শীতের সবজি উঠলেও কমছে না দাম; নতুন আলু ১৬০, দেশি টমেটো ২২০ টাকা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে বাজারে আসতে শুরু করেছে নতুন আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ নানা ধরনের সবজি। তবে মৌসুমের নতুন সবজি দেখেও স্বস্তি ফিরছে না ক্রেতাদের মনে। বরং নতুন আলুর কেজি ১৬০ টাকা আর দেশি টমেটো ২২০ টাকা পর্যন্ত ওঠায় বাজার করতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে তাঁদের। অধিকাংশ সবজির দাম ৬০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে।
সবজির বাজারে এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মাছ, মুরগি ও ডিমের দামও চড়া। বিশেষ করে বড় মাছ, সামুদ্রিক মাছ ও ইলিশ কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের ব্যয় করতে হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ। ফলে শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির দেখা নেই।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সবজির বাজারে নতুন আলুর দাপট
বাজারে নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু প্রতি কেজি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় এই আলু এখনো অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে। সবজি ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিনের ভাষ্য, বাজারে নতুন কোনো পণ্য উঠলে শুরুতে দাম কিছুটা বেশি থাকে।
তবে ক্রেতাদের প্রশ্ন, শীতের সবজি বাজারে আসার পরও দাম কমছে না কেন? বাজার করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, টেলিভিশনে দেখেন, পাঁচ টাকা দিয়েও কেউ লাউ কিনছে না। অথচ রাজধানীর বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে লাউ পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার আশপাশে। শীত এলে সাধারণত সবজির দাম কমার কথা, কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র।
বাজারে প্রতি কেজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। ঝিঙার দাম ১০০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা এবং গোল বেগুন ১২০ টাকা।
এ ছাড়া কাঁকরোল ১০০ টাকা, কচুমুখী ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা এবং শিম ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ টমেটোর কেজি ১২০ টাকা হলেও দেশি টমেটো কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা।
তুলনামূলক কম দামে মিলছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা। তবে কাঁচা মরিচের কেজি ১৪০ টাকা, জলপাই ৮০ টাকা।
মাছ কিনতেও বাড়তি খরচ
সবজির পর মাছের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। তুলনামূলক কম দামের পাঙাশ ও তেলাপিয়াও বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ২৩০ ও ২৬০ টাকা কেজি দরে। রুই মাছের কেজি ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা এবং বায়লা ৫৫০ টাকা।
বড় আকারের মাছের দাম আরও বেশি। প্রতি কেজি কাতল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি শিং মাছের কেজি ১ হাজার টাকা। বড় চিংড়ি কিনতে লাগছে ১ হাজার ৪০০ টাকা, আর সামুদ্রিক পাঙাশের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি।
ইলিশের দামও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ ব্যবসায়ী সবুজ বলেন, সামুদ্রিক মাছের দাম সব সময়ই বেশি থাকে। এসব মাছ হাজার টাকার নিচে বিক্রি করা যায় না। দেশি মাছের দামও বেশি। চাষের মাছের দামও ২০০ টাকার ওপরে। বর্তমানে আইড় মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি।
মুরগি-ডিমেও বাড়তি চাপ
নিত্যপণ্যের বাজারে মুরগি ও ডিমের দামও ক্রেতাদের স্বস্তি দিচ্ছে না। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি। অন্যদিকে, প্রতি ডজন বাদামি ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে শীতকালীন সবজির আগমনেও রাজধানীর বাজারে কমেনি দামের উত্তাপ। মাছ, মুরগি ও ডিমের বাড়তি খরচের সঙ্গে সবজির চড়া দাম যুক্ত হয়ে চাপে ফেলছে সাধারণ ক্রেতাদের। মৌসুমের সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও আপাতত বাজারে তার প্রতিফলন নেই। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের বাজার সামলানোই হয়ে উঠছে কঠিন।























