ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের সঙ্গে ৯০ মিনিট ফোনালাপ পুতিনের

অবশেষে থামছে ইউক্রেন যুদ্ধ?

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলাদাভাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে প্রায় ৯০ মিনিটের ফোনালাপে যুদ্ধ বন্ধ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় দ্রুত যুদ্ধবিরতি, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে পুতিন ট্রাম্পকে মস্কো সফরের আমন্ত্রণও জানান। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানই তাদের অগ্রাধিকার।

রুশ প্রেসিডেন্টের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি জানান, আলোচনাটি অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনকে সামনে রেখেই দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে পুতিন বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে রাশিয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ফোনালাপে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছাও জানান পুতিন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তাঁর দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। প্রয়োজনে তারা রাশিয়া সফরেও যেতে প্রস্তুত রয়েছেন।

এ ছাড়া আলোচনায় ইরান ইস্যুও উঠে আসে। পুতিন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক যোগাযোগ ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ট্রাম্পের সঙ্গে ৯০ মিনিট ফোনালাপ পুতিনের

অবশেষে থামছে ইউক্রেন যুদ্ধ?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলাদাভাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে প্রায় ৯০ মিনিটের ফোনালাপে যুদ্ধ বন্ধ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় দ্রুত যুদ্ধবিরতি, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে পুতিন ট্রাম্পকে মস্কো সফরের আমন্ত্রণও জানান। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানই তাদের অগ্রাধিকার।

রুশ প্রেসিডেন্টের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি জানান, আলোচনাটি অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনকে সামনে রেখেই দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে পুতিন বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে রাশিয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ফোনালাপে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছাও জানান পুতিন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তাঁর দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। প্রয়োজনে তারা রাশিয়া সফরেও যেতে প্রস্তুত রয়েছেন।

এ ছাড়া আলোচনায় ইরান ইস্যুও উঠে আসে। পুতিন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক যোগাযোগ ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে।