ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাঁচ বছরে এলপিজির দাম প্রায় দ্বিগুণ, নির্ধারিত দামে মিলছে না বাজারে মা-বাবা হারানো পাঁচ কন্যার পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মহেশপুরে কিশোর নিহত ৪ ঘণ্টা আটকা পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, স্বাভাবিক রেল যোগাযোগ অনুমোদিত দুটি, পণ্য মিলল চার গুদামে—টস বন্ডে কী ঘটেছিল? এবার বিএনপি থেকেও সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ মিষ্টিকে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, বড় পরিবর্তনের পথে চট্টগ্রাম বন্দর একাদশ শ্রেণির নতুন সিলেবাস প্রকাশ, থাকছে বাংলা-ইংরেজি-আইসিটি জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার, কী ঘটেছিল বিমানবন্দরে

ডিমের বাজারে আগুন, দুই মাসেও কমেনি দাম—ডজন ১৬০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুই মাসের বেশি সময় ধরে চড়া ডিমের বাজার। গত বছর এই সময়ে যে ফার্মের বাদামি ডিমের এক ডজন মিলত ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, এবার একই ডিমের দাম ঘুরছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। পাড়া-মহল্লার দোকানে সেই দাম আরও বেড়ে ঠেকছে ১৬০ টাকায়।

দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং বাড়তি দামের চাপে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের তালিকায় ডিমও এখন সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে উঠেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, ডিমের উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের এত বড় ব্যবধানের যৌক্তিকতা নেই। তাদের দাবি, বাজারে সরবরাহ ও দামের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কারসাজি থাকলে তা খুঁজে বের করতে হবে। সিন্ডিকেটের কারণে দাম বাড়ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি তাদের।

এক ক্রেতার ভাষায়, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ১২০ টাকায় ডিম বিক্রি সম্ভব হলেও বাজারে তা অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী খাবার হিসেবে ডিম গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাড়তি দামে এখন সেটিও নিয়মিত খাবারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

‘সরবরাহ কম’, দাম বাড়ার ব্যাখ্যা বিক্রেতাদের

বিক্রেতাদের বক্তব্য, গরমের মৌসুমে ডিমের দাম সাধারণত বাড়ে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যায় বিভিন্ন পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিমের সরবরাহও কমেছে।

এক বিক্রেতা জানান, বর্তমানে ডিম কেনার দাম ওঠানামা করছে। কোথাও প্রতি ১০ ডজনের জন্য ১ হাজার ১৪০ থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকা পর্যন্ত পড়ছে। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে শীতের আগে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনাও কম বলে মনে করছেন তারা।

তবে ক্রেতাদের প্রশ্ন, সরবরাহ কমার প্রভাব যদি থাকে, তাহলে উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা—প্রতিটি স্তরে দাম বৃদ্ধির হিসাব স্পষ্ট করা হচ্ছে না কেন?

গরিবের প্লেট থেকে শিক্ষার্থীর খাবার—সবখানেই চাপ

ডিম এমন একটি খাদ্য, যা নিম্নআয়ের পরিবার থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, শিক্ষার্থী—প্রায় সব শ্রেণির মানুষের খাদ্যতালিকায় রয়েছে। ফলে এর দাম বাড়লে প্রভাব পড়ে বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর ওপর।

ক্রেতারা বলছেন, ডিম বিলাসী খাবার নয়; এটি সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের প্রোটিনের অন্যতম সহজ উৎস। তাই বাজারে কৃত্রিম সংকট বা কারসাজির সুযোগ থাকলে তা বন্ধ করা জরুরি।

জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব যেন ডিমে না পড়ে

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াকে অজুহাত বানিয়ে ব্যবসায়ীরা যাতে ডিমের দাম আরও বাড়াতে না পারেন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি চান ভোক্তারা।

তাদের দাবি, উৎপাদন থেকে পাইকারি ও খুচরা—প্রতিটি ধাপে মূল্য নির্ধারণের বাস্তব চিত্র প্রকাশ এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করা হোক।

