ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামলার আশঙ্কা, উদ্বোধনের আগেই স্থগিত জাতীয় চার নেতার প্রদর্শনী অবরোধে অবরুদ্ধ সাজেক, খাদ্যসংকটে স্থানীয়রা এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্ত ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ফুটবল টুর্নামেন্ট যশোরে আ’লীগের ‘নাশকতার বিরুদ্ধে’ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের মিছিল বিসিডিএস সভাপতিকে মুঠোফোনে হুমকি, পদ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা! তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা অর্থায়নে আবেদন চলছে, শেষ সময় ৩০ নভেম্বর সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ১০ লাখ টাকা ভাগাভাগি দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আট মাসেও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে পারেনি সরকার: নাহিদ ইসলাম

অবরোধে অবরুদ্ধ সাজেক, খাদ্যসংকটে স্থানীয়রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে টানা ১৩ দিনের অবরোধে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সাজেক। বন্ধ হয়ে আছে যান চলাচল। ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। একই সঙ্গে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সাজেকের পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ সামলাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে নতুন করে অবরোধ শুরু হয়। এর আগে ১১ অক্টোবর থেকে টানা অবরোধের কারণে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি শিথিল করা হলেও ২২ অক্টোবর থেকে আবারও যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। দফায় দফায় অবরোধ ও শিথিলতার মধ্যেও সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে বাঘাইছড়ি ও খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে বাইরে থেকে খাদ্য, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের সংকট বাড়ছে। দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা খাদ্যের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অবরোধে শুধু পণ্য সরবরাহই ব্যাহত হচ্ছে না, উৎপাদিত কৃষিপণ্যও বাইরে পাঠানো যাচ্ছে না। এতে একদিকে বাজারে খাদ্যসংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে পণ্য বিক্রি করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

পর্যটন ব্যবসায় ধস, কর্মীদের খাবার জোগানো কঠিন

সাজেকের পর্যটন খাতেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকায় রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন ব্যবসা কার্যত অচল। দীর্ঘদিন পর্যটক না আসায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা। লোকসান গুনছেন ব্যবসায়ীরা।

রিসোর্ট ব্যবসায়ী জিয়াউল হক যুবরাজ বলেন, সাজেকের অবস্থা খুবই খারাপ। একদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, অন্যদিকে খাবারের সংকট চলছে। সাজেকে প্রায় দেড় শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁয় পাঁচ শতাধিক কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাঁচ দফা দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা

অবরোধকারী সংগঠনগুলো পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। ফলে দ্রুত সমঝোতা না হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংকট নিরসনে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি। গত ২৫ অক্টোবর রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। পরদিন ২৬ অক্টোবর উজোবাজারে অনুষ্ঠিত জনসভা থেকেও কোনো সমঝোতা আসেনি। দাবি বাস্তবায়নের প্রশ্নে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনা কার্যত থমকে রয়েছে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা কৃষিপণ্য পরিবহন করতে পারছেন না। এতে এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি।

দীর্ঘদিনের অবরোধে সাজেকের সংকট এখন আর শুধু রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি স্থানীয় মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও জীবিকার সংকটে রূপ নিয়েছে। দাবি আদায়ের আন্দোলন চললেও এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাই অবরোধের সমাধানের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

৪ ও ৫ নভেম্বর ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের ঘোষণা

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে চলমান অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের মধ্যে নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার (৪ ও ৫ নভেম্বর) এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। অন্যদিকে, সাজেকের চলমান অবরোধে কৃষিপণ্য পরিবহন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহন চলাচলে ছাড় দিয়েছে অবরোধকারী দুই সংগঠন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচি ও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ১৩তম দিনে নতুন এই ঘোষণা ঘিরে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাজেক পর্যটন সড়ক অবিলম্বে সচল করা এবং পাহাড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধের দাবিতে ৪ ও ৫ নভেম্বর ৪৮ ঘণ্টার শান্তিপূর্ণ ও সর্বাত্মক অবরোধ পালন করা হবে।

