চাহিদা মিটিয়ে ডিম রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
দেশে ডিমের উৎপাদন বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সক্ষমতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ লক্ষ্য অর্জনে উন্নত মানের ডিম উৎপাদন, উৎপাদন খরচ কমানো এবং পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের তুলা ভবন মিলনায়তনে বিশ্ব ডিম দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করা হয়েছে, যা দেশের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি। মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করা গেলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ডিম রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে পোলট্রি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এ খাতে উৎপাদন খরচ কমানো জরুরি। বিশেষ করে পোলট্রি ফিডের দাম সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা রাখতে হবে।
ফিডে কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করার জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তুলনামূলক কম খরচে ডিম থেকে প্রোটিন পাওয়া যায়। ডিম সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি করে ডিম রাখা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
পোলট্রি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণদের এ শিল্পে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁদের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পোলট্রি শিল্পকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকায় হাঁস-মুরগি বিতরণ করেছিলেন। একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০১ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থাকাকালে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করেছিলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নারীদের হাঁস-মুরগি পালনে উৎসাহিত করা গেলে তাঁরা পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি ডিম বিক্রি করে আয় করতে পারবেন। এতে তাঁদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়বে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে নারীদের আর্থিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে।
আগামী দিনে প্রান্তিক পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়াতে সরকার কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
পোলট্রি খামারের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর বিষয়েও সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, খামারগুলোকে কীভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে সরকার সহযোগিতা করবে।
এর আগে বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে র্যালি ও বিনামূল্যে ডিম বিতরণ করা হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল যৌথভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘ডিমে পুষ্টি, ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগমুক্তি’।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের আহ্বায়ক মসিউর রহমান এবং ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মো. সিরাজুল হক।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক কৃষিবিদ মোহাঃ রেজাউল আমিন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমানসহ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ডা. বাপন দে।

























