ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন, সিসিটিভিতে শেষ দেখা ১৫ বছরের তাজমিনকে

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ধানক্ষেতজুড়ে মাড়ানো কচি ধানের চারা। কোথাও কোথাও গাছগুলো এমনভাবে নুয়ে আছে, যেন সেখানে কারও সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে। পাশেই পড়ে ছিল একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা। আরেকটু দূরের কাদামাখা জমিতে পাওয়া গেল ১৫ বছর বয়সী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগৎপুর এলাকার এই দৃশ্য স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের ধারণা, হামলাকারীর হাত থেকে বাঁচতে ধানক্ষেতের ভেতর ছোটাছুটি করে থাকতে পারে কিশোরীটি। তবে ঘটনাস্থলের চিহ্ন দেখে এমন ধারণা করা হলেও কী ঘটেছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কসংলগ্ন জগৎপুরের মানুমুড়া জঙ্গল এলাকার ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের কাছাকাছি রাস্তার পাশে পাওয়া যায় কুমিল্লা থ-১৩-০১১৪ নম্বরের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। উদ্ধার করা হয় একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও পোশাকের অংশবিশেষও। জামা দেখে মেয়ের পরিচয় শনাক্ত করেন বাবা আবদুল আলীম।

ধানক্ষেতে কী ঘটেছিল?

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, সকালে ধানক্ষেতের অবস্থা দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, সেখানে কেউ ধস্তাধস্তি করেছে। কাছে গিয়ে তাঁরা দেখেন, কাদার মধ্যে পড়ে আছে একটি মেয়ের মরদেহ। শরীরের বেশির ভাগ অংশ কাদায় ঢাকা ছিল; শুধু পিঠের অংশ দেখা যাচ্ছিল। স্থানীয় প্রবীণদের নিষেধে তাঁরা মরদেহের কাছে যাননি।

cc tv

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান জানান, প্রথমে রাস্তার পাশে উল্টে থাকা সিএনজিটি তাঁদের নজরে আসে। স্থানীয়রা সেটি সোজা করার পর প্রায় এক ঘণ্টা পরে পাশের ধানক্ষেতে মেয়েটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেওয়া হয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, তাজমিনের গলায় দড়ির মতো কিছু প্যাঁচানো ছিল এবং মরদেহটি উপুড় অবস্থায় পড়ে ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে গামছা পেঁচিয়ে হত্যার ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বাস থেকে নেমে আধা ঘণ্টা ছিলেন নূরজাহান হোটেলের সামনে

তাজমিনের শেষ গতিবিধি জানতে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেল এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা আইকনিক এক্সপ্রেসের একটি বাস থেকে হোটেলটির সামনে নামেন তিনি। তখন তাঁর পরনে গোলাপি রঙের পোশাক ছিল, কাঁধে ঝোলানো ছিল একটি ব্যাগ।

বাস থেকে নেমে হোটেলের পশ্চিম পাশে স্টেশনারি দোকানগুলোর দিকে যান তাজমিন। একটি দোকানে গিয়ে হাতে থাকা কোনো কিছু দোকানিকে দেখাতে দেখা যায় তাঁকে। দোকানি তাঁকে অন্যদিকে নির্দেশ করলে তিনি সেখান থেকে সরে যান।

সিসিটিভির তথ্যানুযায়ী, রাত সোয়া ১২টার দিকে হোটেল এলাকার সামনে থেকে তাঁকে চলে যেতে দেখা যায়। এরপর তিনি কোন দিকে গিয়েছিলেন, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। হোটেল এলাকা থেকে বের হওয়ার পর তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মরদেহের কাছাকাছি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধারের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। হোটেল এলাকার সামনে থেকে তিনি সিএনজি ভাড়া করেছিলেন কি না, কিংবা উদ্ধার হওয়া অটোরিকশাটির সঙ্গে তাঁর যাত্রার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

চার দিন ধরে বাড়ির বাইরে

তাজমিন কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স-ধানমন্ডি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তিনি কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা আবদুল আলীম একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তাঁদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা।

বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তাজমিন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বান্ধবীদের বাসায় আছেন বলে জানিয়েছিলেন।

তবে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাজমিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান। ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে আবার কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে যাত্রা শুরু করে রাত আনুমানিক রাত সোয়া ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন তিনি।

এরপর তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে মেয়ের কাছ থেকে একটি বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠানো হয়। সেখানে তাঁকে এসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তখন তিনি ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে বার্তা দেখার পর লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, তাঁর মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।

যাত্রাপথে কারা ছিল, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস জানান, তাজমিনের বাড়ি থেকে বের হওয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে যাওয়া এবং পরে কুমিল্লায় ফেরার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে। পদুয়ার বাজারে নামার পর তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যানিটি ব্যাগ, পোশাক এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তাজমিনের সঙ্গে ওই সময় অন্য কেউ ছিলেন কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় পরিচয় জানা যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা পোশাক দেখে পরিচয় শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

