বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা কি মির্জা ফখরুল? বিএনপিতে জোর আলোচনা, সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, যদিও শুরুতে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় ছিল, শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দলের শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও তারা জানান।
রাজনীতিবিদকেই রাষ্ট্রপতি করতে চায় বিএনপি
বিএনপির অবস্থান হচ্ছে, এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলের ভেতর থেকেই একজন অভিজ্ঞ ও সক্রিয় রাজনীতিবিদকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। সে বিবেচনায় দীর্ঘদিন দলের নেতৃত্ব, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে মির্জা ফখরুলের নাম সামনে এসেছে।
দলীয় সূত্রগুলোর মতে, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপির কঠিন সময়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, আন্দোলন পরিচালনা এবং মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার এই অবদানকে মূল্যায়নের অংশ হিসেবেও তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, লন্ডনে অবস্থান করে তারেক রহমান দলকে নেতৃত্ব দিলেও দেশে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা এবং সংগঠনকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ছিলেন সবচেয়ে দৃশ্যমান নেতৃত্ব।
ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিবেচনায়
বিএনপির নেতাদের মতে, দলীয় পরিচয়ের বাইরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের কাছেও মির্জা ফখরুলের একটি গ্রহণযোগ্য ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে দলটির ভেতরে এ নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। একাংশের মতে, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বঙ্গভবনে পাঠানো উচিত। অন্যদিকে, আরেকটি অংশ মনে করে, সরকার ও দলের জন্য এখনো তার মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, তিনি শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
আলোচনায় ছিলেন আরও যারা
মির্জা ফখরুল ছাড়াও রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় ছিল। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রায় নিশ্চিত বিএনপির জন্য
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী বিএনপি যাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেবে, সংসদ সদস্যদের ভোটে তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৩ আগস্ট, যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট।
প্রার্থী দেবে না জামায়াত
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যা না থাকায় প্রার্থী দিলেও নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই। তবে তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিএনপি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।
একক প্রার্থী হলে ভোটের প্রয়োজন হবে না
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, মনোনয়ন যাচাইয়ের পর যদি একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে।
তবে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।




















