ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে কোন আসনগুলো গুরুত্বপূর্ণ? পুকুরের জমি ভরাট করে প্লট বিক্রি, রাজস্ব ফাঁকির শঙ্কা ১০ কোটি টাকা হামলার আশঙ্কা, উদ্বোধনের আগেই স্থগিত জাতীয় চার নেতার প্রদর্শনী অবরোধে অবরুদ্ধ সাজেক, খাদ্যসংকটে স্থানীয়রা এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্ত ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ফুটবল টুর্নামেন্ট যশোরে আ’লীগের ‘নাশকতার বিরুদ্ধে’ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের মিছিল বিসিডিএস সভাপতিকে মুঠোফোনে হুমকি, পদ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা! তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা অর্থায়নে আবেদন চলছে, শেষ সময় ৩০ নভেম্বর সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ১০ লাখ টাকা ভাগাভাগি

বললেন মডেল মেঘনা আলম

শুধু সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসার সাথেই সম্পর্ক ছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫ ২২১ বার পড়া হয়েছে

মেঘনা আলম

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শুধু সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আলদুহাইলানের সঙ্গেই সম্পর্ক ছিল বলে আদালতের কাছে দাবি করেন বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটকাদেশে থাকা আলোচিত মডেল মেঘনা আলম। ধানমন্ডি থানায় পুলিশের দায়ের করা প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় মেঘনাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয়। শুনানির সময় মেঘনার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না, তিনি নিজেই আদালতে কথা বলেন।

এ মামলায় তার কথিত সহযোগী সানজানা ম্যানপাওয়ার প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. দেওয়ান সামিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, এই আসামিরা অভিনব কৌশল অবলম্বন করে বিদেশি রাষ্ট্রদূতসহ এম্বাসিগুলোতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের হানি ট্র্যাপে ফেলে বিপুল অর্থ বাগিয়ে নেয়ার জন্য চক্র দাঁড় করিয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতারণা করে আসছেন। সবশেষ সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন এবং তার কাছ থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মেঘনার পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালত মেঘনার কাছেই জানতে চান, তিনি কিছু বলবেন কি না। জবাবে মেঘনা আলম আদালতকে বলেন, আমাদের কোনো আইনজীবী নেই। এরপর তিনি কথা বলতে অনুমতি চান।

আদালত অনুমতি দিলে মেঘনা বলেন, মামলায় বলা হয়েছে, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও এম্বাসিগুলোতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করার কথা। অন্য কোনো বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। শুধু সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সম্পর্ক।

মেঘনা আরও বলেন, সৌদি রাষ্ট্রদূতের কথা বলা হচ্ছ…আমার প্রশ্ন যে কেউ চাইলে কি সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করতে পারে? আপনারা কি তাঁর কাছে যেতে পারবেন?

এরপর আদালত তাকে থামিয়ে মামলার বিষয়ে কিছু বলার আছে কি না জানতে চান। তখন মেঘনা বলেন, আমাকে বিনা বিচারে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে, কোনো আইনজীবী পাবেন না।

মেঘনা আরও বলেন, সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। ঈসা অভিযোগ করেন, আমি নাকি তাঁর বাচ্চা নষ্ট করে ফেলেছি- এটা মোটেও সত্য না। এ বিষয়ে আমি ঈসার সঙ্গে কথা বলি। তাকে এসব তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলি। এসব বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি শফিকুরের সঙ্গে কথা বলি। এরপরই পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে শুনানির সময় দেওয়ান সামির আদালতকে বলেন, ‘আমাকে মেঘনা আলমের বয়ফ্রেন্ড বলা হচ্ছে- এটা ভুল তথ্য, তাঁর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি সাধারণ একজন মানুষ। দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। আমি একজন রেমিট্যান্সযোদ্ধা। আমি মামলার এসব ঘটনার কিছুই জানি না।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানোর যুক্তি তুলে ধরে আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বারবার ‘মেঘলা আলম’ উচ্চারণ করেন।

