ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলিশ বন্ধে মাছের বাজারে আগুন, বাড়তি চাপে ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকায় সাগর-নদীতে মাছ ধরার তৎপরতা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সরবরাহেও। ফলে চাহিদার চাপ বেড়েছে চাষের মাছ ও খাল-বিলের মাছের ওপর। আগে থেকেই চড়া বাজারে সরবরাহ কমার প্রভাব পড়েছে দামে—রুই-কাতলা থেকে শুরু করে নদীর সুস্বাদু মাছ, সবই কিনতে হচ্ছে বাড়তি টাকায়।

বিক্রেতাদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মাছ আহরণের খরচ বেড়েছে। তার সঙ্গে সরবরাহের ঘাটতি যুক্ত হয়ে আরও চড়া হয়েছে বাজার। তবে বাড়তি দামের চাপে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন সীমিত আয়ের ক্রেতারা।

রুই-কাতলায় বাড়তি ৫০ টাকা, নদীর মাছে ২০০

চাষের রুই-কাতলার দাম কেজিতে ৫০ টাকার বেশি বেড়েছে। নদ-নদীর বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাদু মাছ কিনতে গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে।

ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকায় অন্যান্য মাছের সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার চাপ এখন বিকল্প মাছের বাজারে। ফলে ক্রেতাদের পছন্দের মাছ কিনতেও বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও স্বস্তি নেই

মাছের পাশাপাশি পোল্ট্রি বাজারেও দাম চড়া। দেশি মুরগির দাম কিছুটা কমলেও কেজি ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

তুলনামূলক কম দামের আশায় ব্রয়লার মুরগির দিকে ঝুঁকছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। কিন্তু সেখানেও কেজিপ্রতি দাম হাঁকা হচ্ছে ১৯০ টাকা। সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ৩৪০ টাকার নিচে নামছে না।

বিক্রেতারা বলছেন, পোল্ট্রি ফিডের দাম বাড়ায় মুরগির বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে।

গরুর মাংসের দাম স্থির, খাসিতে কিছুটা কমতি

গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে খাসির মাংসে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। কেজিতে ১০০ টাকা কমে এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়।

তবু উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবারের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় গরু বা খাসির মাংস রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ডজনপ্রতি ডিম ১৫০ টাকা

ডিমের বাজারেও কমেনি দামের উত্তাপ। গত সপ্তাহের মতোই রাজধানীর বড় বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৫০ টাকা। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।

পাড়া-মহল্লার দোকানে একই ডিম কিনতে আরও ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। ফলে মাছ-মাংসের পাশাপাশি তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎস ডিম কিনতেও বাড়তি ব্যয় হচ্ছে পরিবারগুলোর।

শীতের সবজি উঠছে, কমছে না দাম

বাজারে শীতকালীন সবজি আসতে শুরু করেছে। কিন্তু নতুন সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমার লক্ষণ নেই। উল্টো ফুলকপি ও করলার মতো কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

শিম, টমেটো ও ধনেপাতার দামও চড়া। বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে লেবু।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, মৌসুমের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে মাত্র। সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে বাড়তি দাম থাকলেও তার পুরো সুফল কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলে তাঁদের দাবি।

বাজারের বাড়তি খরচ, চাপে সাধারণ মানুষ

মাছের দাম বাড়ছে সরবরাহ সংকট ও আহরণ খরচের কারণে, মুরগির বাজারে চাপের জন্য দায়ী করা হচ্ছে পোল্ট্রি ফিডের মূল্যবৃদ্ধিকে। অন্যদিকে ডিম ও সবজির বাজারেও ক্রেতারা স্বস্তি পাচ্ছেন না।

একটি পণ্যের দাম বাড়লে অনেক পরিবার অন্য পণ্যের দিকে ঝোঁকে। কিন্তু মাছ, মুরগি, ডিম ও সবজি—প্রায় সবখানেই বাড়তি খরচের চাপ থাকায় বিকল্প বেছে নেওয়াও কঠিন হয়ে উঠছে।

