ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাঁচ বছরে এলপিজির দাম প্রায় দ্বিগুণ, নির্ধারিত দামে মিলছে না বাজারে মা-বাবা হারানো পাঁচ কন্যার পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মহেশপুরে কিশোর নিহত ৪ ঘণ্টা আটকা পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, স্বাভাবিক রেল যোগাযোগ অনুমোদিত দুটি, পণ্য মিলল চার গুদামে—টস বন্ডে কী ঘটেছিল? এবার বিএনপি থেকেও সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ মিষ্টিকে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, বড় পরিবর্তনের পথে চট্টগ্রাম বন্দর একাদশ শ্রেণির নতুন সিলেবাস প্রকাশ, থাকছে বাংলা-ইংরেজি-আইসিটি জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার, কী ঘটেছিল বিমানবন্দরে

পাঁচ বছরে এলপিজির দাম প্রায় দ্বিগুণ, নির্ধারিত দামে মিলছে না বাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১ সালের এপ্রিলে ৯৭৫ টাকা থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এপ্রিলে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকায়। অর্থাৎ পাঁচ বছরে নির্ধারিত দাম বেড়েছে ৯৬৫ টাকা বা প্রায় ৯৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৩২ দফায় এলপিজির দাম বাড়িয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন মাসে দাম কমানোও হয়েছে। বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে নতুন দাম নির্ধারণের এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই পাঁচ বছরে এলপিজির দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে।

৯৭৫ টাকা থেকে ১ হাজার ৯৪০ টাকা

দেশে বেসরকারি পর্যায়ে প্রথমবার এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয় ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল। ওই সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯৭৫ টাকা।

এরপর মে ও জুনে দাম কমে যথাক্রমে ৯০৬ ও ৮৪২ টাকা হয়। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দফায় দাম বাড়ানো হলে নভেম্বরে তা উঠে যায় ১ হাজার ৩১৩ টাকায়। পরে ডিসেম্বরে ৮৫ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ২২৮ টাকা।

২০২২ সালে সাত দফায় দাম বাড়ানোর বিপরীতে পাঁচ দফায় কমানো হয়। জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৭৪ টাকা থাকা ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বছরের শেষে দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯৭ টাকা।

২০২৩ সালেও দেখা যায় একই ধরনের ওঠানামা। ওই বছর সাত দফায় দাম বাড়ানো হলেও কমানো হয় পাঁচ দফায়। বছরের শুরুতে ১ হাজার ২৩২ টাকা থাকা দাম ডিসেম্বরের শেষে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪০৪ টাকা। জুনে সর্বনিম্ন ৯৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

২০২৪ সালে সাত দফায় দাম বাড়ানো হয়। জানুয়ারিতে ১ হাজার ৪৩৩ টাকা থেকে ফেব্রুয়ারিতে দাম বেড়ে হয় ১ হাজার ৪৭৪ টাকা এবং মার্চে ১ হাজার ৪৮২ টাকা। পরে কয়েক দফা কমা-বাড়ার পর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দাম ছিল ১ হাজার ৪৫৫ টাকা।

২০২৫ সালে দাম বাড়ানোর প্রবণতা তুলনামূলক কম ছিল। বছরজুড়ে দুই দফা বাড়লেও বিভিন্ন সময়ে দাম কমানো হয়। ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭৮ টাকা হওয়ার পর নভেম্বরে তা নেমে আসে ১ হাজার ২১৫ টাকায়।

এপ্রিলে এক মাসেই বাড়ে ৫৯৯ টাকা

চলতি বছরের শুরুতেও এলপিজির দামে পরিবর্তন অব্যাহত থাকে। জানুয়ারিতে ১ হাজার ২৫৩ টাকা থাকা ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে হয় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। পরে ভ্যাট কমানোর কারণে ১৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে দাম অপরিবর্তিত ছিল।

তবে এপ্রিলে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়। মাত্র দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় ৩৮৭ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা।

যদিও এরপর আবার দাম কমেছে। জুনে ৫৫ টাকা এবং জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। আগস্টে ৭০ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে আরও ১৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারিত দাম করা হয়েছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

কাগজে দাম কমলেও বাজারে ভিন্ন চিত্র

বিইআরসি নির্ধারিত দাম কমলেও বাস্তব বাজারে তার প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও বিভিন্ন বাজারে তা ২ হাজার ১৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ সরবরাহ সংকটকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তবে এলপিজি খাতের মালিকদের দাবি, দেশে সরবরাহে কোনো সংকট নেই।

আমদানি হচ্ছে, তবু কেন বাড়তি দাম?

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে আরও ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এলপিজি খাতের মালিকরা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করেন। সেখানে দেশের এলপিজি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজির জোগান ও মজুত পরিস্থিতি ভালো। আমদানিকারক ও অপারেটররাও দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন।

কৃত্রিম সংকট খতিয়ে দেখার নির্দেশ

সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও বাজারে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী বলেন, কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোনো এলাকায় কেন সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে এবং কেন অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর পরদিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও জানায়, দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক রয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বা অবৈধভাবে মজুত করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ভোক্তার প্রশ্ন, নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার মিলবে কবে?

এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি ও ব্যবসায়ী পর্যায় থেকে আশ্বস্ত করা হলেও সাধারণ ভোক্তাদের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—সরকার নির্ধারিত দামে তারা আদৌ সিলিন্ডার কিনতে পারবেন কি না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলমের মতে, যেভাবে এলপিজির দাম বাড়ছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়বে। তার মতে, বড় সমস্যা হচ্ছে বিইআরসির নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি না পাওয়া। ফলে ভোক্তাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এলপিজি খাতে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে বিইআরসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

শামসুল আলম অসাধু ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ারও পরামর্শ দেন।

সব মিলিয়ে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজির সরকারি দাম নিয়মিত পরিবর্তিত হলেও নির্ধারিত দাম ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধানই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার সরকারি ও ব্যবসায়ী দাবির পরও বাজারে অতিরিক্ত দামের অভিযোগের সমাধান কতটা কার্যকরভাবে হয়, সেটিই এখন ভোক্তাদের নজরে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাঁচ বছরে এলপিজির দাম প্রায় দ্বিগুণ, নির্ধারিত দামে মিলছে না বাজারে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১ সালের এপ্রিলে ৯৭৫ টাকা থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এপ্রিলে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকায়। অর্থাৎ পাঁচ বছরে নির্ধারিত দাম বেড়েছে ৯৬৫ টাকা বা প্রায় ৯৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৩২ দফায় এলপিজির দাম বাড়িয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন মাসে দাম কমানোও হয়েছে। বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে নতুন দাম নির্ধারণের এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই পাঁচ বছরে এলপিজির দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে।

৯৭৫ টাকা থেকে ১ হাজার ৯৪০ টাকা

দেশে বেসরকারি পর্যায়ে প্রথমবার এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয় ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল। ওই সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯৭৫ টাকা।

এরপর মে ও জুনে দাম কমে যথাক্রমে ৯০৬ ও ৮৪২ টাকা হয়। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দফায় দাম বাড়ানো হলে নভেম্বরে তা উঠে যায় ১ হাজার ৩১৩ টাকায়। পরে ডিসেম্বরে ৮৫ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ২২৮ টাকা।

২০২২ সালে সাত দফায় দাম বাড়ানোর বিপরীতে পাঁচ দফায় কমানো হয়। জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৭৪ টাকা থাকা ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বছরের শেষে দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯৭ টাকা।

২০২৩ সালেও দেখা যায় একই ধরনের ওঠানামা। ওই বছর সাত দফায় দাম বাড়ানো হলেও কমানো হয় পাঁচ দফায়। বছরের শুরুতে ১ হাজার ২৩২ টাকা থাকা দাম ডিসেম্বরের শেষে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪০৪ টাকা। জুনে সর্বনিম্ন ৯৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

২০২৪ সালে সাত দফায় দাম বাড়ানো হয়। জানুয়ারিতে ১ হাজার ৪৩৩ টাকা থেকে ফেব্রুয়ারিতে দাম বেড়ে হয় ১ হাজার ৪৭৪ টাকা এবং মার্চে ১ হাজার ৪৮২ টাকা। পরে কয়েক দফা কমা-বাড়ার পর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দাম ছিল ১ হাজার ৪৫৫ টাকা।

২০২৫ সালে দাম বাড়ানোর প্রবণতা তুলনামূলক কম ছিল। বছরজুড়ে দুই দফা বাড়লেও বিভিন্ন সময়ে দাম কমানো হয়। ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭৮ টাকা হওয়ার পর নভেম্বরে তা নেমে আসে ১ হাজার ২১৫ টাকায়।

এপ্রিলে এক মাসেই বাড়ে ৫৯৯ টাকা

চলতি বছরের শুরুতেও এলপিজির দামে পরিবর্তন অব্যাহত থাকে। জানুয়ারিতে ১ হাজার ২৫৩ টাকা থাকা ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে হয় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। পরে ভ্যাট কমানোর কারণে ১৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে দাম অপরিবর্তিত ছিল।

তবে এপ্রিলে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়। মাত্র দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় ৩৮৭ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা।

যদিও এরপর আবার দাম কমেছে। জুনে ৫৫ টাকা এবং জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। আগস্টে ৭০ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে আরও ১৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারিত দাম করা হয়েছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

কাগজে দাম কমলেও বাজারে ভিন্ন চিত্র

বিইআরসি নির্ধারিত দাম কমলেও বাস্তব বাজারে তার প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও বিভিন্ন বাজারে তা ২ হাজার ১৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ সরবরাহ সংকটকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তবে এলপিজি খাতের মালিকদের দাবি, দেশে সরবরাহে কোনো সংকট নেই।

আমদানি হচ্ছে, তবু কেন বাড়তি দাম?

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে আরও ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এলপিজি খাতের মালিকরা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করেন। সেখানে দেশের এলপিজি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজির জোগান ও মজুত পরিস্থিতি ভালো। আমদানিকারক ও অপারেটররাও দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন।

কৃত্রিম সংকট খতিয়ে দেখার নির্দেশ

সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও বাজারে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী বলেন, কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোনো এলাকায় কেন সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে এবং কেন অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর পরদিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও জানায়, দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক রয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বা অবৈধভাবে মজুত করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ভোক্তার প্রশ্ন, নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার মিলবে কবে?

এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি ও ব্যবসায়ী পর্যায় থেকে আশ্বস্ত করা হলেও সাধারণ ভোক্তাদের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—সরকার নির্ধারিত দামে তারা আদৌ সিলিন্ডার কিনতে পারবেন কি না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলমের মতে, যেভাবে এলপিজির দাম বাড়ছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়বে। তার মতে, বড় সমস্যা হচ্ছে বিইআরসির নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি না পাওয়া। ফলে ভোক্তাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এলপিজি খাতে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে বিইআরসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

শামসুল আলম অসাধু ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ারও পরামর্শ দেন।

সব মিলিয়ে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজির সরকারি দাম নিয়মিত পরিবর্তিত হলেও নির্ধারিত দাম ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধানই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার সরকারি ও ব্যবসায়ী দাবির পরও বাজারে অতিরিক্ত দামের অভিযোগের সমাধান কতটা কার্যকরভাবে হয়, সেটিই এখন ভোক্তাদের নজরে।