ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাসে তিনবারের বেশি টাকা তুললে দিতে হবে অতিরিক্ত ফি শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ, জানালেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে কেন বাড়ছে পাহাড় ধস? গবেষণায় উঠে এলো ভয়াবহ চিত্র হত্যার পর ড্রেনে স্কুলছাত্রীর লাশ, যুবককে ফাঁসির দণ্ড আইসিসির ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগস কমিটির চেয়ারম্যান হলেন তামিম ইকবাল বিশ্বকাপ ফাইনালে হাফটাইম শো, দীর্ঘ বিরতিতে প্রশ্ন ফুটবলারদের প্রস্তুতি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রেও আকাশছোঁয়া আয়, ফিফা সভাপতির বেতন কত? শাহবাগের অবরোধ প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি, পাস হয়েছে ১০টি সরকারি বিল মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নে কাজ চলছে: প্রধানমন্ত্রী

বাদুড়তলে বাদুড় মেলা, নজর কাড়ছে দর্শনার্থীর

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আধুনিক সভ্যতা বিকাশে দেশের অনেক বনভূমি উজাড় করা হয়েছে। বনভূমি উজাড়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন পশু-পাখি তাদের বাসস্থান হারিয়েছে। ফলে বিলুপ্ত হয়েছে অনেক পশু পাখি। তেমনি এক প্রজাতির বাদুড়ও তাদের বাসস্থান না থাকায় বিলুপ্ত শ্রেণীর অর্ন্তগত হতে চলেছে।

হরহামেশা দেখা না পাওয়া বাদুড়ের দেখা মিলেছে সীমান্তবর্তী জেলা ঝিনাইদহের মহেশপুরের একটি কবরস্থানের বটগাছে। যা দেখতে প্রতিদিন গ্রামটিতে ভীড় করেছেন দর্শনার্থীরা।

badur pic 2

সীমান্তবর্তী ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের ঝিটকিপোতা গ্রামে প্রায় ৫০ বছর আগে এ বটগাছটিতে কিছু বাদুড় বসবাস শুরু করে। সেখান থেকে পরের কয়েক বছরে বাদুড়ের সংখ্যা গিয়ে দাড়ায় কয়েক হাজারে। বাদুড়ের সংখ্যাগত কারনে এক সময়ের ঝিটকিপোতা গ্রাম নাম হারিয়ে ‘বাদুড়তলা’ নাম ধারন করেছে। বাদুড়তলা গ্রামের মানুষজনও বিলুপ্ত প্রজাতির বাদুড় শিকার ও উতক্ত না করায় এ বাদুড় যেন স্থায়ী আসন গেড়েছে। দিনে থাকে বাংলাদেশে আর রাতে খাবার খেতে যায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। খাবার খাওয়ার পর ভোর রাতে আবার ফিরে আসে। গাছটিতে থাকা ৮-১০ হাজার বাদুড়ের বসবাস দেখতে প্রতিদিন গ্রামটিতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

প্রকৃতি প্রেমী নাজমূল হোসেন বলেন,দীর্ঘদিন ধরে বাদুড়গুলো আমাদের গ্রামের বটগাছে বসবাস করছে। এই বাদুরের নাম অনুসারে বটতলার নাম হয়েছে বাদুড়তল।

মোস্তাক আহম্মেদ বলেন,বাদুড়গুলো রাতে খাবারের জন্য ভারতসহ বিভিন্ন স্থানে চলে যায়,আবার খাবার খেয়ে সকালে চলে আসে সারাদিন থাকে বটগাছে। স্থানীয়দের কোন ক্ষতি করে না।

স্থানীয়রা আরও বলেন,বাদুড়গুলো এখানে নির্ভয়ে বসবাস করছে বহুকাল ধরে। বাদুড় নিয়ে কল্পকাহিনি আর কুসংস্কারের যুগও কেটে গেছে। এরা তাদের উপকারই করছে। কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলকে রক্ষা সহ ফুল-ফলের পরাগায়ণ সৃষ্টি করছে। মানবকল্যাণকারী ও পরিবেশবান্ধব এ স্তন্যপায়ী প্রাণীটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তাদের।

