জুলাই জাদুঘরে প্রামাণ্যচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত রাষ্ট্রপতি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের দেয়ালে দেয়ালে আন্দোলনের স্মৃতি, শহিদদের চিঠি আর আত্মত্যাগের নানা নিদর্শন। এসব দেখার পর একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্রে চোখ রাখতেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে গণতন্ত্র ফিরে এলেও এর জন্য জাতিকে দিতে হয়েছে অনেক বড় মূল্য।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের ঋণ কোনোভাবেই শোধ করার নয়। তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে যান রাষ্ট্রপতি। সেখানে তাকে স্বাগত জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দর্শনার্থীর টিকিট নিয়ে জাদুঘরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ বা দীর্ঘ গণতান্ত্রিক যাত্রার ওয়াকওয়ে ঘুরে দেখেন তিনি। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ের ঐতিহাসিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এরপর দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে শহিদদের স্মরণে নির্মিত স্মারক, রেপ্লিকা আয়নাঘরসহ জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রপতি। বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, নির্যাতনের নানা সামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমের ঘটনাসংক্রান্ত নিদর্শনও দেখেন তিনি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন রাষ্ট্রপতি।
জাদুঘরের প্রদর্শনীতে থাকা শহিদদের চিঠি, স্মারক ও ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন দেখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং আত্মত্যাগের নানা চিত্রও গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখেন রাষ্ট্রপতি।
পরে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখেন তিনি। প্রামাণ্যচিত্র চলার সময় রাষ্ট্রপতিকে অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায়।
পরিদর্শন শেষে জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি লেখেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এ দেশে আর কোনো মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণও কামনা করেন তিনি।
শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া এবং আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার ত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একই সঙ্গে শহিদদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা, দলিলপত্র ও প্রদর্শনীর বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে ব্রিফ করেন গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।






















