ঢাকা ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রামগতিতে বিএনপি-জেএসডিসহ বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ধরা যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো মেচেতা ও মুখের দাগছোপ কমাতে যেসব থেরাপি করা হয় ১০ দিনে নতুন চুল? এই ৫ বীজ নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা ঘাড়ে ব্যথা হলে বালিশ রোদে দিলে কি সত্যিই উপকার মেলে? অভিবাসন নীতি কঠোর করার আলোচনা, মিউনিখে ইইউর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঝটিকা মিছিলের পর ফেরার বার্তা আওয়ামী লীগের, পাল্টা মাঠে বিএনপি রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার নেপথ্যে নারী এমপি? উঠছে নানা প্রশ্ন

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ধরা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৪:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। জেলার ১৮টি থানায় একযোগে চালানো এ অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর চার সক্রিয় সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯) গ্রুপটির ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা, অপরাধপ্রবণ এলাকা ও উঠতি বয়সী বখাটেদের তৎপরতার স্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘উঠতি বয়সী কিশোররা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

রতন গ্রুপের চার সদস্য আটক

কোতোয়ালি মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তাদের মধ্যে চারজন নগরের আলোচিত রতন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।

আটক আনিসুর রহমান ওরফে আনিক নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির বাসিন্দা। পুলিশের ভাষ্য, তিনি রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগনে। রতন আত্মগোপনে থাকায় বর্তমানে আনিকই গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে দাবি পুলিশের।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আনিসুর রহমান আনিক রয়েছেন, যিনি রতন গ্রুপের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।’

পুলিশ জানায়, ২০২২ সালে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন আনিক। ওই মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে আবারও গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হন বলে পুলিশের দাবি।

এ ছাড়া শনিবারের অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাই, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

আগের অভিযানেও আটক হয়েছিল ৬২৪ জন

এর আগে গত বুধবার কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও অন্যান্য অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড় এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কুমিল্লা নগরের আলোচিত কিশোর গ্যাংগুলোর মধ্যে রতন গ্রুপ বা ‘আর স্কোয়াড’ অন্যতম। ২০১৫ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নগরের কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার আলোচনায় গ্রুপটির নাম উঠে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ধরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৪:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। জেলার ১৮টি থানায় একযোগে চালানো এ অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর চার সক্রিয় সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯) গ্রুপটির ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা, অপরাধপ্রবণ এলাকা ও উঠতি বয়সী বখাটেদের তৎপরতার স্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘উঠতি বয়সী কিশোররা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

রতন গ্রুপের চার সদস্য আটক

কোতোয়ালি মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তাদের মধ্যে চারজন নগরের আলোচিত রতন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।

আটক আনিসুর রহমান ওরফে আনিক নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির বাসিন্দা। পুলিশের ভাষ্য, তিনি রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগনে। রতন আত্মগোপনে থাকায় বর্তমানে আনিকই গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে দাবি পুলিশের।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আনিসুর রহমান আনিক রয়েছেন, যিনি রতন গ্রুপের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।’

পুলিশ জানায়, ২০২২ সালে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন আনিক। ওই মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে আবারও গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হন বলে পুলিশের দাবি।

এ ছাড়া শনিবারের অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাই, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

আগের অভিযানেও আটক হয়েছিল ৬২৪ জন

এর আগে গত বুধবার কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও অন্যান্য অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড় এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কুমিল্লা নগরের আলোচিত কিশোর গ্যাংগুলোর মধ্যে রতন গ্রুপ বা ‘আর স্কোয়াড’ অন্যতম। ২০১৫ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নগরের কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার আলোচনায় গ্রুপটির নাম উঠে এসেছে।