বিক্রেতারা সরবরাহ বাড়লে দাম কমার আশা দেখালেও ক্রেতাদের প্রশ্ন—কবে কমবে বাজারদর? কারণ বাজারে পণ্যের দাম বাড়লেও আয় তো একই গতিতে বাড়ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ইলিশ বন্ধে মাছের বাজারে আগুন, বাড়তি চাপে ক্রেতা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকায় সাগর-নদীতে মাছ ধরার তৎপরতা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সরবরাহেও। ফলে চাহিদার চাপ বেড়েছে চাষের মাছ ও খাল-বিলের মাছের ওপর। আগে থেকেই চড়া বাজারে সরবরাহ কমার প্রভাব পড়েছে দামে—রুই-কাতলা থেকে শুরু করে নদীর সুস্বাদু মাছ, সবই কিনতে হচ্ছে বাড়তি টাকায়।

বিক্রেতাদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মাছ আহরণের খরচ বেড়েছে। তার সঙ্গে সরবরাহের ঘাটতি যুক্ত হয়ে আরও চড়া হয়েছে বাজার। তবে বাড়তি দামের চাপে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন সীমিত আয়ের ক্রেতারা।

রুই-কাতলায় বাড়তি ৫০ টাকা, নদীর মাছে ২০০

চাষের রুই-কাতলার দাম কেজিতে ৫০ টাকার বেশি বেড়েছে। নদ-নদীর বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাদু মাছ কিনতে গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে।

ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকায় অন্যান্য মাছের সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার চাপ এখন বিকল্প মাছের বাজারে। ফলে ক্রেতাদের পছন্দের মাছ কিনতেও বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও স্বস্তি নেই

মাছের পাশাপাশি পোল্ট্রি বাজারেও দাম চড়া। দেশি মুরগির দাম কিছুটা কমলেও কেজি ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

তুলনামূলক কম দামের আশায় ব্রয়লার মুরগির দিকে ঝুঁকছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। কিন্তু সেখানেও কেজিপ্রতি দাম হাঁকা হচ্ছে ১৯০ টাকা। সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ৩৪০ টাকার নিচে নামছে না।

বিক্রেতারা বলছেন, পোল্ট্রি ফিডের দাম বাড়ায় মুরগির বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে।

গরুর মাংসের দাম স্থির, খাসিতে কিছুটা কমতি

গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে খাসির মাংসে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। কেজিতে ১০০ টাকা কমে এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়।

তবু উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবারের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় গরু বা খাসির মাংস রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ডজনপ্রতি ডিম ১৫০ টাকা

ডিমের বাজারেও কমেনি দামের উত্তাপ। গত সপ্তাহের মতোই রাজধানীর বড় বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৫০ টাকা। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।

পাড়া-মহল্লার দোকানে একই ডিম কিনতে আরও ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। ফলে মাছ-মাংসের পাশাপাশি তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎস ডিম কিনতেও বাড়তি ব্যয় হচ্ছে পরিবারগুলোর।

শীতের সবজি উঠছে, কমছে না দাম

বাজারে শীতকালীন সবজি আসতে শুরু করেছে। কিন্তু নতুন সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমার লক্ষণ নেই। উল্টো ফুলকপি ও করলার মতো কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

শিম, টমেটো ও ধনেপাতার দামও চড়া। বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে লেবু।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, মৌসুমের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে মাত্র। সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে বাড়তি দাম থাকলেও তার পুরো সুফল কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলে তাঁদের দাবি।

বাজারের বাড়তি খরচ, চাপে সাধারণ মানুষ

মাছের দাম বাড়ছে সরবরাহ সংকট ও আহরণ খরচের কারণে, মুরগির বাজারে চাপের জন্য দায়ী করা হচ্ছে পোল্ট্রি ফিডের মূল্যবৃদ্ধিকে। অন্যদিকে ডিম ও সবজির বাজারেও ক্রেতারা স্বস্তি পাচ্ছেন না।

একটি পণ্যের দাম বাড়লে অনেক পরিবার অন্য পণ্যের দিকে ঝোঁকে। কিন্তু মাছ, মুরগি, ডিম ও সবজি—প্রায় সবখানেই বাড়তি খরচের চাপ থাকায় বিকল্প বেছে নেওয়াও কঠিন হয়ে উঠছে।

বিক্রেতারা সরবরাহ বাড়লে দাম কমার আশা দেখালেও ক্রেতাদের প্রশ্ন—কবে কমবে বাজারদর? কারণ বাজারে পণ্যের দাম বাড়লেও আয় তো একই গতিতে বাড়ছে না।