ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দগ্ধ রাকিবের চিকিৎসায় আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের সহায়তা সতর্ক না হলে বাড়তে পারে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি অবশেষে থামছে ইউক্রেন যুদ্ধ? গ্রামই জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি, পল্লি উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাধ্যতামূলক অবসরে ঊর্ধ্বতন ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদনের আদেশ ১২ জুলাই হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ফাইল অডিটের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, করদাতাদের সতর্ক করল এনবিআর জাইকার সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের উদ্যোগ

সতর্ক না হলে বাড়তে পারে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একসময় মনে করা হতো, লিভারের সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ কেবল মদ্যপান। কিন্তু এখন চিকিৎসকেরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসও সমানভাবে লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) বর্তমানে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

ফ্যাটি লিভারকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়, কারণ শুরুতে এর তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি লিভার সিরোসিস, এমনকি লিভার ক্যানসারের মতো জটিল রোগের কারণ হতে পারে।

যেসব খাবার ও অভ্যাস লিভারের ক্ষতি বাড়ায়

চিনিযুক্ত কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত জুস
কার্বনেটেড সফট ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস এবং প্যাকেটজাত ফলের রসে অতিরিক্ত চিনি ও ফ্রুক্টোজ থাকে। নিয়মিত এসব পানীয় পান করলে লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ে। এর বদলে লেবুর শরবত, লস্যি, ছাছ বা ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুড
পিজ্জা, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস, প্রসেসড মাংসসহ অতিরিক্ত তেল, লবণ ও ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার লিভারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন
সামান্য ব্যথা বা জ্বর হলেই অনেকেই নিজের মতো করে ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা ভুল মাত্রায় এসব ওষুধ সেবন লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

ভেষজ সাপ্লিমেন্ট
ভেষজ বা হারবাল হলেই তা সম্পূর্ণ নিরাপদ—এ ধারণা ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিভিন্ন হারবাল সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে উল্টো লিভারের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আরও যেসব কারণে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে

শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, হেপাটাইটিস বি ও সি-এর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণও লিভারের স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সময়মতো টিকা নেওয়া, নিরাপদ পানি পান করা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।

লিভার সুস্থ রাখতে যা করবেন

  • অতিরিক্ত চিনি ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন।
  • প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুড কম খান।
  • প্রতিদিন সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা হারবাল সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবেন না।
  • হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নিন এবং প্রয়োজন হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসই লিভারকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সতর্ক না হলে বাড়তে পারে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

একসময় মনে করা হতো, লিভারের সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ কেবল মদ্যপান। কিন্তু এখন চিকিৎসকেরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসও সমানভাবে লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) বর্তমানে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

ফ্যাটি লিভারকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়, কারণ শুরুতে এর তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি লিভার সিরোসিস, এমনকি লিভার ক্যানসারের মতো জটিল রোগের কারণ হতে পারে।

যেসব খাবার ও অভ্যাস লিভারের ক্ষতি বাড়ায়

চিনিযুক্ত কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত জুস
কার্বনেটেড সফট ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস এবং প্যাকেটজাত ফলের রসে অতিরিক্ত চিনি ও ফ্রুক্টোজ থাকে। নিয়মিত এসব পানীয় পান করলে লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ে। এর বদলে লেবুর শরবত, লস্যি, ছাছ বা ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুড
পিজ্জা, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস, প্রসেসড মাংসসহ অতিরিক্ত তেল, লবণ ও ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার লিভারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন
সামান্য ব্যথা বা জ্বর হলেই অনেকেই নিজের মতো করে ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা ভুল মাত্রায় এসব ওষুধ সেবন লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

ভেষজ সাপ্লিমেন্ট
ভেষজ বা হারবাল হলেই তা সম্পূর্ণ নিরাপদ—এ ধারণা ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিভিন্ন হারবাল সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে উল্টো লিভারের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আরও যেসব কারণে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে

শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, হেপাটাইটিস বি ও সি-এর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণও লিভারের স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সময়মতো টিকা নেওয়া, নিরাপদ পানি পান করা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।

লিভার সুস্থ রাখতে যা করবেন

  • অতিরিক্ত চিনি ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন।
  • প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুড কম খান।
  • প্রতিদিন সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা হারবাল সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবেন না।
  • হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নিন এবং প্রয়োজন হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসই লিভারকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।