বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ
পাকিস্তান থেকে আসা ১৫০ টন তামাক আটক, রাজস্ব ফাঁকির সন্দেহ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ১৫০ টন কাঁচা তামাকের একটি চালান চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে দিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পণ্যের পরিমাণে অসংগতি এবং রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কায় চালানটি আটকে দেওয়া হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর চালানটি বন্দরে পৌঁছালেও এখনো শুল্কায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
এদিকে তামাক প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল লিফ ট্যোবাকো লিমিটেড’ পরিদর্শনে কাঁচা ও সেমি-প্রক্রিয়াজাত তামাকের হিসাবেও বড় ধরনের অসংগতি পেয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। প্রাথমিক হিসাবে, এসব পণ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদায়যোগ্য মূল্য সংযোজন করের (মূসক) পরিমাণ ৩ কোটি ২৯ লাখ ৯ হাজার টাকা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে সিজিও ভবন-২-এ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
কাঁচা তামাক কম, প্রক্রিয়াজাত তামাক বেশি
কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ২৮ অক্টোবর কাস্টমস এক্সাইজের ২৮ সদস্যের একটি দল গ্লোবাল লিফ ট্যোবাকো লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শন করে। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল, উৎপাদিত পণ্য, মজুত এবং সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই করা হয়।
পরিদর্শনে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬৯ কেজি কাঁচা তামাকের ঘাটতি পাওয়া যায়। বিপরীতে, ১৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৭২ কেজি সেমি-প্রক্রিয়াজাত তামাক বেশি পাওয়া যায়। এই দুই ধরনের পণ্যের হিসাবের অসংগতির বিপরীতে আদায়যোগ্য মূসকের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ২৯ লাখ ৯ হাজার টাকা।
কেন কাঁচা তামাকের পরিমাণ হিসাবের চেয়ে কম এবং সেমি-প্রক্রিয়াজাত তামাক বেশি পাওয়া গেল, তার ব্যাখ্যা ও বৈধ কাগজপত্র যাচাই করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের সন্দেহ
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ বলেন, বন্ড লাইসেন্স সুবিধার অপব্যবহারের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। কিছু আমদানি করা পণ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আবার কিছু পণ্য হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি পাওয়া গেছে, যার পক্ষে প্রতিষ্ঠানটি বৈধ দলিল দেখাতে পারেনি।
বন্ড সুবিধার আওতায় নির্দিষ্ট শর্তে আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক-কর ছাড় পাওয়া যায়। এ সুবিধার অপব্যবহার হলে সরকার রাজস্ব হারাতে পারে। তবে গ্লোবাল লিফ ট্যোবাকো লিমিটেডের ক্ষেত্রে ঠিক কীভাবে এই সুবিধার অপব্যবহার হয়েছে এবং এতে কত টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
পাকিস্তান থেকে আসা চালানেও নজরদারি
কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তান থেকে আসা তামাকের চালানটি গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে এবং ১৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। বন্দরে পৌঁছানোর পর চালানটির বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়া হয়। তবে কাস্টমসের শুল্কায়ন প্রক্রিয়া তখনো শুরু হয়নি।
চালানটি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করেন। পণ্যের পরিমাণ, আমদানিসংক্রান্ত নথি ও শুল্ক-কর পরিশোধের বিষয়গুলো যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
৪৯৫ কোটি টাকার সিগারেট উৎপাদনের সম্ভাবনা
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আটক করা ১৫০ টন কাঁচা তামাক দিয়ে ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা প্রিমিয়াম সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব। এসব সিগারেটের সম্ভাব্য খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ৪৯৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
তবে এই অঙ্ক সম্ভাব্য উৎপাদন ও খুচরা বাজারমূল্যের হিসাব; এটি সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নয়। প্রকৃত রাজস্ব ঝুঁকি নির্ধারণে আমদানির নথি, পণ্যের শ্রেণি, প্রযোজ্য শুল্ক-কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হিসাব যাচাই প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তান থেকে আসা তামাকের চালান আটক এবং কারখানায় বিপুল পরিমাণ পণ্যের হিসাবের অসংগতি বন্ড সুবিধার ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখন তদন্তে নির্ধারণ করতে হবে, এসব অসংগতির পেছনে হিসাবরক্ষণে ভুল, নথিপত্রের ঘাটতি, নাকি শুল্ক-কর ফাঁকির কোনো চেষ্টা ছিল। পাশাপাশি দায় নির্ধারণ ও সম্ভাব্য রাজস্ব আদায়ে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।





















