ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইকেল চালান? অজান্তেই কমতে পারে শুক্রাণু

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাইক্লিং শরীরচর্চার দারুণ একটি মাধ্যম। ওজন নিয়ন্ত্রণ, হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখা, পেশির শক্তি বাড়ানো কিংবা মানসিক চাপ কমানো—নিয়মিত সাইকেল চালানোর রয়েছে নানা উপকার। দৌড়ের তুলনায় হাঁটু ও অন্যান্য জয়েন্টেও তুলনামূলক কম চাপ পড়ে।

তবে দীর্ঘসময় সাইকেলের প্যাডেলে থাকা পুরুষদের জন্য রয়েছে একটি প্রশ্ন—অতিরিক্ত সাইক্লিং কি প্রজননস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইক্লিং নিজে বন্ধ্যত্বের কারণ নয়। মাঝারি মাত্রায় সাইকেল চালালে পুরুষের ফার্টিলিটি নষ্ট হয়, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। ঝুঁকি মূলত দেখা দিতে পারে নিয়মিত দীর্ঘসময় বা অত্যন্ত তীব্র গতিতে সাইক্লিংয়ের ক্ষেত্রে।

কতটা সাইক্লিংয়ে বাড়তে পারে ঝুঁকি?

মাঝেমধ্যে অল্প সময় সাইকেল চালানো আর প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কঠিন ওয়ার্কআউট করা এক বিষয় নয়।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি সাইক্লিং করা পুরুষদের মধ্যে শুক্রাণুর ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং কম গতিশীল শুক্রাণুর ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ফার্টিলিটি ঠিক রাখতে পুরুষদের সাইক্লিং পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। বরং অতিরিক্ত ও দীর্ঘসময় সাইক্লিংয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়াই মূল বিষয়।

বিপদের জায়গা হতে পারে সাইকেলের সিট

দীর্ঘক্ষণ সাইকেলের সিটে বসে থাকলে শরীরের দুই পায়ের মাঝের অংশ—পেরিনিয়ামে—একটানা চাপ পড়ে। সিটের চাপ ও ঘর্ষণের পাশাপাশি ওই এলাকায় তাপমাত্রাও বেড়ে যেতে পারে।

অণ্ডকোষের আশপাশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হলে শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

শুধু তাপমাত্রা নয়, ভুল ধরনের সিট বা দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকার কারণেও ওই অঞ্চলের স্নায়ু ও রক্তনালিতে চাপ পড়তে পারে। এতে সাময়িকভাবে রক্তসঞ্চালন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

দীর্ঘদিন এমন চাপ চলতে থাকলে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা ও গঠনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রভাবটা সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না

আজ থেকে বেশি সাইকেল চালানো শুরু করলেন, আর কয়েক দিনের মধ্যেই শুক্রাণুর মানে বড় পরিবর্তন দেখা গেল—বিষয়টি এমন নয়।

শুক্রাণু তৈরি ও পরিণত হতে প্রায় আড়াই থেকে তিন মাস সময় লাগে। ফলে জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তনের প্রভাব বীর্যের গুণমানে ধরা পড়তে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ নয়, কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

কিছু গবেষণায় অতিরিক্ত সাইক্লিংয়ের সঙ্গে বীর্যে প্রদাহজনিত উপাদান ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধির সম্পর্কও পাওয়া গেছে। এগুলো শুক্রাণুর ঘনত্ব, গতিশীলতা ও গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।

তাহলে কি সাইক্লিং বন্ধ করে দিতে হবে?

না। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মাঝারি মাত্রার সাইক্লিং সাধারণত নিরাপদ বলেই বিবেচিত হয়। নিয়মিত শরীরচর্চা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সামগ্রিক শারীরিক ও যৌনস্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক।

তবে যারা দীর্ঘসময় বা খুব জোরে সাইকেল চালান, তাদের কিছু বিষয়ে বাড়তি নজর দেওয়া দরকার।

পেরিনিয়ামে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না—এমন সিট ব্যবহার করা
একটানা দীর্ঘসময় সিটে না বসে মাঝে বিরতি নেওয়া
প্রয়োজনমতো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে প্যাডেল করা
সঠিক বসার ভঙ্গি বজায় রাখা
শরীরের অস্বস্তি বা ব্যথার সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া
ফার্টিলিটির জন্য কেমন ব্যায়াম ভালো?

পুরুষের ফার্টিলিটি ও যৌনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠিন শরীরচর্চার চেয়ে নিয়মিত ও পরিমিত ব্যায়াম বেশি উপযোগী।

সপ্তাহে প্রায় ১৫০ থেকে ১৮০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে প্রতিদিন অতিরিক্ত সময় ধরে অত্যন্ত কঠিন ওয়ার্কআউট করলে শরীরে বাড়তি শারীরিক চাপ তৈরি হতে পারে।

ভয় নয়, দরকার সচেতনতা

সাইক্লিং বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং যারা নিয়মিত সাইকেল চালান, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো কতক্ষণ চালাচ্ছেন, কী ধরনের সিট ব্যবহার করছেন এবং কতটা বিরতি নিচ্ছেন—এসবের দিকে নজর রাখা।

বিশেষ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা অত্যন্ত তীব্র গতিতে সাইক্লিংয়ের অভ্যাস থাকলে পেরিনিয়ামের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং প্রয়োজনমতো বিরতি নেওয়া জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সাইকেল চালান? অজান্তেই কমতে পারে শুক্রাণু

