ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ট্রাম্পের নৈশভোজে তারেক-জুবাইদার ছবি প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে সময়সীমা বলা সম্ভব নয়: দীনেশ ত্রিবেদী মহেশপুরে ড্রাগন বাগানে ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্টে’ কিশোরের মৃত্যু হামের সংক্রমণ কমার বদলে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে, একদিনে আরও ৮ মৃত্যু ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ১ হাজার ৬০৮ জানুয়ারিতে নতুন বই, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে ইউনিফর্ম: শিক্ষামন্ত্রী অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেবে না বিএনপি সরকার : সালাউদ্দিন টুকু ‘শেখ হাসিনাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া ছাড়া তখন ভারতের সামনে বিকল্প ছিল না’ বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে গুলশান-চট্টগ্রাম ক্লাবের ক্রীড়া উৎসব বিয়ে-তালাকের তথ্য যাবে অনলাইনে, কমবে গোপন বিয়ে

হামের সংক্রমণ কমার বদলে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে, একদিনে আরও ৮ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে হামের পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি এখন শুধু নতুন আক্রান্তের সংখ্যা নয়, সংক্রমণের সঙ্গে মৃত্যুর ধারাবাহিকতা। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আটজনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ১৫২ জনের নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পরিস্থিতির ব্যাপকতাকে সামনে এনেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনের তথ্যও একই চিত্র দেখাচ্ছে।

১৫ মার্চ থেকে হিসাব করলে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২২ জনে। তবে এই সংখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০২ জন, আর ১ হাজার ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর বড় অংশ এখনো পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের মৃত্যু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ নয়। ফলে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে ‘নিশ্চিত হাম’ ও ‘হামসদৃশ উপসর্গ’—দুই তথ্যকে আলাদা করে দেখা জরুরি।

আক্রান্তের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত এক দিনে শনাক্ত হওয়া ১ হাজার ১৫২ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম ৪৩ জন, আর ১ হাজার ১০৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৬৬৬ জন; বিপরীতে হামসদৃশ উপসর্গের সংখ্যা ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৯৭। সব মিলিয়ে দুই শ্রেণিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৮৬৩ জন।

এই ব্যবধানটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিপুলসংখ্যক রোগী উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, কিন্তু তাদের সবাই পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম হিসেবে চিহ্নিত নন। তাই বর্তমান পরিস্থিতির প্রকৃত মাত্রা বুঝতে পরীক্ষার সক্ষমতা, রোগ শনাক্তকরণ এবং রিপোর্টিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আলাদা হাম-প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মেও দৈনিক তথ্য যাচাই ও স্থানীয় রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে রিপোর্ট করার নির্দেশনা রয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো হাসপাতালমুখী রোগীর সংখ্যা। ১৫ মার্চ থেকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অর্থাৎ এই প্রাদুর্ভাব শুধু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়াচ্ছে না, একই সঙ্গে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও বড় চাপ তৈরি করছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া আটজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ তথ্য ঢাকাকেন্দ্রিক রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও মৃত্যুর প্রবণতাকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করছে। তবে শুধু এই এক দিনের তথ্য দিয়ে ঢাকাকে সার্বিকভাবে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল বলা যায় না; দীর্ঘ সময়ের জেলা ও বিভাগভিত্তিক তথ্য প্রয়োজন।

সামগ্রিক চিত্র বলছে, হাম পরিস্থিতি এখন সংখ্যার পাশাপাশি নজরদারি, দ্রুত শনাক্তকরণ, হাসপাতালে চিকিৎসার সক্ষমতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতারও পরীক্ষা নিচ্ছে। নিশ্চিত হাম ও হামসদৃশ উপসর্গের তথ্য আলাদা রেখে নিয়মিতভাবে প্রবণতা বিশ্লেষণ করা গেলে কোথায় সংক্রমণ বেশি, কোথায় মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে এবং কোথায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে—তা আরও স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হামের সংক্রমণ কমার বদলে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে, একদিনে আরও ৮ মৃত্যু

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

দেশে হামের পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি এখন শুধু নতুন আক্রান্তের সংখ্যা নয়, সংক্রমণের সঙ্গে মৃত্যুর ধারাবাহিকতা। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আটজনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ১৫২ জনের নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পরিস্থিতির ব্যাপকতাকে সামনে এনেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনের তথ্যও একই চিত্র দেখাচ্ছে।

১৫ মার্চ থেকে হিসাব করলে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২২ জনে। তবে এই সংখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০২ জন, আর ১ হাজার ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর বড় অংশ এখনো পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের মৃত্যু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ নয়। ফলে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে ‘নিশ্চিত হাম’ ও ‘হামসদৃশ উপসর্গ’—দুই তথ্যকে আলাদা করে দেখা জরুরি।

আক্রান্তের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত এক দিনে শনাক্ত হওয়া ১ হাজার ১৫২ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম ৪৩ জন, আর ১ হাজার ১০৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৬৬৬ জন; বিপরীতে হামসদৃশ উপসর্গের সংখ্যা ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৯৭। সব মিলিয়ে দুই শ্রেণিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৮৬৩ জন।

এই ব্যবধানটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিপুলসংখ্যক রোগী উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, কিন্তু তাদের সবাই পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম হিসেবে চিহ্নিত নন। তাই বর্তমান পরিস্থিতির প্রকৃত মাত্রা বুঝতে পরীক্ষার সক্ষমতা, রোগ শনাক্তকরণ এবং রিপোর্টিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আলাদা হাম-প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মেও দৈনিক তথ্য যাচাই ও স্থানীয় রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে রিপোর্ট করার নির্দেশনা রয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো হাসপাতালমুখী রোগীর সংখ্যা। ১৫ মার্চ থেকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অর্থাৎ এই প্রাদুর্ভাব শুধু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়াচ্ছে না, একই সঙ্গে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও বড় চাপ তৈরি করছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া আটজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ তথ্য ঢাকাকেন্দ্রিক রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও মৃত্যুর প্রবণতাকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করছে। তবে শুধু এই এক দিনের তথ্য দিয়ে ঢাকাকে সার্বিকভাবে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল বলা যায় না; দীর্ঘ সময়ের জেলা ও বিভাগভিত্তিক তথ্য প্রয়োজন।

সামগ্রিক চিত্র বলছে, হাম পরিস্থিতি এখন সংখ্যার পাশাপাশি নজরদারি, দ্রুত শনাক্তকরণ, হাসপাতালে চিকিৎসার সক্ষমতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতারও পরীক্ষা নিচ্ছে। নিশ্চিত হাম ও হামসদৃশ উপসর্গের তথ্য আলাদা রেখে নিয়মিতভাবে প্রবণতা বিশ্লেষণ করা গেলে কোথায় সংক্রমণ বেশি, কোথায় মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে এবং কোথায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে—তা আরও স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হবে।