ঢাকা ০৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের সুরক্ষায় দীর্ঘদিনের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। ৮৫ বছর বয়সী এই মানবাধিকারকর্মী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার নরওয়ের অসলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। কমিটির চেয়ারম্যান জর্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস জানান, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন এগিয়ে নিতে পিল্লাইয়ের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। <Cite refs={[“turn907458search1″,”turn907458search4”]}/>

ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্মগ্রহণ করেন। বর্ণবৈষম্যের সময় তিনি নিপীড়িত মানুষের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে যুক্ত হন। ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। দেশটির বিচারব্যবস্থায় প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারক হিসেবে তাঁর এই নিয়োগ ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

পরে আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। রুয়ান্ডা বিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করার সময় যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচারে ভূমিকা রাখেন। এরপর তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন পিল্লাই। এ সময় বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারহীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ নিয়ে কাজ করেন তিনি।

২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্বও দেন পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে পুরস্কার ঘোষণার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছে নোবেল কমিটি। <Cite refs=

এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পেয়েছিল নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। তাঁদের মধ্যে ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংস্থা—দুই ধরনের প্রার্থীই ছিলেন। কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, মনোনীতদের পূর্ণ তালিকা ৫০ বছর গোপন রাখা হয়।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাসে এ বছর ১২৫তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। গত বছর, ২০২৫ সালে, ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার পেয়েছিলেন।

নাভি পিল্লাইয়ের পুরস্কার আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের সুরক্ষায় দীর্ঘদিনের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। ৮৫ বছর বয়সী এই মানবাধিকারকর্মী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার নরওয়ের অসলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। কমিটির চেয়ারম্যান জর্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস জানান, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন এগিয়ে নিতে পিল্লাইয়ের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। <Cite refs={[“turn907458search1″,”turn907458search4”]}/>

ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্মগ্রহণ করেন। বর্ণবৈষম্যের সময় তিনি নিপীড়িত মানুষের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে যুক্ত হন। ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। দেশটির বিচারব্যবস্থায় প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারক হিসেবে তাঁর এই নিয়োগ ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

পরে আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। রুয়ান্ডা বিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করার সময় যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচারে ভূমিকা রাখেন। এরপর তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন পিল্লাই। এ সময় বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারহীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ নিয়ে কাজ করেন তিনি।

২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্বও দেন পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে পুরস্কার ঘোষণার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছে নোবেল কমিটি। <Cite refs=

এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পেয়েছিল নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। তাঁদের মধ্যে ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংস্থা—দুই ধরনের প্রার্থীই ছিলেন। কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, মনোনীতদের পূর্ণ তালিকা ৫০ বছর গোপন রাখা হয়।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাসে এ বছর ১২৫তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। গত বছর, ২০২৫ সালে, ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার পেয়েছিলেন।

নাভি পিল্লাইয়ের পুরস্কার আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।