একটি কিশোরী কেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে কয়েকটি জেলা ঘুরে কুমিল্লায় ফিরেছিলেন, নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে চলে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, আর ধানক্ষেতের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিটির সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন, সিসিটিভিতে শেষ দেখা ১৫ বছরের তাজমিনকে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ধানক্ষেতজুড়ে মাড়ানো কচি ধানের চারা। কোথাও কোথাও গাছগুলো এমনভাবে নুয়ে আছে, যেন সেখানে কারও সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে। পাশেই পড়ে ছিল একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা। আরেকটু দূরের কাদামাখা জমিতে পাওয়া গেল ১৫ বছর বয়সী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগৎপুর এলাকার এই দৃশ্য স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের ধারণা, হামলাকারীর হাত থেকে বাঁচতে ধানক্ষেতের ভেতর ছোটাছুটি করে থাকতে পারে কিশোরীটি। তবে ঘটনাস্থলের চিহ্ন দেখে এমন ধারণা করা হলেও কী ঘটেছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কসংলগ্ন জগৎপুরের মানুমুড়া জঙ্গল এলাকার ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের কাছাকাছি রাস্তার পাশে পাওয়া যায় কুমিল্লা থ-১৩-০১১৪ নম্বরের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। উদ্ধার করা হয় একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও পোশাকের অংশবিশেষও। জামা দেখে মেয়ের পরিচয় শনাক্ত করেন বাবা আবদুল আলীম।

ধানক্ষেতে কী ঘটেছিল?

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, সকালে ধানক্ষেতের অবস্থা দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, সেখানে কেউ ধস্তাধস্তি করেছে। কাছে গিয়ে তাঁরা দেখেন, কাদার মধ্যে পড়ে আছে একটি মেয়ের মরদেহ। শরীরের বেশির ভাগ অংশ কাদায় ঢাকা ছিল; শুধু পিঠের অংশ দেখা যাচ্ছিল। স্থানীয় প্রবীণদের নিষেধে তাঁরা মরদেহের কাছে যাননি।

cc tv

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান জানান, প্রথমে রাস্তার পাশে উল্টে থাকা সিএনজিটি তাঁদের নজরে আসে। স্থানীয়রা সেটি সোজা করার পর প্রায় এক ঘণ্টা পরে পাশের ধানক্ষেতে মেয়েটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেওয়া হয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, তাজমিনের গলায় দড়ির মতো কিছু প্যাঁচানো ছিল এবং মরদেহটি উপুড় অবস্থায় পড়ে ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে গামছা পেঁচিয়ে হত্যার ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বাস থেকে নেমে আধা ঘণ্টা ছিলেন নূরজাহান হোটেলের সামনে

তাজমিনের শেষ গতিবিধি জানতে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেল এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা আইকনিক এক্সপ্রেসের একটি বাস থেকে হোটেলটির সামনে নামেন তিনি। তখন তাঁর পরনে গোলাপি রঙের পোশাক ছিল, কাঁধে ঝোলানো ছিল একটি ব্যাগ।

বাস থেকে নেমে হোটেলের পশ্চিম পাশে স্টেশনারি দোকানগুলোর দিকে যান তাজমিন। একটি দোকানে গিয়ে হাতে থাকা কোনো কিছু দোকানিকে দেখাতে দেখা যায় তাঁকে। দোকানি তাঁকে অন্যদিকে নির্দেশ করলে তিনি সেখান থেকে সরে যান।

সিসিটিভির তথ্যানুযায়ী, রাত সোয়া ১২টার দিকে হোটেল এলাকার সামনে থেকে তাঁকে চলে যেতে দেখা যায়। এরপর তিনি কোন দিকে গিয়েছিলেন, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। হোটেল এলাকা থেকে বের হওয়ার পর তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মরদেহের কাছাকাছি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধারের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। হোটেল এলাকার সামনে থেকে তিনি সিএনজি ভাড়া করেছিলেন কি না, কিংবা উদ্ধার হওয়া অটোরিকশাটির সঙ্গে তাঁর যাত্রার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

চার দিন ধরে বাড়ির বাইরে

তাজমিন কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স-ধানমন্ডি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তিনি কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা আবদুল আলীম একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তাঁদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা।

বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তাজমিন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বান্ধবীদের বাসায় আছেন বলে জানিয়েছিলেন।

তবে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাজমিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান। ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে আবার কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে যাত্রা শুরু করে রাত আনুমানিক রাত সোয়া ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন তিনি।

এরপর তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে মেয়ের কাছ থেকে একটি বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠানো হয়। সেখানে তাঁকে এসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তখন তিনি ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে বার্তা দেখার পর লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, তাঁর মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।

যাত্রাপথে কারা ছিল, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস জানান, তাজমিনের বাড়ি থেকে বের হওয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে যাওয়া এবং পরে কুমিল্লায় ফেরার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে। পদুয়ার বাজারে নামার পর তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যানিটি ব্যাগ, পোশাক এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তাজমিনের সঙ্গে ওই সময় অন্য কেউ ছিলেন কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় পরিচয় জানা যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা পোশাক দেখে পরিচয় শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

একটি কিশোরী কেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে কয়েকটি জেলা ঘুরে কুমিল্লায় ফিরেছিলেন, নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে চলে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, আর ধানক্ষেতের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিটির সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়।