ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা, ১৩ দিনে এলো ১৪২ কোটি ডলার বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে পবিপ্রবির ৫ উদ্ভাবন, নজর কাড়ল ‘ই-নিবাস’ অ্যাপ একজন ব্যাংক কর্মকর্তার নীরব আর্তি ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী সেলিম উদ্দিন ও সাদিক কায়েম আর ডিজেল নয়, বৈদ্যুতিক ট্রেনে ছুটবে বাংলাদেশ রেল ডেঙ্গুর ভয়াল থাবা, একদিনে ৮ মৃত্যু; হাসপাতালে ভর্তির নতুন রেকর্ড কাবিননামায় বর-কনের আগের বিয়ে, সন্তান ও পরিচয়পত্রের তথ্য চায় হাইকোর্ট ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি, মিলতে পারে টানা চার দিনের অবকাশ শিল্পে গ্যাস সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী হাতিয়ায় ফের শ্রেণি কক্ষে অসুস্থ ২১ শিক্ষার্থী

শিল্পে গ্যাস সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ আগামীকাল থেকে প্রায় দেড় মাস আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি থেকে বিরত থেকে সরকারকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় তিন ঘণ্টার এ বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বৈঠকের বিষয়গুলো সাংবাদিকদের জানান।

‘বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া’

সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

দুর্ঘটনার কারণে কমেছিল গ্যাস সরবরাহ

বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে।

তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা সমাধান হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।’

ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

‘পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় লাগে’

বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সমাধানের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, যেকোনো বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের সমস্যা চাইলেই অল্প সময়ে সমাধান করা সম্ভব নয়।

সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে সম্ভাব্য সময়সীমা তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে, তবে সরকারের সামনে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

‘জ্বালানি সংকট শুধু ব্যবসায়ীদের বিষয় নয়’

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্প ও ব্যবসা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পুরো অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত।

তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরছে এবং সমাধানে কাজ করছে।

‘পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করুন’

সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু ব্যবসায়ী নয়, পুরো দেশ উপকৃত হবে।

দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ সময়মতো সিদ্ধান্ত নেবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে পরিকল্পিত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে জানানো প্রয়োজন। এতে বিভ্রান্তি কমবে এবং গণমাধ্যম সঠিক তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারবে।

তিনি বলেন, বড় কোনো কাজ সফল করতে কার্যকর দল প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, আইসিসিবি, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শিল্পে গ্যাস সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ আগামীকাল থেকে প্রায় দেড় মাস আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি থেকে বিরত থেকে সরকারকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় তিন ঘণ্টার এ বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বৈঠকের বিষয়গুলো সাংবাদিকদের জানান।

‘বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া’

সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

দুর্ঘটনার কারণে কমেছিল গ্যাস সরবরাহ

বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে।

তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা সমাধান হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।’

ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

‘পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় লাগে’

বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সমাধানের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, যেকোনো বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের সমস্যা চাইলেই অল্প সময়ে সমাধান করা সম্ভব নয়।

সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে সম্ভাব্য সময়সীমা তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে, তবে সরকারের সামনে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

‘জ্বালানি সংকট শুধু ব্যবসায়ীদের বিষয় নয়’

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্প ও ব্যবসা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পুরো অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত।

তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরছে এবং সমাধানে কাজ করছে।

‘পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করুন’

সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু ব্যবসায়ী নয়, পুরো দেশ উপকৃত হবে।

দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ সময়মতো সিদ্ধান্ত নেবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে পরিকল্পিত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে জানানো প্রয়োজন। এতে বিভ্রান্তি কমবে এবং গণমাধ্যম সঠিক তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারবে।

তিনি বলেন, বড় কোনো কাজ সফল করতে কার্যকর দল প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, আইসিসিবি, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।