আর ডিজেল নয়, বৈদ্যুতিক ট্রেনে ছুটবে বাংলাদেশ রেল

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রেলপথকে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশনের আওতায় আনার জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি আগামী বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।
‘নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে বৈদ্যুতিক ট্রাকশন প্রবর্তন’ নামের এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) থেকে উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০৩১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশের রেল যোগাযোগ মূলত ডিজেলচালিত ইঞ্জিননির্ভর। প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে জ্বালানি খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ কমবে। একই সঙ্গে ট্রেনের গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরোনো ডিজেল ইঞ্জিনের কারণে বর্তমানে ট্রেনগুলো কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলতে পারে না, ফলে যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ট্রিপ পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়ে।
যেভাবে হবে রেলপথের বিদ্যুতায়ন
প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটের রেললাইনকে ডিজেলচালিত ব্যবস্থা থেকে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হবে। এজন্য রেললাইনের ওপর স্থাপন করা হবে ‘ওভারহেড ওয়্যার’ বা বৈদ্যুতিক তার। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হবে ট্রাকশন সাবস্টেশন।
এ ছাড়া আধুনিক ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) ট্রেন, বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন এবং কম্পিউটারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ট্রেন দ্রুত গতি অর্জন ও দ্রুত থামতে সক্ষম হওয়ায় স্টেশনে অপেক্ষার সময় কমবে। এর ফলে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে যাতায়াতের সময় অর্ধেকেরও বেশি কমে আসতে পারে।
কমবে খরচ, বাড়বে পরিবেশবান্ধব যাত্রা
রেল কর্মকর্তারা বলছেন, বৈদ্যুতিক ট্রেনে শুরুতে বিনিয়োগ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কম হবে। এ ব্যবস্থায় পরিচালনা ব্যয় প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। ফলে এটি হবে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা।
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ৩ হাজার ৯৩ কিলোমিটার রেল নেটওয়ার্কে ডিজেলচালিত ট্রেন চলাচল করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ধাপে ধাপে রেলপথ বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে দেশের রেল ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটেও আসছে বৈদ্যুতিক ট্রেন
নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটের পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথেও বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বৈদ্যুতিক ট্রাকশন চালুর লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশার কাজ শেষ হয়েছে। অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ব্যস্ততম রেলপথগুলো বিদ্যুতায়িত হলে যাত্রীসেবা বাড়ার পাশাপাশি রেলের গতি, নিরাপত্তা ও দক্ষতায় বড় পরিবর্তন আসবে।




