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

সাইক্লিং শরীরচর্চার দারুণ একটি মাধ্যম। ওজন নিয়ন্ত্রণ, হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখা, পেশির শক্তি বাড়ানো কিংবা মানসিক চাপ কমানো—নিয়মিত সাইকেল চালানোর রয়েছে নানা উপকার। দৌড়ের তুলনায় হাঁটু ও অন্যান্য জয়েন্টেও তুলনামূলক কম চাপ পড়ে।

তবে দীর্ঘসময় সাইকেলের প্যাডেলে থাকা পুরুষদের জন্য রয়েছে একটি প্রশ্ন—অতিরিক্ত সাইক্লিং কি প্রজননস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইক্লিং নিজে বন্ধ্যত্বের কারণ নয়। মাঝারি মাত্রায় সাইকেল চালালে পুরুষের ফার্টিলিটি নষ্ট হয়, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। ঝুঁকি মূলত দেখা দিতে পারে নিয়মিত দীর্ঘসময় বা অত্যন্ত তীব্র গতিতে সাইক্লিংয়ের ক্ষেত্রে।

কতটা সাইক্লিংয়ে বাড়তে পারে ঝুঁকি?

মাঝেমধ্যে অল্প সময় সাইকেল চালানো আর প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কঠিন ওয়ার্কআউট করা এক বিষয় নয়।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি সাইক্লিং করা পুরুষদের মধ্যে শুক্রাণুর ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং কম গতিশীল শুক্রাণুর ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ফার্টিলিটি ঠিক রাখতে পুরুষদের সাইক্লিং পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। বরং অতিরিক্ত ও দীর্ঘসময় সাইক্লিংয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়াই মূল বিষয়।

বিপদের জায়গা হতে পারে সাইকেলের সিট

দীর্ঘক্ষণ সাইকেলের সিটে বসে থাকলে শরীরের দুই পায়ের মাঝের অংশ—পেরিনিয়ামে—একটানা চাপ পড়ে। সিটের চাপ ও ঘর্ষণের পাশাপাশি ওই এলাকায় তাপমাত্রাও বেড়ে যেতে পারে।

অণ্ডকোষের আশপাশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হলে শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

শুধু তাপমাত্রা নয়, ভুল ধরনের সিট বা দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকার কারণেও ওই অঞ্চলের স্নায়ু ও রক্তনালিতে চাপ পড়তে পারে। এতে সাময়িকভাবে রক্তসঞ্চালন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

দীর্ঘদিন এমন চাপ চলতে থাকলে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা ও গঠনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রভাবটা সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না

আজ থেকে বেশি সাইকেল চালানো শুরু করলেন, আর কয়েক দিনের মধ্যেই শুক্রাণুর মানে বড় পরিবর্তন দেখা গেল—বিষয়টি এমন নয়।

শুক্রাণু তৈরি ও পরিণত হতে প্রায় আড়াই থেকে তিন মাস সময় লাগে। ফলে জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তনের প্রভাব বীর্যের গুণমানে ধরা পড়তে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ নয়, কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

কিছু গবেষণায় অতিরিক্ত সাইক্লিংয়ের সঙ্গে বীর্যে প্রদাহজনিত উপাদান ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধির সম্পর্কও পাওয়া গেছে। এগুলো শুক্রাণুর ঘনত্ব, গতিশীলতা ও গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।

তাহলে কি সাইক্লিং বন্ধ করে দিতে হবে?

না। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মাঝারি মাত্রার সাইক্লিং সাধারণত নিরাপদ বলেই বিবেচিত হয়। নিয়মিত শরীরচর্চা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সামগ্রিক শারীরিক ও যৌনস্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক।

তবে যারা দীর্ঘসময় বা খুব জোরে সাইকেল চালান, তাদের কিছু বিষয়ে বাড়তি নজর দেওয়া দরকার।

পেরিনিয়ামে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না—এমন সিট ব্যবহার করা
একটানা দীর্ঘসময় সিটে না বসে মাঝে বিরতি নেওয়া
প্রয়োজনমতো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে প্যাডেল করা
সঠিক বসার ভঙ্গি বজায় রাখা
শরীরের অস্বস্তি বা ব্যথার সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া
ফার্টিলিটির জন্য কেমন ব্যায়াম ভালো?

পুরুষের ফার্টিলিটি ও যৌনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠিন শরীরচর্চার চেয়ে নিয়মিত ও পরিমিত ব্যায়াম বেশি উপযোগী।

সপ্তাহে প্রায় ১৫০ থেকে ১৮০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে প্রতিদিন অতিরিক্ত সময় ধরে অত্যন্ত কঠিন ওয়ার্কআউট করলে শরীরে বাড়তি শারীরিক চাপ তৈরি হতে পারে।

ভয় নয়, দরকার সচেতনতা

সাইক্লিং বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং যারা নিয়মিত সাইকেল চালান, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো কতক্ষণ চালাচ্ছেন, কী ধরনের সিট ব্যবহার করছেন এবং কতটা বিরতি নিচ্ছেন—এসবের দিকে নজর রাখা।

বিশেষ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা অত্যন্ত তীব্র গতিতে সাইক্লিংয়ের অভ্যাস থাকলে পেরিনিয়ামের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং প্রয়োজনমতো বিরতি নেওয়া জরুরি।