সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আইন আধুনিকায়ন করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের কারণে পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রয়োজন হলে নতুন আইনও প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রোববার (৫ জুলাই) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন আধুনিকায়ন ও নতুন আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনযাপন, যোগাযোগ, চিন্তাভাবনা ও সামাজিক আচরণে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। প্রযুক্তি যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, তেমনি সৃষ্টি করেছে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কার্যকর ও সময়োপযোগী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা এখন জরুরি।
তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব আইন, বিধি, প্রবিধান ও নীতিমালা পর্যালোচনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কোন আইন সংশোধন প্রয়োজন, কোথায় নতুন আইন দরকার এবং কোন ক্ষেত্রে আইনি ঘাটতি রয়েছে—এসব বিষয় চিহ্নিত করে দ্রুত সুপারিশ দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূলত প্রিন্ট ও সম্প্রচারমাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইনভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক বিস্তারের ফলে নতুন অনেক মাধ্যম তৈরি হয়েছে, যেগুলোর অনেকই বিদ্যমান আইনের আওতার বাইরে। তাই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনি কাঠামো আধুনিকায়নের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে। বাংলাদেশের জন্য উপযোগী আইন প্রণয়নে এসব দেশের অভিজ্ঞতা ও আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সাইবার জগৎ, ডিজিটাল ট্রান্সমিশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবাকে কার্যকর আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, টেলিযোগাযোগ খাত এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা, দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্র নির্ধারণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী প্যানেলের সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



















