ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা কি মির্জা ফখরুল? বিএনপিতে জোর আলোচনা, সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান নদীদূষণ রোধে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে এলো থাইল্যান্ডের শীর্ষ কফি ব্র্যান্ড ‘ক্যাফে আমাজন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কীভাবে বদলে দিচ্ছে রাজনীতি? খুলে গেল জুলাই জাদুঘর, দিনে প্রবেশ করতে পারবেন ৯০০ দর্শনার্থী নতুন করে ১০ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা, তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে আড়িয়াল বিলের পাঁচ প্রজাতির দেশীয় মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি কই মাছে সিলেটের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের কেউ আত্মগোপনে, কেউ বিদেশে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদমাধ্যমে বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ বাংলাদেশের জামিনে থাকা অবস্থায় নির্বাচনী জয়, রুখসার আহমেদকে ঘিরে বিতর্ক

নদীদূষণ রোধে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নদীগুলোর দূষণ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জাতিকে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি নদীদূষণ রোধে কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো ধরনের অবহেলা না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বিষয়টি জানিয়েছেন।

বৈঠকে বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে দ্রুত একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং রাজধানীসংলগ্ন অন্যান্য নদীর বর্তমান পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনায় শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খালের নাব্যতা হ্রাস এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে নদীদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বৈঠকে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) কার্যকরভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যমান পরিবেশ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বিআইডব্লিউটিএ, রাজউক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বৈঠকে রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে একটি সমন্বিত ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় করবে এবং নির্ধারিত সময় অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা নৌ এলাকার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নদীদূষণ রোধে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নদীগুলোর দূষণ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জাতিকে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি নদীদূষণ রোধে কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো ধরনের অবহেলা না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বিষয়টি জানিয়েছেন।

বৈঠকে বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে দ্রুত একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং রাজধানীসংলগ্ন অন্যান্য নদীর বর্তমান পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনায় শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খালের নাব্যতা হ্রাস এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে নদীদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বৈঠকে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) কার্যকরভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যমান পরিবেশ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বিআইডব্লিউটিএ, রাজউক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বৈঠকে রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে একটি সমন্বিত ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় করবে এবং নির্ধারিত সময় অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা নৌ এলাকার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।