বেতন-ভাতার বাইরে অনৈতিক সুবিধা, খুলনা রেঞ্জে প্রত্যাহার ২৮ পুলিশ সদস্য

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বেতন-ভাতার বাইরে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত ২৮ পুলিশ সদস্যকে একযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের মধ্যে পুলিশের বাবুর্চি থেকে শুরু করে উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার সদস্যও রয়েছেন। থানা ও বিভিন্ন ইউনিটে ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত এসব সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তালিকায় খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত সদস্যদের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে থানা ছাড়াও ট্রাফিক ও গোয়েন্দা শাখায় দায়িত্ব পালন করা সদস্যরা রয়েছেন।
আইন রক্ষাকারীদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ
পুলিশের মূল দায়িত্ব আইন প্রয়োগ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু এই দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, পুরো বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে।
বিশেষ করে মামলা গ্রহণ, তদন্ত, অপরাধ দমন কিংবা অভিযান পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধার বিনিময়ে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে ন্যায়বিচার নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হতে পারে। এতে পুলিশের কাছ থেকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার সেবা পাওয়ার প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রত্যাহারই কি যথেষ্ট?
পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা। তবে আর্থিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কোনো সদস্য অনৈতিক উপায়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা বাহিনীর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ মোকাবিলায় শুধু প্রত্যাহার, বদলি কিংবা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট নয়। অভিযোগের প্রকৃতি ও সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হতে পারে।
পুলিশের প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে অভিযোগ তদন্তের পাশাপাশি জবাবদিহির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
তবে প্রত্যাহার হওয়া ২৮ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিস্তারিত, তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণই এখন গুরুত্বপূর্ণ।























