সিলেটে হামের চাপ, শয্যা সংকটে এক বিছানায় একাধিক শিশু

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
সিলেটে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় এক শয্যায় একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেক শিশুর চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের মেঝেতেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে শয্যা বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে হাম চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংক্রমণ বাড়তে থাকায় চলতি বছরের মার্চ থেকে ১০০ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে হামের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত করা হয়। পরে মে মাস থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৮৫টি শয্যাও এ চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
কিন্তু দুই হাসপাতালে মোট ১৮৫টি শয্যা থাকলেও সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৩৬৯ জন হাম আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগী। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৮৫ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮৪ জন ভর্তি ছিলেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হামের চিকিৎসার জন্য নতুন করে ১২১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে বিভাগে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২১ জনে। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯১ জনে।
শয্যা সংকটে এক বিছানায় একাধিক শিশু
রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দুটি শয্যা একত্র করে চার শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অনেককে রাখা হচ্ছে মেঝেতে।
হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান বলেন, রোগী এলে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এ অবস্থায় দুটি শয্যা একত্র করে চার শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। জায়গা না থাকায় অনেক রোগীকে মেঝেতেও রাখতে হচ্ছে।
তিনি জানান, হাসপাতালের শয্যা বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
টিকাদানের পরও সংক্রমণ, আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন বয়সীরা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটে হামের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর একাধিকবার টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। তারপরও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। টিকা নেওয়ার পরও অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি কিশোর, তরুণ ও অন্যান্য বয়সের মানুষের মধ্যেও সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যুর তথ্যও পাওয়া গেছে।
ওসমানী হাসপাতালেও রোগীর চাপ কয়েক গুণ
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও নির্ধারিত শয্যার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন। এত চাপের মধ্যেও চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও জানান, হামের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধের কোনো সংকট নেই।
শয্যার সংকট, ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে সিলেটে হামের পরিস্থিতি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। দ্রুত শয্যা বাড়ানো ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।























