অনুমোদিত দুটি, পণ্য মিলল চার গুদামে—টস বন্ডে কী ঘটেছিল?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য সংরক্ষণ নিয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের প্রতিষ্ঠান ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর প্রতিষ্ঠানটির চারটি ওয়্যারহাউসই সিলগালা করেছে যৌথ তদন্ত দল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১-এর (এসআরবি-১) যৌথ অভিযান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির ডিপ্লোম্যাটিক ওয়্যারহাউস পরিচালনায় বেশ কিছু গুরুতর অসঙ্গতি সামনে আসে।
অনুমোদন ছিল দুই গুদামের, পণ্য মিলল চারটিতে
তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি উঠেছে ওয়্যারহাউসের সংখ্যা নিয়ে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, টস বন্ডের অনুমোদিত ওয়্যারহাউস ছিল দুটি। কিন্তু অভিযানে পণ্য পাওয়া যায় মোট চারটি স্থাপনায়। এর মধ্যে দুটি ছিল অনুমোদনের বাইরে।
অর্থাৎ, কাগজে-কলমে অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে আরও দুটি স্থাপনায় বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য কীভাবে পৌঁছাল—এখন তদন্তের অন্যতম বিষয় সেটিই। এনবিআর বলছে, অননুমোদিত স্থাপনায় শুল্কমুক্ত পণ্য স্থানান্তর বা সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা ঠেকাতে চারটি ওয়্যারহাউসই সিলগালা করা হয়েছে।
সফটওয়্যারের তথ্য বনাম গুদামের বাস্তব চিত্র
তদন্তের আরেকটি দিক সামনে এসেছে মজুত পণ্যের হিসাব যাচাইয়ে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টার, এনবিআর অনুমোদিত সফটওয়্যার এবং গুদামে থাকা পণ্য সরেজমিনে মিলিয়ে দেখা হয়। সেখানে সফটওয়্যারে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ‘এক্স-বন্ড’ হিসেবে ছাড় দেখালেও বাস্তবে সেগুলোর অংশ গুদামে পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
ডিএনসির ওই তথ্য অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ২৫০ কার্টন আমদানি করা হেইনেকেন বিয়ার ‘ইন-বন্ড’ হিসেবে সফটওয়্যারে এন্ট্রি করা হয়েছিল। কিন্তু যৌথ দল যাচাইয়ের সময় ওই পণ্যের অবস্থান নিয়েও অসঙ্গতি দেখতে পায় বলে জানানো হয়েছে। একই পরিদর্শনে ১৪৪ ক্যান বিয়ার, ১২ বোতল হুইস্কি এবং ৬ বোতল ভদকা গুদামে পাওয়া যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
চারটি গুদামই কেন সিল?
এখানেই তদন্তের গুরুত্ব আরও বাড়ছে। শুধু দুটি অননুমোদিত স্থাপনা শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলো সিল না করে অনুমোদিত দুটি ওয়্যারহাউসসহ মোট চারটি স্থাপনা সিলগালা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এনবিআরের ব্যাখ্যা—বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য যাতে সরিয়ে ফেলা বা স্থানান্তর করা না যায় এবং পুরো বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে যাচাই করা যায়, সে কারণেই চারটি ওয়্যারহাউস সিল করা হয়েছে। তদন্ত ও পণ্য যাচাই এখনো চলছে।
এখন যে প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছে তদন্ত
টস বন্ডের ঘটনায় তাই শুধু অননুমোদিত দুটি ওয়্যারহাউসের অস্তিত্বই নয়, বরং আরও কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—অনুমোদিত গুদামের বাইরে পণ্য কীভাবে গেল, সংশ্লিষ্ট নথি ও সফটওয়্যারে পণ্যের যে হিসাব দেখানো হয়েছে তার সঙ্গে বাস্তব মজুতের মিল কতটা, এবং বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্যের স্থানান্তর বা সংরক্ষণে নিয়ম ভাঙা হয়েছে কি না।
তবে এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত ও পণ্য যাচাই অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই অনিয়মের প্রকৃতি এবং এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।


















