ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোস্টগার্ডের পাঁচ জাহাজের নাম পরিবর্তন, বাদ জাতীয় চার নেতার নাম বিএনপি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের প্রকল্প নিয়েছে: নাহিদ ইসলাম হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩১৪ যমুনার দুর্গম চরে হেকমতের হুমকিতে অবরুদ্ধ পরিবার, নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে হয়রানি না থাকলে শ্রমিকদের ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম: মাসুদুজ্জামান ঝালকাঠিতে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বিশেষ চিকিৎসা ক্যাম্প শীতের সবজিতে নামছে দাম, বাজারজুড়ে স্বস্তি এখনো অসম্পূর্ণ সাবেক স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ, অনলাইনে আবেদন করবেন কীভাবে নারীর নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জুবাইদার

খিদে পেলেই পেটে গুড়গুড় শব্দ? কারণ জানালেন গবেষকরা

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের মাঝে হঠাৎ পেট থেকে গুড়গুড় শব্দ—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে বা উপোস করলে এই শব্দ আরও বেশি শোনা যায়। অনেকেই এটিকে শুধু খিদের সংকেত মনে করেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এর পেছনে রয়েছে শরীরের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়া।

গবেষকদের মতে, পেটের এই শব্দের মূল উৎস হলো পরিপাকনালি। মুখ থেকে পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র হয়ে বৃহদন্ত্র পর্যন্ত বিস্তৃত এই নালিপথে খাবার চলাচল করে। খাবার হজমের জন্য পরিপাকনালির পেশিগুলো নিয়মিত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘পেরিস্টলসিস’।

পাকস্থলী ও অন্ত্রে সবসময় কিছুটা তরল, পাচকরস এবং বাতাস থাকে। পেরিস্টলসিসের সময় এগুলো যখন নালির ভেতর দিয়ে চলাচল করে, তখনই তৈরি হয় নানা ধরনের শব্দ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই শব্দকে বলা হয় ‘বরবোরিগমি’।

খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলী ভর্তি থাকে বলে সাধারণত শব্দ কম শোনা যায়। কিন্তু খাবার গ্রহণের ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর পাকস্থলী ধীরে ধীরে খালি হতে শুরু করলে তরল ও বাতাসের চলাচল বেড়ে যায়। তখনই পেটে গুড়গুড় শব্দ বেশি হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পেটে ঘ্রেলিন নামের একটি হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন শরীরকে খাবারের প্রয়োজনের সংকেত দেয়। তখন মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের স্নায়ুতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করে পাকস্থলী ও অন্ত্র পরিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করে। এ সময় অন্ত্রের পেশির দ্রুত সংকোচন ও প্রসারণের কারণে বাতাস ও তরলের চাপ তৈরি হয়, যার ফলেই শোনা যায় জোরালো শব্দ।

কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন?

মাঝেমধ্যে পেটে গুড়গুড় শব্দ হওয়া স্বাভাবিক। তবে এটি যদি প্রায় সারাক্ষণ হতে থাকে বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

বিশেষ করে পেটে শব্দের সঙ্গে যদি থাকে—

  • তীব্র পেটব্যথা বা মোচড়ানো অনুভূতি
  • বমি ভাব বা বমি
  • খিদে কমে যাওয়া
  • পেট ফাঁপা বা ভারী লাগা
  • অতিরিক্ত মলত্যাগ বা কোষ্ঠকাঠিন্য
  • ঘন ঘন ডায়রিয়া
  • মলের সঙ্গে রক্ত
  • রক্তাল্পতার লক্ষণ

তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপসর্গ কখনো কখনো ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), অন্ত্রের সমস্যা কিংবা লিভার ও অগ্ন্যাশয়ের জটিলতার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই শুধু খিদের কারণে হচ্ছে ভেবে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা ঠিক নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খিদে পেলেই পেটে গুড়গুড় শব্দ? কারণ জানালেন গবেষকরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের মাঝে হঠাৎ পেট থেকে গুড়গুড় শব্দ—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে বা উপোস করলে এই শব্দ আরও বেশি শোনা যায়। অনেকেই এটিকে শুধু খিদের সংকেত মনে করেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এর পেছনে রয়েছে শরীরের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়া।

গবেষকদের মতে, পেটের এই শব্দের মূল উৎস হলো পরিপাকনালি। মুখ থেকে পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র হয়ে বৃহদন্ত্র পর্যন্ত বিস্তৃত এই নালিপথে খাবার চলাচল করে। খাবার হজমের জন্য পরিপাকনালির পেশিগুলো নিয়মিত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘পেরিস্টলসিস’।

পাকস্থলী ও অন্ত্রে সবসময় কিছুটা তরল, পাচকরস এবং বাতাস থাকে। পেরিস্টলসিসের সময় এগুলো যখন নালির ভেতর দিয়ে চলাচল করে, তখনই তৈরি হয় নানা ধরনের শব্দ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই শব্দকে বলা হয় ‘বরবোরিগমি’।

খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলী ভর্তি থাকে বলে সাধারণত শব্দ কম শোনা যায়। কিন্তু খাবার গ্রহণের ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর পাকস্থলী ধীরে ধীরে খালি হতে শুরু করলে তরল ও বাতাসের চলাচল বেড়ে যায়। তখনই পেটে গুড়গুড় শব্দ বেশি হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পেটে ঘ্রেলিন নামের একটি হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন শরীরকে খাবারের প্রয়োজনের সংকেত দেয়। তখন মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের স্নায়ুতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করে পাকস্থলী ও অন্ত্র পরিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করে। এ সময় অন্ত্রের পেশির দ্রুত সংকোচন ও প্রসারণের কারণে বাতাস ও তরলের চাপ তৈরি হয়, যার ফলেই শোনা যায় জোরালো শব্দ।

কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন?

মাঝেমধ্যে পেটে গুড়গুড় শব্দ হওয়া স্বাভাবিক। তবে এটি যদি প্রায় সারাক্ষণ হতে থাকে বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

বিশেষ করে পেটে শব্দের সঙ্গে যদি থাকে—

  • তীব্র পেটব্যথা বা মোচড়ানো অনুভূতি
  • বমি ভাব বা বমি
  • খিদে কমে যাওয়া
  • পেট ফাঁপা বা ভারী লাগা
  • অতিরিক্ত মলত্যাগ বা কোষ্ঠকাঠিন্য
  • ঘন ঘন ডায়রিয়া
  • মলের সঙ্গে রক্ত
  • রক্তাল্পতার লক্ষণ

তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপসর্গ কখনো কখনো ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), অন্ত্রের সমস্যা কিংবা লিভার ও অগ্ন্যাশয়ের জটিলতার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই শুধু খিদের কারণে হচ্ছে ভেবে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা ঠিক নয়।