ঢাকা ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এবার বিএনপি থেকেও সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ মিষ্টিকে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, বড় পরিবর্তনের পথে চট্টগ্রাম বন্দর একাদশ শ্রেণির নতুন সিলেবাস প্রকাশ, থাকছে বাংলা-ইংরেজি-আইসিটি জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার, কী ঘটেছিল বিমানবন্দরে বসুন্ধরাবাসীর জন্য অ্যাম্বুল্যান্স ও ২৪ ঘণ্টা ওষুধ সেবা চালু ২০২৭ বিশ্বকাপে কঠিন গ্রুপে বাংলাদেশ, সঙ্গী দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড জাপানে স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি বাড়ল ২০ গুণ, কঠোর হচ্ছে শর্ত বদলাতে পারে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ নীতিমালা, ফিরতে পারে রাত্রিযাপনের সুযোগ ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলায় একযোগে শুরু কৃষক কার্ড কর্মসূচি অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট

এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, বড় পরিবর্তনের পথে চট্টগ্রাম বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া আবারও গতি পেয়েছে। এরই মধ্যে চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটি পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের খসড়া চুক্তি অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। যদিও শুরু থেকেই দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে কোন বিদেশি অপারেটরকে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে এনসিটির পরিচালন সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে জাহাজের অবস্থানকাল কমানো, আমদানি-রপ্তানি ব্যয় হ্রাস এবং বৈশ্বিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর পাশাপাশি টার্মিনালটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগের অবসানের প্রত্যাশাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চালু চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে সবচেয়ে বড় এনসিটি। গত বছর বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া মোট কনটেইনারের ৪৪ শতাংশই এই টার্মিনালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।

২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। এরপর থেকে টার্মিনালটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

তবে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর যুক্ত করার আলোচনা নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ও সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) কাঠামোর আওতায় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তখন সেই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এনসিটির পরিচালনা বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া আবার শুরু করে। তবে প্রক্রিয়াটি নিয়ে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের একাংশ আন্দোলনে নামলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার গত ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটি বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে। পরে বিএনপির নতুন সরকার গত ৪ জুন ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়।

সরকারের নির্দেশনার পর আলোচনা প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করে।

সক্ষমতার ঘাটতিতে বাড়ছে জাহাজের অবস্থানকাল

চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এনসিটি ২০১৭ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তবে বর্তমানে টার্মিনালটি বেশ কিছু পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সরঞ্জামের সহজলভ্যতা ৯৩ শতাংশ থাকা প্রয়োজন। অথচ এনসিটিতে এই হার বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে।

এর প্রভাব পড়ছে হ্যান্ডলিং সক্ষমতায়ও। বর্তমানে এনসিটিতে প্রতি ঘণ্টায় ২০ থেকে ২২টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যেখানে প্রতি ঘণ্টায় ৩০টি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা থাকার কথা।

সক্ষমতার এই ঘাটতির কারণে বন্দরে জাহাজের অবস্থানকাল বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের ব্যয়ও। এ পরিস্থিতিতে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির পরিকল্পনা

ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে ৮০টি টার্মিনাল পরিচালনা করছে। বাংলাদেশেও লজিস্টিকস ও অবকাঠামো খাতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এনসিটিতে অত্যাধুনিক টার্মিনাল পরিচালনা ব্যবস্থা, স্মার্ট সফটওয়্যার এবং পরিবেশবান্ধব বন্দর প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ডিপি ওয়ার্ল্ডের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক কাজে লাগানো গেলে বিশ্বের বড় জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে সরাসরি বড় মাদার ভ্যাসেল আনার ক্ষেত্রে আরও আগ্রহী হতে পারে। এর ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

মালিকানা থাকবে রাষ্ট্রের হাতেই

বিদেশি অপারেটর যুক্ত হলেও চট্টগ্রাম বন্দরের জমি, জেটি ও অবকাঠামোর মালিকানা রাষ্ট্রের হাতেই থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

‘ল্যান্ডলর্ড মডেল’-এর আওতায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কেবল টার্মিনাল পরিচালনার লাইসেন্স পাবে। অর্থাৎ এনসিটির অবকাঠামোগত মালিকানা হস্তান্তর করা হবে না।