কারণ, বাজারে ডিমের সরবরাহ আছে, চাহিদাও আছে; কিন্তু দাম কমার দেখা নেই। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে—ডিমের দাম কি সত্যিই উৎপাদন খরচের চাপে বাড়ছে, নাকি সরবরাহব্যবস্থার আড়ালে অন্য কোনো হিসাব কাজ করছে?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ডিমের বাজারে আগুন, দুই মাসেও কমেনি দাম—ডজন ১৬০ টাকা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

দুই মাসের বেশি সময় ধরে চড়া ডিমের বাজার। গত বছর এই সময়ে যে ফার্মের বাদামি ডিমের এক ডজন মিলত ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, এবার একই ডিমের দাম ঘুরছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। পাড়া-মহল্লার দোকানে সেই দাম আরও বেড়ে ঠেকছে ১৬০ টাকায়।

দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং বাড়তি দামের চাপে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের তালিকায় ডিমও এখন সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে উঠেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, ডিমের উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের এত বড় ব্যবধানের যৌক্তিকতা নেই। তাদের দাবি, বাজারে সরবরাহ ও দামের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কারসাজি থাকলে তা খুঁজে বের করতে হবে। সিন্ডিকেটের কারণে দাম বাড়ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি তাদের।

এক ক্রেতার ভাষায়, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ১২০ টাকায় ডিম বিক্রি সম্ভব হলেও বাজারে তা অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী খাবার হিসেবে ডিম গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাড়তি দামে এখন সেটিও নিয়মিত খাবারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

‘সরবরাহ কম’, দাম বাড়ার ব্যাখ্যা বিক্রেতাদের

বিক্রেতাদের বক্তব্য, গরমের মৌসুমে ডিমের দাম সাধারণত বাড়ে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যায় বিভিন্ন পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিমের সরবরাহও কমেছে।

এক বিক্রেতা জানান, বর্তমানে ডিম কেনার দাম ওঠানামা করছে। কোথাও প্রতি ১০ ডজনের জন্য ১ হাজার ১৪০ থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকা পর্যন্ত পড়ছে। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে শীতের আগে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনাও কম বলে মনে করছেন তারা।

তবে ক্রেতাদের প্রশ্ন, সরবরাহ কমার প্রভাব যদি থাকে, তাহলে উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা—প্রতিটি স্তরে দাম বৃদ্ধির হিসাব স্পষ্ট করা হচ্ছে না কেন?

গরিবের প্লেট থেকে শিক্ষার্থীর খাবার—সবখানেই চাপ

ডিম এমন একটি খাদ্য, যা নিম্নআয়ের পরিবার থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, শিক্ষার্থী—প্রায় সব শ্রেণির মানুষের খাদ্যতালিকায় রয়েছে। ফলে এর দাম বাড়লে প্রভাব পড়ে বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর ওপর।

ক্রেতারা বলছেন, ডিম বিলাসী খাবার নয়; এটি সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের প্রোটিনের অন্যতম সহজ উৎস। তাই বাজারে কৃত্রিম সংকট বা কারসাজির সুযোগ থাকলে তা বন্ধ করা জরুরি।

জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব যেন ডিমে না পড়ে

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াকে অজুহাত বানিয়ে ব্যবসায়ীরা যাতে ডিমের দাম আরও বাড়াতে না পারেন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি চান ভোক্তারা।

তাদের দাবি, উৎপাদন থেকে পাইকারি ও খুচরা—প্রতিটি ধাপে মূল্য নির্ধারণের বাস্তব চিত্র প্রকাশ এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করা হোক।

কারণ, বাজারে ডিমের সরবরাহ আছে, চাহিদাও আছে; কিন্তু দাম কমার দেখা নেই। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে—ডিমের দাম কি সত্যিই উৎপাদন খরচের চাপে বাড়ছে, নাকি সরবরাহব্যবস্থার আড়ালে অন্য কোনো হিসাব কাজ করছে?