ঢাকা ০৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেবে না বিএনপি সরকার : সালাউদ্দিন টুকু ‘শেখ হাসিনাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া ছাড়া তখন ভারতের সামনে বিকল্প ছিল না’ বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে গুলশান-চট্টগ্রাম ক্লাবের ক্রীড়া উৎসব বিয়ে-তালাকের তথ্য যাবে অনলাইনে, কমবে গোপন বিয়ে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলা: আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন-সৎকারে সাড়ে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিতের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর তিন মাসের মধ্যে গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল যাবে কেরানীগঞ্জে নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪৫ কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর

বিয়ে-তালাকের তথ্য যাবে অনলাইনে, কমবে গোপন বিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:১৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার উদ্যোগ কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয় নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বৈবাহিক পরিচয় যাচাই, একাধিক বিয়ে প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ ঠেকানো এবং উত্তরাধিকার বিরোধ কমানোর মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্য অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এই তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত করা হলে একজন ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থার তথ্য যাচাই অনেক সহজ হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর নিকেতনে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার সম্ভাব্য সুবিধাগুলো তুলে ধরেন। বর্তমানে বিয়ের তথ্য বিভিন্ন নিবন্ধন ব্যবস্থায় বিচ্ছিন্নভাবে থাকার কারণে কোনো ব্যক্তি আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে নতুন করে বিয়ে করছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার সুযোগ সীমিত। কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলে এই জায়গাতেই বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

বিশেষ করে একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে তথ্য গোপনের সুযোগ কমানো এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। একজন ব্যক্তির পূর্ববর্তী বিবাহের তথ্য যদি জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে নতুন বিয়ে নিবন্ধনের সময় আগের বৈবাহিক অবস্থাটি সামনে আসার সম্ভাবনা বাড়বে। একইভাবে বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধনের তথ্য ব্যবহারের সুযোগ থাকায় বাল্যবিবাহ শনাক্ত করাও তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

তবে ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করলেই এসব সমস্যা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ, নিয়মিত হালনাগাদ, নিবন্ধকদের যথাযথ ব্যবহার এবং বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজের মধ্যে নির্ভরযোগ্য সমন্বয়ের ওপর। ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ নিবন্ধন থাকলে ডিজিটাল ব্যবস্থাও কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে নাও পারে।

এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিরোধে। কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর স্ত্রী বা সন্তানের পরিচয় নিয়ে একাধিক দাবি উঠলে নিবন্ধিত বিবাহের তথ্য যাচাই করা গেলে প্রকৃত সম্পর্ক নির্ধারণের প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। এতে পারিবারিক বিরোধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়াতেও সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ডিজিটাল বিবাহ নিবন্ধনের ব্যবহারিক গুরুত্ব রয়েছে। বিদেশে বসবাস বা বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনেক সময় বৈবাহিক সম্পর্কের প্রমাণ প্রয়োজন হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত ও যাচাইযোগ্য নিবন্ধন থাকলে বিদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে সেই তথ্য নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।

একই সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারি ব্যবস্থার পরিকল্পনাটিও আইন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রবণতা কমানো এবং বদলি-পদায়নকে ঘিরে তদবিরের সুযোগ সীমিত করাই এর উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।

অর্থাৎ, বিবাহ নিবন্ধনের ডিজিটালাইজেশন এবং সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারির উদ্যোগ—দুটি বিষয়ই বৃহত্তর অর্থে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও তুলনামূলকভাবে তথ্যনির্ভর করার প্রচেষ্টার অংশ। তবে উদ্যোগগুলোর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে বাস্তবায়নের মান, তথ্যের নির্ভুলতা, নাগরিকের তথ্য সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত করা যায়, তার ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিয়ে-তালাকের তথ্য যাবে অনলাইনে, কমবে গোপন বিয়ে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:১৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার উদ্যোগ কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয় নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বৈবাহিক পরিচয় যাচাই, একাধিক বিয়ে প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ ঠেকানো এবং উত্তরাধিকার বিরোধ কমানোর মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্য অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এই তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত করা হলে একজন ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থার তথ্য যাচাই অনেক সহজ হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর নিকেতনে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার সম্ভাব্য সুবিধাগুলো তুলে ধরেন। বর্তমানে বিয়ের তথ্য বিভিন্ন নিবন্ধন ব্যবস্থায় বিচ্ছিন্নভাবে থাকার কারণে কোনো ব্যক্তি আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে নতুন করে বিয়ে করছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার সুযোগ সীমিত। কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলে এই জায়গাতেই বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

বিশেষ করে একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে তথ্য গোপনের সুযোগ কমানো এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। একজন ব্যক্তির পূর্ববর্তী বিবাহের তথ্য যদি জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে নতুন বিয়ে নিবন্ধনের সময় আগের বৈবাহিক অবস্থাটি সামনে আসার সম্ভাবনা বাড়বে। একইভাবে বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধনের তথ্য ব্যবহারের সুযোগ থাকায় বাল্যবিবাহ শনাক্ত করাও তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

তবে ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করলেই এসব সমস্যা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ, নিয়মিত হালনাগাদ, নিবন্ধকদের যথাযথ ব্যবহার এবং বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজের মধ্যে নির্ভরযোগ্য সমন্বয়ের ওপর। ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ নিবন্ধন থাকলে ডিজিটাল ব্যবস্থাও কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে নাও পারে।

এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিরোধে। কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর স্ত্রী বা সন্তানের পরিচয় নিয়ে একাধিক দাবি উঠলে নিবন্ধিত বিবাহের তথ্য যাচাই করা গেলে প্রকৃত সম্পর্ক নির্ধারণের প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। এতে পারিবারিক বিরোধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়াতেও সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ডিজিটাল বিবাহ নিবন্ধনের ব্যবহারিক গুরুত্ব রয়েছে। বিদেশে বসবাস বা বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনেক সময় বৈবাহিক সম্পর্কের প্রমাণ প্রয়োজন হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত ও যাচাইযোগ্য নিবন্ধন থাকলে বিদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে সেই তথ্য নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।

একই সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারি ব্যবস্থার পরিকল্পনাটিও আইন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রবণতা কমানো এবং বদলি-পদায়নকে ঘিরে তদবিরের সুযোগ সীমিত করাই এর উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।

অর্থাৎ, বিবাহ নিবন্ধনের ডিজিটালাইজেশন এবং সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারির উদ্যোগ—দুটি বিষয়ই বৃহত্তর অর্থে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও তুলনামূলকভাবে তথ্যনির্ভর করার প্রচেষ্টার অংশ। তবে উদ্যোগগুলোর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে বাস্তবায়নের মান, তথ্যের নির্ভুলতা, নাগরিকের তথ্য সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত করা যায়, তার ওপর।