ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু: গ্রেপ্তার মামা ওবায়দুর স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর বৈঠক জলবায়ু বদলের শহরে বাসযোগ্যতার নতুন ভাবনা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়ং মান সাম কাদের মির্জাসহ স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক মামলা আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এক রাতেই শেষ কৃষকের স্বপ্ন, কেটে ফেলা হলো ৭০০ কলাগাছ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড কি বাংলাদেশ ছাড়ছে, নাকি বদলাচ্ছে ব্যবসার কৌশল? ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২০০ ছাড়াল, একদিনে প্রাণ গেল আরও ৬ জনের হামের দাপট কমছেই না, আরও ১১ জনের মৃত্যু

বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু, চালকের আসনে কিশোর হলেও মামলায় আসামি অন্যজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা এক নির্মাণশ্রমিককে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হলেও মামলায় আসামি করা হয়েছে অন্য এক ব্যক্তিকে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কিশোরটিকে তার চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রাইভেট কারটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তিনি দুর্ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। ফলে দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি আসলে কে চালাচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানের (২৪) বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।

ফুটপাতে বসে ছিলেন মেহেদী

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়।

গাড়ির নিচে আটকে পড়া মেহেদীর রক্তাক্ত দেহ স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে গুলশান থানায় মামলা করেন। তবে মামলায় চালকের আসনে থাকা কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

মামলায় ওই কিশোরের নাম না থাকার বিষয়ে বাদীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দুর্ঘটনার পর কিশোরকে আটক করে স্থানীয়রা

দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশও তাকে হেফাজতে নেয়।

পুলিশের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ লোকজনের হাতে কিশোরটি যাতে ‘মবের শিকার’ না হন, সে জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তার চাচার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গুলশান থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা আব্বাস আলী শরীফ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।

ভিডিও ফুটেজে চালকের আসনে কিশোর

দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজেও গাড়ির চালকের আসনে ওই কিশোরকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

ফুটেজে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর গাড়িটি একটি সড়কবাতির পোস্টে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। এরপর গাড়ি থেকে দুজন বেরিয়ে আসেন। গাড়ির ডান পাশ অর্থাৎ চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা কিশোরকে নামতে দেখা যায়। অপর পাশ দিয়ে নামেন শার্ট পরা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি।

পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুজনই গাড়ির পাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে কিশোরটিকে সেখান থেকে সরে যেতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

মামলায় আসামি আকাশ, পলাতক

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রাইভেট কারটির চালক আকাশ মারক বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তার মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকে আকাশ মারক পলাতক। গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে।

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন বলেন, নিহতের বড় ভাই গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারকের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। মামলায় কিশোরটির নাম না থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিশোরটির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু, চালকের আসনে কিশোর হলেও মামলায় আসামি অন্যজন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা এক নির্মাণশ্রমিককে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হলেও মামলায় আসামি করা হয়েছে অন্য এক ব্যক্তিকে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কিশোরটিকে তার চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রাইভেট কারটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তিনি দুর্ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। ফলে দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি আসলে কে চালাচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানের (২৪) বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।

ফুটপাতে বসে ছিলেন মেহেদী

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়।

গাড়ির নিচে আটকে পড়া মেহেদীর রক্তাক্ত দেহ স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে গুলশান থানায় মামলা করেন। তবে মামলায় চালকের আসনে থাকা কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

মামলায় ওই কিশোরের নাম না থাকার বিষয়ে বাদীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দুর্ঘটনার পর কিশোরকে আটক করে স্থানীয়রা

দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশও তাকে হেফাজতে নেয়।

পুলিশের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ লোকজনের হাতে কিশোরটি যাতে ‘মবের শিকার’ না হন, সে জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তার চাচার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গুলশান থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা আব্বাস আলী শরীফ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।

ভিডিও ফুটেজে চালকের আসনে কিশোর

দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজেও গাড়ির চালকের আসনে ওই কিশোরকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

ফুটেজে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর গাড়িটি একটি সড়কবাতির পোস্টে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। এরপর গাড়ি থেকে দুজন বেরিয়ে আসেন। গাড়ির ডান পাশ অর্থাৎ চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা কিশোরকে নামতে দেখা যায়। অপর পাশ দিয়ে নামেন শার্ট পরা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি।

পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুজনই গাড়ির পাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে কিশোরটিকে সেখান থেকে সরে যেতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

মামলায় আসামি আকাশ, পলাতক

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রাইভেট কারটির চালক আকাশ মারক বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তার মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকে আকাশ মারক পলাতক। গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে।

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন বলেন, নিহতের বড় ভাই গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারকের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। মামলায় কিশোরটির নাম না থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিশোরটির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।