ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ঘাড়ে ব্যথা হলে বালিশ রোদে দিলে কি সত্যিই উপকার মেলে?

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঘুম থেকে ওঠার পর ঘাড়ে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে অনেকেই বালিশকে দায়ী করেন। পুরোনো বালিশ রোদে দেওয়া বা শুকিয়ে নেওয়া দীর্ঘদিনের পরিচিত গৃহস্থালি অভ্যাস।তবে প্রশ্ন হলো—বালিশ রোদে দিলেই কি ঘাড়ের ব্যথা কমে?

সরাসরি বললে, বালিশ রোদে দেওয়ার সঙ্গে ঘাড়ের ব্যথা সারানোর সরাসরি প্রমাণ নেই। তবে বালিশ পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখা ঘুমের পরিবেশ ভালো রাখতে পারে, যা পরোক্ষভাবে উপকারী হতে পারে।

বালিশ রোদে রাখার সম্ভাব্য উপকার

সময় গড়ানোর সঙ্গে বালিশে ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ, ধুলো ও আর্দ্রতা জমতে পারে। এতে ধুলোর মাইট ও ছত্রাকের মতো অ্যালার্জেনের উপস্থিতি বাড়তে পারে। রোদে ও বাতাসে বালিশ ভালোভাবে শুকিয়ে নিলে এর আর্দ্রতা কমে এবং বালিশ সতেজ থাকে।

তবে শুধু রোদে দিলেই বালিশ পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত বা ডাস্ট মাইটমুক্ত হয়ে যায়—এমন নিশ্চয়তা নেই। বালিশের ধরন অনুযায়ী প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে নিয়মিত পরিষ্কার করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ঘাড়ের ব্যথায় বালিশের ভূমিকা

বালিশ অতিরিক্ত উঁচু, খুব নিচু বা নষ্ট হয়ে গেলে ঘুমের সময় মাথা ও ঘাড়ের স্বাভাবিক অবস্থান বদলে যেতে পারে। এতে ঘাড়ের পেশিতে চাপ পড়ে সকালে ব্যথা বা শক্তভাব দেখা দিতে পারে।

তাই—

  • চিত হয়ে ঘুমালে মাথা ও ঘাড়কে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থানে রাখে—এমন বালিশ বেছে নিন।
  • কাত হয়ে ঘুমালে মাথা যেন শরীরের সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে ওপর বা নিচে না থাকে।
  • বালিশ অতিরিক্ত শক্ত, চ্যাপ্টা বা বিকৃত হয়ে গেলে পরিবর্তন করার কথা ভাবুন।
  • বালিশ পরিষ্কার ও সম্পূর্ণ শুকনো রাখুন।
  • শুধু ‘অর্থোপেডিক’ বা ‘মেমরি ফোম’ লেখা থাকলেই সেটি সবার জন্য উপযুক্ত—এমন নয়; আরাম ও ঘাড়ের স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে বালিশ রোদে দেবেন?

দিতে পারেন, বিশেষ করে বালিশ আর্দ্র বা স্যাঁতসেঁতে হলে। এতে শুকনো ও আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু ঘাড়ের ব্যথার মূল চিকিৎসা হিসেবে এটিকে দেখা ঠিক নয়।

ঘাড়ের ব্যথা বারবার হলে, দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, বা হাত অবশ/দুর্বল হওয়া, তীব্র ব্যথা কিংবা আঘাতের পর ব্যথা শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঘাড়ে ব্যথা হলে বালিশ রোদে দিলে কি সত্যিই উপকার মেলে?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘুম থেকে ওঠার পর ঘাড়ে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে অনেকেই বালিশকে দায়ী করেন। পুরোনো বালিশ রোদে দেওয়া বা শুকিয়ে নেওয়া দীর্ঘদিনের পরিচিত গৃহস্থালি অভ্যাস।তবে প্রশ্ন হলো—বালিশ রোদে দিলেই কি ঘাড়ের ব্যথা কমে?

সরাসরি বললে, বালিশ রোদে দেওয়ার সঙ্গে ঘাড়ের ব্যথা সারানোর সরাসরি প্রমাণ নেই। তবে বালিশ পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখা ঘুমের পরিবেশ ভালো রাখতে পারে, যা পরোক্ষভাবে উপকারী হতে পারে।

বালিশ রোদে রাখার সম্ভাব্য উপকার

সময় গড়ানোর সঙ্গে বালিশে ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ, ধুলো ও আর্দ্রতা জমতে পারে। এতে ধুলোর মাইট ও ছত্রাকের মতো অ্যালার্জেনের উপস্থিতি বাড়তে পারে। রোদে ও বাতাসে বালিশ ভালোভাবে শুকিয়ে নিলে এর আর্দ্রতা কমে এবং বালিশ সতেজ থাকে।

তবে শুধু রোদে দিলেই বালিশ পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত বা ডাস্ট মাইটমুক্ত হয়ে যায়—এমন নিশ্চয়তা নেই। বালিশের ধরন অনুযায়ী প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে নিয়মিত পরিষ্কার করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ঘাড়ের ব্যথায় বালিশের ভূমিকা

বালিশ অতিরিক্ত উঁচু, খুব নিচু বা নষ্ট হয়ে গেলে ঘুমের সময় মাথা ও ঘাড়ের স্বাভাবিক অবস্থান বদলে যেতে পারে। এতে ঘাড়ের পেশিতে চাপ পড়ে সকালে ব্যথা বা শক্তভাব দেখা দিতে পারে।

তাই—

  • চিত হয়ে ঘুমালে মাথা ও ঘাড়কে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থানে রাখে—এমন বালিশ বেছে নিন।
  • কাত হয়ে ঘুমালে মাথা যেন শরীরের সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে ওপর বা নিচে না থাকে।
  • বালিশ অতিরিক্ত শক্ত, চ্যাপ্টা বা বিকৃত হয়ে গেলে পরিবর্তন করার কথা ভাবুন।
  • বালিশ পরিষ্কার ও সম্পূর্ণ শুকনো রাখুন।
  • শুধু ‘অর্থোপেডিক’ বা ‘মেমরি ফোম’ লেখা থাকলেই সেটি সবার জন্য উপযুক্ত—এমন নয়; আরাম ও ঘাড়ের স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে বালিশ রোদে দেবেন?

দিতে পারেন, বিশেষ করে বালিশ আর্দ্র বা স্যাঁতসেঁতে হলে। এতে শুকনো ও আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু ঘাড়ের ব্যথার মূল চিকিৎসা হিসেবে এটিকে দেখা ঠিক নয়।

ঘাড়ের ব্যথা বারবার হলে, দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, বা হাত অবশ/দুর্বল হওয়া, তীব্র ব্যথা কিংবা আঘাতের পর ব্যথা শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।