ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টাঙ্গাইলে প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরস্কার বিতরণ ভেনিস কাণ্ডে কী বললেন অভিনেত্রী বাঁধন? লক্ষ্মীপুরে ৩৫৫ কেজি নকল ঘি জব্দ, লাখ টাকা জরিমানা জুলাই জাদুঘরে প্রামাণ্যচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত রাষ্ট্রপতি দুর্নীতির তদন্ত শেষ হলেই ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী ঝালকাঠিতে ৩৬ প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে ছাড়া হবে পোনামাছ হামের চিকিৎসায় ঋণের বোঝা, কমছে না সংক্রমণ, বাড়ছে মৃত্যুও সরকারি নথিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর নামের আগে ‘মহামান্য-মাননীয়’ নয় মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর বার্তা, ঢাকায় তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রাণীশংকৈল-হরিপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান

ভেনিস কাণ্ডে কী বললেন অভিনেত্রী বাঁধন?

বিনোদন প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইটালির ভেনিসে হামলা ও হেনস্থার ঘটনার পর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ঘটনার শেষ না দেখে ভেনিস ছাড়বেন না জানিয়ে তিনি বলেছেন, থানায় গিয়ে মামলা করবেন এবং পুরো ঘটনার শেষ পর্যন্ত লড়বেন।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বাঁধন বলেন, ‘আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটার শেষ দেখে ছাড়ব।’

তিনি জানান, ঘটনার পর বাংলাদেশের দূতাবাস তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও তাঁকে ফোন করেছেন। দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

ঘটনার পর নিজের শারীরিক অবস্থার কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। বাঁধনের দাবি, তিনি ভালো আছেন এবং এই ঘটনায় ভেঙে পড়েননি।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার মাথা কখনও নত করিনি। আর সেটা করতে ভুলেও গিয়েছি। তাই আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়।’

বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনার প্রয়োজনীয় প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। কয়েকজনকে ইতোমধ্যে শনাক্তও করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

নিজের চেয়েও পরিবারের হেনস্থায় ক্ষুব্ধ বাঁধন

তবে নিজের ওপর হামলার চেয়েও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে করা আচরণে বেশি ক্ষুব্ধ বাঁধন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁর ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী এবং তাঁদের তিন বছরের শিশুসন্তানও হেনস্থার শিকার হন।

এ প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, ‘আমার ভাই এবং তার পরিবার, তার ছোট বাচ্চা ও তার স্ত্রীর যেভাবে হেনস্থা হয়েছে, সেটার জন্য আমি মারাত্মকভাবে বিরক্ত।’

অভিনেত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁকে লক্ষ্য করে পানি ও ডিম ছোড়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় এবং হাত থেকে তাঁর মুঠোফোনও ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গেই ছিলেন।

হামলার পেছনে রাজনৈতিক কারণের অভিযোগ

বাঁধনের অভিযোগ, হামলার পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অবস্থানের কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলেও কটূক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাঁধন।

চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতেই ভেনিসে গিয়েছিলেন

ভেনিসে চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতেই গিয়েছিলেন বাঁধন। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ছবির সঙ্গে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেন তিনি। গত ৬ সেপ্টেম্বর উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনী হয়।

ছবির প্রদর্শনীর পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন বাঁধন। তখনই হামলার মুখে পড়েন বলে তাঁর দাবি।

ঘটনার পর দেশ-বিদেশ থেকে অনেকে তাঁকে ফোন ও বার্তা পাঠিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বাঁধন বলেন, ‘বাঁধন সাহস হারানোর জন্য জন্মায়নি। আমাকে ভয় দেখানো, আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়।’

মামলা দায়ের করে ঘটনার শেষ পর্যন্ত লড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আইনি প্রক্রিয়া শুরু না করে ভেনিস ছাড়বেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভেনিস কাণ্ডে কী বললেন অভিনেত্রী বাঁধন?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইটালির ভেনিসে হামলা ও হেনস্থার ঘটনার পর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ঘটনার শেষ না দেখে ভেনিস ছাড়বেন না জানিয়ে তিনি বলেছেন, থানায় গিয়ে মামলা করবেন এবং পুরো ঘটনার শেষ পর্যন্ত লড়বেন।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বাঁধন বলেন, ‘আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটার শেষ দেখে ছাড়ব।’

তিনি জানান, ঘটনার পর বাংলাদেশের দূতাবাস তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও তাঁকে ফোন করেছেন। দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

ঘটনার পর নিজের শারীরিক অবস্থার কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। বাঁধনের দাবি, তিনি ভালো আছেন এবং এই ঘটনায় ভেঙে পড়েননি।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার মাথা কখনও নত করিনি। আর সেটা করতে ভুলেও গিয়েছি। তাই আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়।’

বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনার প্রয়োজনীয় প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। কয়েকজনকে ইতোমধ্যে শনাক্তও করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

নিজের চেয়েও পরিবারের হেনস্থায় ক্ষুব্ধ বাঁধন

তবে নিজের ওপর হামলার চেয়েও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে করা আচরণে বেশি ক্ষুব্ধ বাঁধন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁর ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী এবং তাঁদের তিন বছরের শিশুসন্তানও হেনস্থার শিকার হন।

এ প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, ‘আমার ভাই এবং তার পরিবার, তার ছোট বাচ্চা ও তার স্ত্রীর যেভাবে হেনস্থা হয়েছে, সেটার জন্য আমি মারাত্মকভাবে বিরক্ত।’

অভিনেত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁকে লক্ষ্য করে পানি ও ডিম ছোড়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় এবং হাত থেকে তাঁর মুঠোফোনও ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গেই ছিলেন।

হামলার পেছনে রাজনৈতিক কারণের অভিযোগ

বাঁধনের অভিযোগ, হামলার পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অবস্থানের কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলেও কটূক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাঁধন।

চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতেই ভেনিসে গিয়েছিলেন

ভেনিসে চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতেই গিয়েছিলেন বাঁধন। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ছবির সঙ্গে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেন তিনি। গত ৬ সেপ্টেম্বর উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনী হয়।

ছবির প্রদর্শনীর পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন বাঁধন। তখনই হামলার মুখে পড়েন বলে তাঁর দাবি।

ঘটনার পর দেশ-বিদেশ থেকে অনেকে তাঁকে ফোন ও বার্তা পাঠিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বাঁধন বলেন, ‘বাঁধন সাহস হারানোর জন্য জন্মায়নি। আমাকে ভয় দেখানো, আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়।’

মামলা দায়ের করে ঘটনার শেষ পর্যন্ত লড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আইনি প্রক্রিয়া শুরু না করে ভেনিস ছাড়বেন না।