শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে সময়সীমা বলা সম্ভব নয়: দীনেশ ত্রিবেদী
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং এর সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর একটি অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত সরকার আগেও জানিয়েছে যে একটি সুসংগঠিত আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালত এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকায় এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।’
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি।
দীনেশ ত্রিবেদীর ভাষ্য, ওই সময় বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না। শেখ হাসিনা যখন ভারতে পৌঁছান, তখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হাইকমিশনার বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ওই পরিস্থিতিতে ভারতকে বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারত যদি শেখ হাসিনাকে গ্রহণ না করত বা তাঁর বিমানকে অবতরণের অনুমতি না দিত, তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াত, তা বলা কঠিন।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারতের বিচারব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো ভারতেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নিজস্ব আইনি কাঠামো রয়েছে এবং সেই কাঠামোর মধ্যেই বিষয়টি এগোচ্ছে।
বাংলাদেশ এর আগে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল।




