এ সময় মেঘনা তার নাম ঠিকভাবে উচ্চারণ করার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, আমার নাম মেঘনা আলম, মেঘলা নয়।

শুনানি শেষে আদালত দুজনকে গ্রেপ্তার দেখান এবং সামিরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন। হাজতখানায় নেওয়ার পথে মেঘনা আলম বলেন, আমি ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। এ পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরেন। পরে আর কোনো কথা বলতে দেওয়া হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বললেন মডেল মেঘনা আলম

শুধু সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসার সাথেই সম্পর্ক ছিল

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

শুধু সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আলদুহাইলানের সঙ্গেই সম্পর্ক ছিল বলে আদালতের কাছে দাবি করেন বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটকাদেশে থাকা আলোচিত মডেল মেঘনা আলম। ধানমন্ডি থানায় পুলিশের দায়ের করা প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় মেঘনাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয়। শুনানির সময় মেঘনার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না, তিনি নিজেই আদালতে কথা বলেন।

এ মামলায় তার কথিত সহযোগী সানজানা ম্যানপাওয়ার প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. দেওয়ান সামিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, এই আসামিরা অভিনব কৌশল অবলম্বন করে বিদেশি রাষ্ট্রদূতসহ এম্বাসিগুলোতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের হানি ট্র্যাপে ফেলে বিপুল অর্থ বাগিয়ে নেয়ার জন্য চক্র দাঁড় করিয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতারণা করে আসছেন। সবশেষ সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন এবং তার কাছ থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মেঘনার পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালত মেঘনার কাছেই জানতে চান, তিনি কিছু বলবেন কি না। জবাবে মেঘনা আলম আদালতকে বলেন, আমাদের কোনো আইনজীবী নেই। এরপর তিনি কথা বলতে অনুমতি চান।

আদালত অনুমতি দিলে মেঘনা বলেন, মামলায় বলা হয়েছে, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও এম্বাসিগুলোতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করার কথা। অন্য কোনো বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। শুধু সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সম্পর্ক।

মেঘনা আরও বলেন, সৌদি রাষ্ট্রদূতের কথা বলা হচ্ছ…আমার প্রশ্ন যে কেউ চাইলে কি সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করতে পারে? আপনারা কি তাঁর কাছে যেতে পারবেন?

এরপর আদালত তাকে থামিয়ে মামলার বিষয়ে কিছু বলার আছে কি না জানতে চান। তখন মেঘনা বলেন, আমাকে বিনা বিচারে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে, কোনো আইনজীবী পাবেন না।

মেঘনা আরও বলেন, সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। ঈসা অভিযোগ করেন, আমি নাকি তাঁর বাচ্চা নষ্ট করে ফেলেছি- এটা মোটেও সত্য না। এ বিষয়ে আমি ঈসার সঙ্গে কথা বলি। তাকে এসব তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলি। এসব বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি শফিকুরের সঙ্গে কথা বলি। এরপরই পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে শুনানির সময় দেওয়ান সামির আদালতকে বলেন, ‘আমাকে মেঘনা আলমের বয়ফ্রেন্ড বলা হচ্ছে- এটা ভুল তথ্য, তাঁর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি সাধারণ একজন মানুষ। দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। আমি একজন রেমিট্যান্সযোদ্ধা। আমি মামলার এসব ঘটনার কিছুই জানি না।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানোর যুক্তি তুলে ধরে আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বারবার ‘মেঘলা আলম’ উচ্চারণ করেন।

এ সময় মেঘনা তার নাম ঠিকভাবে উচ্চারণ করার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, আমার নাম মেঘনা আলম, মেঘলা নয়।

শুনানি শেষে আদালত দুজনকে গ্রেপ্তার দেখান এবং সামিরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন। হাজতখানায় নেওয়ার পথে মেঘনা আলম বলেন, আমি ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। এ পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরেন। পরে আর কোনো কথা বলতে দেওয়া হয়নি।