মাছ ধরতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না, বজ্রপাতে প্রাণ গেল ছয়জনের

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
পাবনার সোনাপাতিল বিলে বিকেলটা শুরু হয়েছিল মাছ ধরার আনন্দ নিয়ে। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি আর বজ্রপাত মুহূর্তেই কেড়ে নিল ছয়টি প্রাণ। বাঁচতে কয়েকজন আশ্রয় নিয়েছিলেন একটি পলিথিনের ঘরে। সেখানেই বজ্রপাতের আঘাতে নিভে গেল ছয় কিশোর-তরুণের জীবন। আহত আরও কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
শুক্রবার বিকেল। পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতিল বিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন কয়েকজন কিশোর ও তরুণ। হয়তো মাছ ধরে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু হঠাৎ আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামে। শুরু হয় বজ্রপাত। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে কয়েকজন একটি পলিথিনের ঘরে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেই আশ্রয়ই হয়ে ওঠে মৃত্যুফাঁদ। ঘরটিতে বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ছয়জন। আহত হন আরও কয়েকজন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
যাঁরা কিছুক্ষণ আগেও মাছ ধরতে ব্যস্ত ছিলেন, তাঁদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলোর জন্য মুহূর্তেই সবকিছু বদলে গেল। স্বজনদের কাছে খবরটি কতটা আকস্মিক ও বেদনাদায়ক, তা সহজেই অনুমেয়।
আশ্রয় নিয়েও রক্ষা হলো না
মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু জানান, বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে কয়েকজন একটি পলিথিনের ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় সেখানে বজ্রপাত হলে ছয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা কিশোর ও তরুণ।
বজ্রপাতের পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
তবে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, নিহত ও আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ সদস্যদের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুহূর্তের বজ্রপাত, পরিবারের জন্য দীর্ঘ শোক
বজ্রপাতের মতো আকস্মিক দুর্যোগে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই একটি পরিবার হারাতে পারে তার প্রিয়জনকে। শুক্রবারের এই ঘটনাও সেই নির্মম বাস্তবতা সামনে এনেছে।
বিলে মাছ ধরতে যাওয়া মানুষগুলোর মধ্যে যাঁরা আর ফিরতে পারেননি, তাঁদের জন্য অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের জীবনে নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি। আর আহতদের পরিবার এখন অপেক্ষা করছে তাঁদের সুস্থ হয়ে ফেরার আশায়।
ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় খোলা বিল, মাঠ কিংবা জলাশয়ে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ, মজবুত ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া জরুরি। পলিথিনের ঘর বা অন্যান্য অস্থায়ী আশ্রয়কে বজ্রপাত থেকে নিরাপদ মনে করা উচিত নয়।
সোনাপাতিল বিলের এই দুর্ঘটনায় ছয়টি প্রাণ ঝরে গেল মুহূর্তেই। মাছ ধরতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না তাঁদের। এখন শোকাহত স্বজনদের জন্য এই আকস্মিক ক্ষতি মেনে নেওয়াই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা।





