মহেশপুর বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, পশুপাখি পরিবেশ সংরক্ষনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ৫০ বছর ধরে বাদুরগুলো বাদুড়তলা বটগাছে বসবাস করছে। যদি কেউ বাদুড় নিধন ও বাদুড়কে ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাদুড়তলে বাদুড় মেলা, নজর কাড়ছে দর্শনার্থীর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪

আধুনিক সভ্যতা বিকাশে দেশের অনেক বনভূমি উজাড় করা হয়েছে। বনভূমি উজাড়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন পশু-পাখি তাদের বাসস্থান হারিয়েছে। ফলে বিলুপ্ত হয়েছে অনেক পশু পাখি। তেমনি এক প্রজাতির বাদুড়ও তাদের বাসস্থান না থাকায় বিলুপ্ত শ্রেণীর অর্ন্তগত হতে চলেছে।

হরহামেশা দেখা না পাওয়া বাদুড়ের দেখা মিলেছে সীমান্তবর্তী জেলা ঝিনাইদহের মহেশপুরের একটি কবরস্থানের বটগাছে। যা দেখতে প্রতিদিন গ্রামটিতে ভীড় করেছেন দর্শনার্থীরা।

badur pic 2

সীমান্তবর্তী ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের ঝিটকিপোতা গ্রামে প্রায় ৫০ বছর আগে এ বটগাছটিতে কিছু বাদুড় বসবাস শুরু করে। সেখান থেকে পরের কয়েক বছরে বাদুড়ের সংখ্যা গিয়ে দাড়ায় কয়েক হাজারে। বাদুড়ের সংখ্যাগত কারনে এক সময়ের ঝিটকিপোতা গ্রাম নাম হারিয়ে ‘বাদুড়তলা’ নাম ধারন করেছে। বাদুড়তলা গ্রামের মানুষজনও বিলুপ্ত প্রজাতির বাদুড় শিকার ও উতক্ত না করায় এ বাদুড় যেন স্থায়ী আসন গেড়েছে। দিনে থাকে বাংলাদেশে আর রাতে খাবার খেতে যায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। খাবার খাওয়ার পর ভোর রাতে আবার ফিরে আসে। গাছটিতে থাকা ৮-১০ হাজার বাদুড়ের বসবাস দেখতে প্রতিদিন গ্রামটিতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

প্রকৃতি প্রেমী নাজমূল হোসেন বলেন,দীর্ঘদিন ধরে বাদুড়গুলো আমাদের গ্রামের বটগাছে বসবাস করছে। এই বাদুরের নাম অনুসারে বটতলার নাম হয়েছে বাদুড়তল।

মোস্তাক আহম্মেদ বলেন,বাদুড়গুলো রাতে খাবারের জন্য ভারতসহ বিভিন্ন স্থানে চলে যায়,আবার খাবার খেয়ে সকালে চলে আসে সারাদিন থাকে বটগাছে। স্থানীয়দের কোন ক্ষতি করে না।

স্থানীয়রা আরও বলেন,বাদুড়গুলো এখানে নির্ভয়ে বসবাস করছে বহুকাল ধরে। বাদুড় নিয়ে কল্পকাহিনি আর কুসংস্কারের যুগও কেটে গেছে। এরা তাদের উপকারই করছে। কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলকে রক্ষা সহ ফুল-ফলের পরাগায়ণ সৃষ্টি করছে। মানবকল্যাণকারী ও পরিবেশবান্ধব এ স্তন্যপায়ী প্রাণীটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তাদের।

মহেশপুর বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, পশুপাখি পরিবেশ সংরক্ষনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ৫০ বছর ধরে বাদুরগুলো বাদুড়তলা বটগাছে বসবাস করছে। যদি কেউ বাদুড় নিধন ও বাদুড়কে ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।