সংগঠনটির অভিযোগ, গত ১১, ১৫ ও ২২–২৩ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর চতুর্থ দফায় সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তাদের দাবি, চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের মদদপুষ্ট সংগঠন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের এসব কর্মসূচির কারণে পর্যটন সড়ক, স্থানীয় পর্যটনশিল্প ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অবরোধের কারণে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ী, যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের চলমান অবরোধে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে সাজেকের বাসিন্দা, পর্যটন ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে অবরোধের কারণে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ এবং চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অবরোধে অবরুদ্ধ সাজেক, খাদ্যসংকটে স্থানীয়রা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে টানা ১৩ দিনের অবরোধে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সাজেক। বন্ধ হয়ে আছে যান চলাচল। ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। একই সঙ্গে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সাজেকের পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ সামলাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে নতুন করে অবরোধ শুরু হয়। এর আগে ১১ অক্টোবর থেকে টানা অবরোধের কারণে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি শিথিল করা হলেও ২২ অক্টোবর থেকে আবারও যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। দফায় দফায় অবরোধ ও শিথিলতার মধ্যেও সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে বাঘাইছড়ি ও খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে বাইরে থেকে খাদ্য, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের সংকট বাড়ছে। দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা খাদ্যের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অবরোধে শুধু পণ্য সরবরাহই ব্যাহত হচ্ছে না, উৎপাদিত কৃষিপণ্যও বাইরে পাঠানো যাচ্ছে না। এতে একদিকে বাজারে খাদ্যসংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে পণ্য বিক্রি করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

পর্যটন ব্যবসায় ধস, কর্মীদের খাবার জোগানো কঠিন

সাজেকের পর্যটন খাতেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকায় রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন ব্যবসা কার্যত অচল। দীর্ঘদিন পর্যটক না আসায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা। লোকসান গুনছেন ব্যবসায়ীরা।

রিসোর্ট ব্যবসায়ী জিয়াউল হক যুবরাজ বলেন, সাজেকের অবস্থা খুবই খারাপ। একদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, অন্যদিকে খাবারের সংকট চলছে। সাজেকে প্রায় দেড় শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁয় পাঁচ শতাধিক কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাঁচ দফা দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা

অবরোধকারী সংগঠনগুলো পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। ফলে দ্রুত সমঝোতা না হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংকট নিরসনে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি। গত ২৫ অক্টোবর রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। পরদিন ২৬ অক্টোবর উজোবাজারে অনুষ্ঠিত জনসভা থেকেও কোনো সমঝোতা আসেনি। দাবি বাস্তবায়নের প্রশ্নে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনা কার্যত থমকে রয়েছে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা কৃষিপণ্য পরিবহন করতে পারছেন না। এতে এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি।

দীর্ঘদিনের অবরোধে সাজেকের সংকট এখন আর শুধু রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি স্থানীয় মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও জীবিকার সংকটে রূপ নিয়েছে। দাবি আদায়ের আন্দোলন চললেও এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাই অবরোধের সমাধানের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

৪ ও ৫ নভেম্বর ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের ঘোষণা

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে চলমান অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের মধ্যে নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার (৪ ও ৫ নভেম্বর) এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। অন্যদিকে, সাজেকের চলমান অবরোধে কৃষিপণ্য পরিবহন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহন চলাচলে ছাড় দিয়েছে অবরোধকারী দুই সংগঠন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচি ও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ১৩তম দিনে নতুন এই ঘোষণা ঘিরে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাজেক পর্যটন সড়ক অবিলম্বে সচল করা এবং পাহাড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধের দাবিতে ৪ ও ৫ নভেম্বর ৪৮ ঘণ্টার শান্তিপূর্ণ ও সর্বাত্মক অবরোধ পালন করা হবে।

সংগঠনটির অভিযোগ, গত ১১, ১৫ ও ২২–২৩ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর চতুর্থ দফায় সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তাদের দাবি, চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের মদদপুষ্ট সংগঠন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের এসব কর্মসূচির কারণে পর্যটন সড়ক, স্থানীয় পর্যটনশিল্প ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অবরোধের কারণে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ী, যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের চলমান অবরোধে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে সাজেকের বাসিন্দা, পর্যটন ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে অবরোধের কারণে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ এবং চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।