ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি

চাকরি হারাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা ও পলাতক থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্তের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ কর্মকর্তা হলেন—বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই অনুমোদিত ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিতি

সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ছুটি শেষ হওয়ার পরও কর্মকর্তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি। পরে তাদের নোটিশ দেওয়া হলেও কেউ কর্মস্থলে যোগ দেননি বা নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি।

অননুমোদিত অনুপস্থিতির মেয়াদ ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মামলায় বিধিমালার ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো জবাব দেননি। পরে অভিযোগ তদন্তে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। এরপর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তাতেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

পিএসসির পরামর্শ, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষা

তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগের গুরুত্ব পর্যালোচনার পর বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়।

পরে সরকারি কর্ম কমিশন পাঁচ কর্মকর্তাকেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে মতামত দেয়।

এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৬) বিধি অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পরই বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কে কোথায় আছেন

নথি অনুযায়ী, বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বর্তমানে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী সাময়িক বরখাস্ত এবং পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। সুদীপ কুমার চক্রবর্তীও সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক রয়েছেন। আর মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

অতীতের অভিযোগও আলোচনায়

চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতে থাকা বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দমন-পীড়নের ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মো. গোলাম রুহানী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ডিএমপির মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তিনি তৎকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই।

সুদীপ কুমার চক্রবর্তীও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে গুরুতর অভিযোগের মুখে রয়েছেন। রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছাত্র-জনতা হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজন কুমার দাস ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ ও গুলির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তার একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

সব মিলিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগে শুরু হওয়া বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার চাকরি হারানোর পথ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও পরবর্তী প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছে পুরো প্রক্রিয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি

চাকরি হারাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা ও পলাতক থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্তের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ কর্মকর্তা হলেন—বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই অনুমোদিত ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিতি

সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ছুটি শেষ হওয়ার পরও কর্মকর্তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি। পরে তাদের নোটিশ দেওয়া হলেও কেউ কর্মস্থলে যোগ দেননি বা নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি।

অননুমোদিত অনুপস্থিতির মেয়াদ ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মামলায় বিধিমালার ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো জবাব দেননি। পরে অভিযোগ তদন্তে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। এরপর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তাতেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

পিএসসির পরামর্শ, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষা

তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগের গুরুত্ব পর্যালোচনার পর বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়।

পরে সরকারি কর্ম কমিশন পাঁচ কর্মকর্তাকেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে মতামত দেয়।

এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৬) বিধি অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পরই বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কে কোথায় আছেন

নথি অনুযায়ী, বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বর্তমানে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী সাময়িক বরখাস্ত এবং পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। সুদীপ কুমার চক্রবর্তীও সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক রয়েছেন। আর মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

অতীতের অভিযোগও আলোচনায়

চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতে থাকা বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দমন-পীড়নের ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মো. গোলাম রুহানী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ডিএমপির মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তিনি তৎকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই।

সুদীপ কুমার চক্রবর্তীও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে গুরুতর অভিযোগের মুখে রয়েছেন। রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছাত্র-জনতা হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজন কুমার দাস ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ ও গুলির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তার একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

সব মিলিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগে শুরু হওয়া বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার চাকরি হারানোর পথ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও পরবর্তী প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছে পুরো প্রক্রিয়া।