ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বদলাতে পারে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ নীতিমালা, ফিরতে পারে রাত্রিযাপনের সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি-নিষেধে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য রেখে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা, পরিবেশবিদ, পর্যটন খাতের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নির্দেশনা তৈরি করা হবে।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সেখানকার মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি করা হবে।

রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

২০২৪ সালের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের জন্য ১২ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। সেই নীতিমালায় নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সীমিত সংখ্যক পর্যটককে দ্বীপে রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে বর্তমান সরকার মনে করছে, দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করে সেন্টমার্টিনে যাওয়া পর্যটকদের জন্য শুধু কয়েক ঘণ্টার অবস্থানের ব্যবস্থা কার্যকর নয়। এ কারণে রাত্রিযাপনের বিধিনিষেধ পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় যাতায়াত করে পর্যটকদের কয়েক ঘণ্টা অবস্থানের পর ফিরে যেতে হওয়া স্বাস্থ্যকর বা বাস্তবসম্মত নয়। তাই রাত্রিযাপনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি

সেন্টমার্টিনের হোটেল-মোটেল ও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরে রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দাবি জানিয়ে আসছেন।

বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান বলেন, দূরপথ পাড়ি দিয়ে যাওয়া পর্যটকরা মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য দ্বীপে যেতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তাঁর মতে, রাত্রিযাপনের সুযোগ বাড়ালে পর্যটন খাত উপকৃত হবে।

সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপে প্রায় ১৫০টি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় থাকবে বিধিনিষেধ

তবে নীতিমালা পরিবর্তনের আলোচনার মধ্যেও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবালসমৃদ্ধ এই দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কিছু বিধিনিষেধ বহাল রাখা হতে পারে।

আগের নির্দেশনায় সৈকতে আলোকসজ্জা, শব্দদূষণ, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রি, প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ বিভিন্ন জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যান চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা ছিল।

বর্তমান নিয়মে চলছে পর্যটন

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আগের নীতিমালাই কার্যকর থাকবে। বর্তমানে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক পর্যটক রাত্রিযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাঁদের জন্য ভ্রমণ পাস দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের কারণে প্রতিবছর অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে দ্বীপের পরিবেশ ও পর্যটন—দুই দিকের ভারসাম্য কীভাবে রাখা হবে, সেটিই এখন আলোচনার মূল বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বদলাতে পারে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ নীতিমালা, ফিরতে পারে রাত্রিযাপনের সুযোগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি-নিষেধে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য রেখে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা, পরিবেশবিদ, পর্যটন খাতের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নির্দেশনা তৈরি করা হবে।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সেখানকার মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি করা হবে।

রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

২০২৪ সালের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের জন্য ১২ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। সেই নীতিমালায় নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সীমিত সংখ্যক পর্যটককে দ্বীপে রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে বর্তমান সরকার মনে করছে, দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করে সেন্টমার্টিনে যাওয়া পর্যটকদের জন্য শুধু কয়েক ঘণ্টার অবস্থানের ব্যবস্থা কার্যকর নয়। এ কারণে রাত্রিযাপনের বিধিনিষেধ পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় যাতায়াত করে পর্যটকদের কয়েক ঘণ্টা অবস্থানের পর ফিরে যেতে হওয়া স্বাস্থ্যকর বা বাস্তবসম্মত নয়। তাই রাত্রিযাপনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি

সেন্টমার্টিনের হোটেল-মোটেল ও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরে রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দাবি জানিয়ে আসছেন।

বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান বলেন, দূরপথ পাড়ি দিয়ে যাওয়া পর্যটকরা মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য দ্বীপে যেতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তাঁর মতে, রাত্রিযাপনের সুযোগ বাড়ালে পর্যটন খাত উপকৃত হবে।

সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপে প্রায় ১৫০টি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় থাকবে বিধিনিষেধ

তবে নীতিমালা পরিবর্তনের আলোচনার মধ্যেও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবালসমৃদ্ধ এই দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কিছু বিধিনিষেধ বহাল রাখা হতে পারে।

আগের নির্দেশনায় সৈকতে আলোকসজ্জা, শব্দদূষণ, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রি, প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ বিভিন্ন জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যান চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা ছিল।

বর্তমান নিয়মে চলছে পর্যটন

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আগের নীতিমালাই কার্যকর থাকবে। বর্তমানে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক পর্যটক রাত্রিযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাঁদের জন্য ভ্রমণ পাস দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের কারণে প্রতিবছর অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে দ্বীপের পরিবেশ ও পর্যটন—দুই দিকের ভারসাম্য কীভাবে রাখা হবে, সেটিই এখন আলোচনার মূল বিষয়।