙ্গেল লাইনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে একটি ট্রেন চলাচলের সময় বিপরীত দিকের ট্রেনকে স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এতে যাত্রা বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। এ পরিস্থিতি বদলাতে সরকার ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটকে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে।

ঐতিহাসিকভাবে সিলেটের রেল যোগাযোগের সূচনা হয় ব্রিটিশ আমলে। চা শিল্প ও পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে ১৯১২ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে চালু হয় কুলাউড়া-সিলেট রেললাইন। পরে ১৯৫৪ সালে চালু হয় সিলেট-ছাতক রুট, যা সিলেট স্টেশনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে। তবে করোনা মহামারির সময় বন্ধ হয়ে যায় ছাতক রুটে ট্রেন চলাচল। এরপর ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় রেললাইন, যা এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি।

২০০৪ সালে পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন রূপ পায় কদমতলীতে অবস্থিত সিলেট রেলওয়ে স্টেশন। বর্তমানে এটি ঢাকা ও ছাতকের সঙ্গে মিটারগেজ লাইনে সংযুক্ত থাকলেও সময়ের সঙ্গে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনের দাবিতে সম্প্রতি সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে মানববন্ধন করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রার সময় কমবে, বাড়বে ট্রেনের সংখ্যা এবং উন্নত হবে যাত্রীসেবা।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার নূরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে প্রায় আট ঘণ্টা সময় লাগে। ডাবল লাইন চালু হলে এই সময় অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা কমে আসবে। তার ভাষায়, “ডাবল লাইন সিলেটের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হবে।”

বর্তমানে সিলেট-ঢাকা রুটে চারটি এবং সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। অর্থাৎ মোট ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে সিলেটের রেল যোগাযোগ।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০২০ সাল থেকে লোকাল ও মেইল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ যাত্রী যাতায়াত করেন। এছাড়া ইঞ্জিন সংকটের কারণে তেলবাহী ট্রেন চলাচলও কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২টি ট্রেন চলাচল করত, বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র পাঁচটিতে।

সম্প্রতি সিলেট সফরে এসে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, সিলেট-ঢাকা-চট্টগ্রাম ডুয়েল গেজ রেললাইন চালুর লক্ষ্যে সমীক্ষা চলছে। তিনি বলেন, ইঞ্জিন সংকট সমাধানের পাশাপাশি যাত্রীসেবার উন্নয়ন ও পণ্য পরিবহন বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার, যাতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যায়।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে দীর্ঘদিনের শিডিউল বিপর্যয়, ধীরগতি ও ভোগান্তি কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনার যুগে প্রবেশ করতে পারে সিলেটের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা।