ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন:
সিইসি ও ইসি সচিবের বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগ গোলাম পরওয়ারের

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০৩:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়মকারীদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা কার্যত অনিয়মকারীদের পক্ষ নিয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা থেকে খুলনা–কুষ্টিয়া অভিমুখে অনুষ্ঠেয় লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি ও অগ্রগতি জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সচিব ও প্রধান যদি অনিয়মকে অস্বীকার করেন, তাহলে বুঝতে হবে যাঁরা অনিয়ম করেছেন, তাঁদের সঙ্গে সিইসি ও ইসি সচিবের আঁতাত রয়েছে। তাঁরা সাংবিধানিক পদে বসে এই পদের প্রতি সুবিচার করেননি।’
বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেছিলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে।
একই দিন নির্বাচন ভবনে উপনির্বাচনের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল পর্যবেক্ষণ শেষে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীনও নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে নির্বাচন কমিশনের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, ভোট গ্রহণের সময় একাধিক অনিয়ম ঘটলেও কমিশন সেগুলো যথাযথভাবে আমলে নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের কেউ কেউ পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছাড়াই দায়িত্ব পালন করেছেন। এ বিষয়ে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাড়াহুড়া করে কাগজে কলম দিয়ে নিজেদের পরিচয় লিখে পকেটে রাখেন বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো নিয়োগপত্রও দেখাতে পারেননি। ফলে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা কর্মকর্তা কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ ছিল না।
উপনির্বাচনে আগে থেকেই ব্যালট পেপারে সিল মারা, জাল ভোট দেওয়া এবং ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেন জামায়াতের এই নেতা।
তিনি দাবি করেন, কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা না করেই পুলিশের গাড়িতে করে চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় দাঁড়িপাল্লার ভোটাররা গাড়ি থামিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, এসব ঘটনার পরও ইসি সচিব অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্য অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার শামিল।
তবে উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে আরও অনেক তথ্য আসছে। সেগুলো পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হবে।























