মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিতের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:০৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়নে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রকৃত অর্থেই জনগণের সেবা করে—এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটে প্রত্যাবাসনের তাগিদ
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের লক্ষ্য।
এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারে হওয়ায় এর সমাধানও মিয়ানমারেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে জোর
কৃষিকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মৎস্য, গবাদিপশু ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তার মতে, খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি শিল্পের সমন্বয় প্রয়োজন। শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
২০ হাজার কিলোমিটার খাল-জলপথ খননের পরিকল্পনা
পানি নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এ ছাড়া পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা তৈরির কথা বলেন তিনি। এসব উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ
পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব শিল্পকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের লিড-সার্টিফায়েড কারখানাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-সার্টিফায়েড কারখানার ৫৩টিই বাংলাদেশে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর বর্জ্য কমানোর পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ২৫ কোটি গাছ লাগানোর এই লক্ষ্যটি এর আগে পরিবেশবিষয়ক সরকারি কর্মসূচিতেও ঘোষণা করা হয়েছে।
শতাধিক দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ
‘Fragments • Frontiers • Futures: Navigating Power, Technology and Trust in a World Rewritten’ প্রতিপাদ্যে এবারের বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। সম্মেলনটি ৩ থেকে ৫ অক্টোবর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি ও এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যুক্ত হয়েছেন। সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও তরুণ নেতৃত্ব এতে অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসীও বক্তব্য দেন।
এবারের সম্মেলনে ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও যোগাযোগ, জলবায়ু ও মানবনিরাপত্তা এবং গণতন্ত্র ও সুশাসনসহ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হচ্ছে।





















