নভেম্বরের মধ্যেই ছাড়তে হবে ৫ হাজার কোটি, তাগাদা ব্যাংকগুলোকে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল পড়ে থাকুক, তা চাইছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। দ্রুত অর্থ ছাড় করে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ডেপুটি গভর্নরের উপস্থিতিতে সিএমএসএমই খাতের জন্য চুক্তিবদ্ধ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে ৩৪টি ব্যাংক ও ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা অংশ নেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।
৫ হাজার কোটির বিপরীতে গেছে ৪৫০ কোটি
ক্ষুদ্র, কুটির ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চলতি মূলধনের চাহিদা মেটাতে কম সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বরের দিকে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে চুক্তি সইয়ের পর ঋণ বিতরণ শুরু হলেও প্রথম দুই সপ্তাহে বিতরণ হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা।
অর্থাৎ মোট ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিলের তুলনায় এখন পর্যন্ত বিতরণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। এ অবস্থায় নভেম্বরের মধ্যেই পুরো লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে গতি বাড়াতে বলা হয়েছে।
মাসরুর আরেফিন বলেন, এটি প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যকর একটি স্কিম। এর মাধ্যমে তারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী সুদে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে পারবেন।
তরুণদের ব্যবসায় নামাতে ‘উদ্যোগ’
শুধু প্রতিষ্ঠিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নয়, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিভাগের কয়েকটি নির্বাচিত জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি চলছে। তবে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় উপজেলা, ইউনিয়ন ও জেলা পর্যায়ে প্রচারণা বাড়ানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।
এই প্রকল্পে তরুণ উদ্যোক্তাদের সিএসআর তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা এবং ঋণ হিসেবে আরও ১০ লাখ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ২১ বছর বা তার কম বয়সী তরুণদের এ উদ্যোগের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজেও নজর
বন্ধ ও অর্ধবন্ধ শিল্পকারখানা চালু করতে সরকারের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ থেকে অর্থ বিতরণ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
এ অর্থ ছাড়ে ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে মাসরুর আরেফিন বলেন, ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতার প্রশ্ন নেই। তবে ঋণ দেওয়ার পর সেটি যেন আবার খেলাপি ঋণে পরিণত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
তার ভাষায়, শুধু লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ঋণ বিতরণ করলেই হবে না; অর্থায়ন করতে হবে বাস্তবসম্মত, অর্থবহ ও টেকসই প্রকল্পে।
কারখানা আছে, অর্থায়নের উপযুক্ত প্রকল্প কোথায়?
বন্ধ, অর্ধবন্ধ কিংবা সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদনে থাকা কারখানাগুলোকে সচল করতে ব্যাংকগুলো কাজ করছে। তবে এ খাতে অর্থায়নের জন্য উপযুক্ত প্রকল্প খুঁজে পাওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাসরুর আরেফিন বলেন, ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলেই এসব অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে। তাই জনগণের অর্থ যেন প্রকৃত উদ্যোক্তা ও প্রয়োজনীয় খাতে পৌঁছায়, সেটিই এখন মূল লক্ষ্য।























