ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ন্যাম ভবনে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীকে বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে ন্যাম ভবনে তাঁর শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো বলে আদালতকে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার গাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল জানিয়েছেন, প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে ন্যাম ভবনে বসবাসের সময় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম মাঝেমধ্যে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় ঘুমাতেন।

আদালতে দেওয়া আবেদনে আরও বলা হয়, গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় তাঁর আত্মীয়ের বাসায় যাতায়াতের সূত্রে। পরে গত ১৭ জুন ধর্মীয় রীতিতে তাঁরা বিয়ে করেন এবং পরবর্তী সময়ে নিজ এলাকায় কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুলের কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

যেভাবে শুরু হয় মামলা

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পরে মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে মামলার তৃতীয় আসামি ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-২। তাঁকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ন্যাম ভবনে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীকে বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো: পুলিশ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে ন্যাম ভবনে তাঁর শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো বলে আদালতকে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার গাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল জানিয়েছেন, প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে ন্যাম ভবনে বসবাসের সময় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম মাঝেমধ্যে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় ঘুমাতেন।

আদালতে দেওয়া আবেদনে আরও বলা হয়, গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় তাঁর আত্মীয়ের বাসায় যাতায়াতের সূত্রে। পরে গত ১৭ জুন ধর্মীয় রীতিতে তাঁরা বিয়ে করেন এবং পরবর্তী সময়ে নিজ এলাকায় কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুলের কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

যেভাবে শুরু হয় মামলা

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পরে মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে মামলার তৃতীয় আসামি ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-২। তাঁকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।