দুই মাসে হাজার মাঠ, প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠের নির্দেশ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য দেশজুড়ে খেলার সুযোগ বাড়াতে বড় উদ্যোগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার পাশাপাশি আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে কমপক্ষে ১ হাজার নতুন খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণ নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে মাঠ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে সেখানে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়।
৪ হাজার ৫৯৯ ইউনিয়নে মাঠ
নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২৭টি জেলায় ৪০৩টি খাসজমি মাঠের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি মাঠের আয়তন হবে সর্বনিম্ন ৩ বিঘা থেকে সর্বোচ্চ ৮ বিঘা। মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী, খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে খেলায় যুক্ত করার পরিকল্পনা
ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
দখল হওয়া মাঠ উদ্ধারের নির্দেশ
বৈঠকে শুধু নতুন মাঠ নির্মাণ নয়, বিদ্যমান মাঠগুলো রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার, উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল করা এবং সেগুলোকে নিয়মিত খেলাধুলার উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাব কার্যক্রম চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুর ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমীন উপস্থিত ছিলেন।























