ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি: অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে অরাজকতার চেষ্টা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরামে মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে স্থানীয়দের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির পাঁয়তারা করছে। সরকার কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করবে না।
‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার’
সরকারপ্রধান বলেন, যারা সরকারের সমালোচনা করছেন, তাদের কেউ কেউ নারী নির্যাতনের মতো ঘটনায় জড়িত থাকার পরও থেমে থাকছে না, এমনকি মানুষের জীবনও শেষ করে দিচ্ছে। তার ভাষ্য, এ ধরনের গোষ্ঠী বারবার দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
‘ফ্যামিলি কার্ড-কৃষক কার্ড বিএনপির নয়, মানুষের কর্মসূচি’
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচিকে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হিসেবে না দেখে জনগণের কর্মসূচি হিসেবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে কোনো অপশক্তিকে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ফেনীর বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে ফেনীতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক নির্বাচনী আসন এবং নিজের নানাবাড়ির এলাকা পরশুরামে পৌঁছালে স্থানীয় মানুষ তাকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে স্বাগত জানান।
জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিজেকে এ অঞ্চলের ‘নাতি’ হিসেবে পরিচয় দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফেনীতে আসার পুরোনো স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।
২০২৪ সালের বন্যার ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন বৃহত্তর ফেনীর মানুষ। বর্ষা এলেই অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের এই সংকট মোকাবিলায় মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে ফেনীর বিভিন্ন খাল পুনঃখনন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হয়। সরকারের প্রত্যাশা, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমার পাশাপাশি কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায়ও সুবিধা পাবেন স্থানীয় মানুষ।
দিনভর একাধিক কর্মসূচি
ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রীর আরও কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন।
এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।




