এ ছাড়া বন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা, বহির্নোঙর এলাকায় নজরদারি এবং সাইবার গেটওয়ের নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও দেশীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতেই থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রের দাবি, ডিপি ওয়ার্ল্ডের ব্যবহৃত তথ্য ও সিসিটিভি ফিড তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

সব মিলিয়ে, এনসিটি পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন কাঠামো, প্রযুক্তি ব্যবহার ও সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ, অপারেটরের দায়িত্ব ও শর্তগুলোই নির্ধারণ করবে এই পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব কতটা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, বড় পরিবর্তনের পথে চট্টগ্রাম বন্দর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া আবারও গতি পেয়েছে। এরই মধ্যে চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটি পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের খসড়া চুক্তি অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। যদিও শুরু থেকেই দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে কোন বিদেশি অপারেটরকে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে এনসিটির পরিচালন সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে জাহাজের অবস্থানকাল কমানো, আমদানি-রপ্তানি ব্যয় হ্রাস এবং বৈশ্বিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর পাশাপাশি টার্মিনালটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগের অবসানের প্রত্যাশাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চালু চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে সবচেয়ে বড় এনসিটি। গত বছর বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া মোট কনটেইনারের ৪৪ শতাংশই এই টার্মিনালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।

২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। এরপর থেকে টার্মিনালটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

তবে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর যুক্ত করার আলোচনা নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ও সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) কাঠামোর আওতায় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তখন সেই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এনসিটির পরিচালনা বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া আবার শুরু করে। তবে প্রক্রিয়াটি নিয়ে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের একাংশ আন্দোলনে নামলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার গত ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটি বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে। পরে বিএনপির নতুন সরকার গত ৪ জুন ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়।

সরকারের নির্দেশনার পর আলোচনা প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করে।

সক্ষমতার ঘাটতিতে বাড়ছে জাহাজের অবস্থানকাল

চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এনসিটি ২০১৭ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তবে বর্তমানে টার্মিনালটি বেশ কিছু পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সরঞ্জামের সহজলভ্যতা ৯৩ শতাংশ থাকা প্রয়োজন। অথচ এনসিটিতে এই হার বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে।

এর প্রভাব পড়ছে হ্যান্ডলিং সক্ষমতায়ও। বর্তমানে এনসিটিতে প্রতি ঘণ্টায় ২০ থেকে ২২টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যেখানে প্রতি ঘণ্টায় ৩০টি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা থাকার কথা।

সক্ষমতার এই ঘাটতির কারণে বন্দরে জাহাজের অবস্থানকাল বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের ব্যয়ও। এ পরিস্থিতিতে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির পরিকল্পনা

ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে ৮০টি টার্মিনাল পরিচালনা করছে। বাংলাদেশেও লজিস্টিকস ও অবকাঠামো খাতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এনসিটিতে অত্যাধুনিক টার্মিনাল পরিচালনা ব্যবস্থা, স্মার্ট সফটওয়্যার এবং পরিবেশবান্ধব বন্দর প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ডিপি ওয়ার্ল্ডের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক কাজে লাগানো গেলে বিশ্বের বড় জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে সরাসরি বড় মাদার ভ্যাসেল আনার ক্ষেত্রে আরও আগ্রহী হতে পারে। এর ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

মালিকানা থাকবে রাষ্ট্রের হাতেই

বিদেশি অপারেটর যুক্ত হলেও চট্টগ্রাম বন্দরের জমি, জেটি ও অবকাঠামোর মালিকানা রাষ্ট্রের হাতেই থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

‘ল্যান্ডলর্ড মডেল’-এর আওতায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কেবল টার্মিনাল পরিচালনার লাইসেন্স পাবে। অর্থাৎ এনসিটির অবকাঠামোগত মালিকানা হস্তান্তর করা হবে না।

এ ছাড়া বন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা, বহির্নোঙর এলাকায় নজরদারি এবং সাইবার গেটওয়ের নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও দেশীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতেই থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রের দাবি, ডিপি ওয়ার্ল্ডের ব্যবহৃত তথ্য ও সিসিটিভি ফিড তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

সব মিলিয়ে, এনসিটি পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন কাঠামো, প্রযুক্তি ব্যবহার ও সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ, অপারেটরের দায়িত্ব ও শর্তগুলোই নির্ধারণ করবে এই পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব কতটা হবে।