ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে ১৬০ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় সিসিটিভি শেষ তুলির আঁচড়ে দুর্গাপ্রতিমায় প্রাণ, উৎসবের অপেক্ষায় ইসলামপুর নোয়াখালীতে হাসপাতালের জানালার গ্রিল কেটে ৯ লাখ টাকা চুরি চাহিদা মিটিয়ে ডিম রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী প্রবাসীদের হয়রানি নিরসনে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা, শিগগিরই চালু যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলের অভিযোগ, বিচার দাবিতে মানববন্ধন সিলেটে হামের চাপ, শয্যা সংকটে এক বিছানায় একাধিক শিশু শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা কি চাইলেই করা যায়? রয়েছে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমল ৩,২৬৬ টাকা

শেষ তুলির আঁচড়ে দুর্গাপ্রতিমায় প্রাণ, উৎসবের অপেক্ষায় ইসলামপুর

লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুয়ারে কড়া নাড়ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে রং-তুলির আঁচড়ে ধীরে ধীরে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা। দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে এবং গমন নৌকায়। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বোধনের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের মূল আয়োজন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব মণ্ডপেই চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমার সাজসজ্জা, কোথাও রং করার কাজ, আবার কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজানোর ব্যস্ততা। দেবী দুর্গা, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, সিংহ ও শিবের মূর্তিতে শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার পালা।

এবার ইসলামপুর উপজেলায় ২১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হবে। আয়োজকদের প্রস্তুতিতে যেমন রয়েছে উৎসবের আমেজ, তেমনি প্রতিমা নির্মাণেও দেখা যাচ্ছে বৈচিত্র্য ও নতুনত্বের ছোঁয়া।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোবিন্দবাড়ী, পুদ্দারবাড়ী, সেনবাড়ী, হরিসভা, কাসারীপাড়া ও কামারপাড়াসহ পৌর শহর ও বিভিন্ন এলাকায় ২১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিমাশিল্পী হৃদয় সূত্রধর বলেন, দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করা হচ্ছে। শেষ সময়ে এসে কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। অনেক শিল্পীকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। নিজের হাতে তৈরি প্রতিমা মণ্ডপে স্থাপনের পর ভক্তদের পূজা করতে দেখলেই দীর্ঘ পরিশ্রম সার্থক মনে হয়।

খরচ বেড়েছে, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

পূজার আয়োজকেরা জানান, প্রতিমা তৈরি, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও অন্যান্য খাতে এবার ব্যয় বেড়েছে। তারপরও ধর্মীয় উৎসবকে আনন্দমুখর করে তুলতে চলছে নানা আয়োজন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনে সরকারি সহায়তা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. জুবায়ের বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন তৎপর থাকবে।

সব প্রস্তুতি শেষে রং-তুলির শেষ আঁচড়ে যখন প্রতিমাগুলো পূর্ণতা পাবে, তখনই শুরু হবে অপেক্ষার অবসান। ঢাকের বাদ্য, পূজা-অর্চনা আর আনন্দ-উৎসবে মুখর হয়ে উঠবে ইসলামপুরের পূজামণ্ডপগুলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শেষ তুলির আঁচড়ে দুর্গাপ্রতিমায় প্রাণ, উৎসবের অপেক্ষায় ইসলামপুর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

দুয়ারে কড়া নাড়ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে রং-তুলির আঁচড়ে ধীরে ধীরে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা। দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে এবং গমন নৌকায়। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বোধনের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের মূল আয়োজন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব মণ্ডপেই চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমার সাজসজ্জা, কোথাও রং করার কাজ, আবার কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজানোর ব্যস্ততা। দেবী দুর্গা, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, সিংহ ও শিবের মূর্তিতে শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার পালা।

এবার ইসলামপুর উপজেলায় ২১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হবে। আয়োজকদের প্রস্তুতিতে যেমন রয়েছে উৎসবের আমেজ, তেমনি প্রতিমা নির্মাণেও দেখা যাচ্ছে বৈচিত্র্য ও নতুনত্বের ছোঁয়া।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোবিন্দবাড়ী, পুদ্দারবাড়ী, সেনবাড়ী, হরিসভা, কাসারীপাড়া ও কামারপাড়াসহ পৌর শহর ও বিভিন্ন এলাকায় ২১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিমাশিল্পী হৃদয় সূত্রধর বলেন, দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করা হচ্ছে। শেষ সময়ে এসে কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। অনেক শিল্পীকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। নিজের হাতে তৈরি প্রতিমা মণ্ডপে স্থাপনের পর ভক্তদের পূজা করতে দেখলেই দীর্ঘ পরিশ্রম সার্থক মনে হয়।

খরচ বেড়েছে, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

পূজার আয়োজকেরা জানান, প্রতিমা তৈরি, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও অন্যান্য খাতে এবার ব্যয় বেড়েছে। তারপরও ধর্মীয় উৎসবকে আনন্দমুখর করে তুলতে চলছে নানা আয়োজন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনে সরকারি সহায়তা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. জুবায়ের বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন তৎপর থাকবে।

সব প্রস্তুতি শেষে রং-তুলির শেষ আঁচড়ে যখন প্রতিমাগুলো পূর্ণতা পাবে, তখনই শুরু হবে অপেক্ষার অবসান। ঢাকের বাদ্য, পূজা-অর্চনা আর আনন্দ-উৎসবে মুখর হয়ে উঠবে ইসলামপুরের পূজামণ্ডপগুলো।