পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নে প্রান্তিক খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের আহ্বান

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
পোল্ট্রি খাতকে কৃষির সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পিত ও টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রান্তিক খামারিরা যেন মুরগি ও ডিমের ন্যায্যমূল্য পান এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে এসব পণ্যের দাম—এ দুয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (BPICC) উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পোল্ট্রি খাতে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, একই সঙ্গে পণ্যের মানও নিশ্চিত করতে হবে। খামারিরা তাঁদের উৎপাদিত ডিম ও মুরগির ন্যায্যমূল্য পাবেন, আবার ভোক্তারাও যেন সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ ও মানসম্মত ডিম ও মাংস কিনতে পারেন—এ বিষয়টি সমন্বয় করেই এগোতে হবে।
তিনি বলেন, ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন বাড়ানো গেলে বাজারে সরবরাহও বাড়বে। এতে দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনাকেও আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।
পোল্ট্রি খাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের ওপরও জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে ডিম, মাংস ও পোল্ট্রি ফিডের মান নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোল্ট্রি খাতের পরিকল্পিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এ খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার সহযোগিতা করবে। বিশেষ করে প্রান্তিক খামারিরা যাতে উৎপাদন ধরে রাখতে পারেন, সেজন্য ঋণসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পোল্ট্রি খাতের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করতে মাঠপর্যায়ের খামারিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, খামারিদের সমস্যা সরাসরি শুনে সমাধানের পথ খুঁজতে গাজীপুর, ধামরাই, মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের প্রান্তিক খামারিদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হবে।
তিনি বলেন, উদ্যোক্তা, খামারি ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে এগিয়ে এলে দেশের পোল্ট্রি শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।
দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ও মানসম্মত আমিষের জোগান নিশ্চিত করতে পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নে সরকারের নীতিগত ও প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (FIAB) ও বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (BPICC) সভাপতি মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (BAB)-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান, FIAB-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আহসানউজ্জামান, WPSA-BB-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, BPICC-এর সচিব এ. টি. এম. মোস্তফা কামাল এবং নরিশের পরিচালক রফিকুল ইসলাম (বাবু)সহ পোল্ট্রি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।



























